প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

দেশবাসীর দৃষ্টি যে সংবাদ সম্মেলনের প্রতি

মঞ্জুরুল আলম পান্না : সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আর কয়েক ঘন্টার মধ্যে সংবাদ সম্মেলন করতে যাচ্ছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর অন্যান্য সংবাদ সম্মেলনের চেয়ে এটির গুরুত্ব নিঃসন্দেহে অনেক বেশি, অনেকে এই সংবাদ সম্মেলন দেশের খুব গুরুত্বপূর্ণ সময়ে জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া সরকার প্রধানের ভাষণের মতোই তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন। সারাদেশের মানুষের দৃষ্টি এখন এই সংবাদ সম্মেলনের দিকে। কারণ, এখানেই প্রধানমন্ত্রী রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ পরবর্তী সিদ্ধান্তের কথা জানাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে গত দুই যুগ ধরে কোনো সংলাপ সফল না হওয়ার তিক্ত অভিজ্ঞতা থাকার পরও দেশবাসী এবারের সংলাপেরও দিকে তাকিয়ে ছিলেন একটা সুষ্ঠু সমাধানের আশায়। এ থেকে এ কথাই প্রমাণিত হয় যে, নির্বাচন নিয়ে একজন চায়ের দোকানদার-ঝাড়–দার থেকে শুরু করে সমাজের উপরওয়ালাদের প্রতিটি মানুষ দুশ্চিন্তার মধ্যে রয়েছেন, না জানি সামনের দিনগুলো কতোটা ভয়াবহ হয়ে ওঠে!

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রথমেই সবিনয়ে নিবেদন সংবাদ সম্মেলনের কিছু চাটুকার সাংবাদিকের স্বার্থান্বেষী কোনো প্রশ্ন বা মন্তব্য আপনি গ্রহণ করবেন না। চাটুকারেরা যে কতো বড় ভয়নক তা আপনার চেয়ে ভালো আর কে জানে! এই চাটুকারেরাই ছিল জাতির জনককে হত্যার অন্যতম ষড়যন্ত্রকারী। সব সরকারেরই অনেক ভালো কাজ যেমন থাকে, থাকে খারাপ কাজও। আপনার টানা দশ বছরের দেশ পরিচালনাও নিশ্চয় বিতর্কের উর্ধ্বে নয়। কিন্তু যুদ্ধাপরাধীদের বিচারসহ বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের বিচারের মধ্য দিয়ে এই মাটিকে অনেকখানি কলঙ্কমুক্ত করায় জাতি আপনাকে শ্রদ্ধাবনত চিত্তে স্মরণ করবে যতোদিন বাংলাদেশ থাকেবে। অবকাঠামোগত উন্নয়নের ধারায় নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতুর নির্মাণ আপনার রাষ্ট্রনায়কোচিত দৃঢ় মানসিকতারই বহিঃপ্রকাশ। জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি আপনার দেশপ্রেমের এক অনন্য নজির। তত্ত্বাবধায়ক সরকার মডেল প্রতিষ্ঠা করে সারা বিশ্বে আপনি প্রশংসা যেমন কুড়িয়েছিলেন, তেমনি এদেশের মানুষের ভাত আর ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিদার আপনি নিজেই। আপনি নিজেকে একজন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নয়, জাতির জনকের কন্যা হিসেবে পরিচয় দিতেই গর্ববোধ করেন, সে কথাও আমরা জানি। সেই জাতির জনকের কন্যার কাছে জাতির প্রত্যাশাটাও তাই একটু বেশি।

১৯৯৬ সালে সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনী প্রচারণায় আপনার জিজ্ঞাসা ছিল সাধারণ দেশবাসীর কাছে- ‘ভোট চুরি অপরাধ- নাকি ভোট ভিক্ষা করা অপরাধ?’ এর মধ্য দিয়ে আপনার বার্তাটি ছিল এই যে, ভোট চুরির চেয়ে ভোট ভিক্ষা অনেক ভালো এবং গর্বের। আপনার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা এবং দূরদর্শিতায় এই সংবাদ সম্মেলন থেকেই মানুষের ঘনঘোর অন্ধকারের অনিশ্চয়তা অনেকখানি কেটে যাবে বলে আমরা আশা করতে চাই। বিশ্বাস করতে চাই, দেশের মাটি এবং মানুষের প্রতি সেই কমিটমেন্ট কেবল প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বহমান বঙ্গবন্ধুর রক্তেই লুকিয়ে রয়েছে।

লেখক : সাংবাদিক

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ