প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

৪ দেশের ক্রান্তিকাল নিয়ে কানাডিয়া আরিফের ‘দ্য স্টর্ম’ উপন্যাস

ফেসবুক: বাংলাদেশি-কানাডিয়ান লেখক আরিফ আনোয়ারের লেখা ‘দ্য স্টর্ম’ উপন্যাসের খোঁজে লাইব্রেরিতে গিয়ে দেখি, লম্বা ওয়েটিং। দেরি হয়ে যাচ্ছে দেখে সপ্তাহখানেক আগে চ্যাপ্টারস থেকে সংগ্রহ করে পড়তে শুরু করি সাড়ে তিনশো পাতার বইটা। পড়া শেষ হলো আজই।

‘দ্য স্টর্মে’র কথা প্রথম জানতে পারি, এখানকার মূলধারার মিডিয়া থেকে। নিউইয়র্ক টাইমস থেকে শুরু করে সিবিসি বুকস সর্বত্র বইটি নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা চলে বের হবার পর পরই। বইটি এ বছরের মাঝামাঝি বের করে অত্যন্ত প্রেস্টিজিয়াস হারপার কলিন্স পাবলিকেশন্স। প্রতিশ্রুতিশীল লেখক হিসেবে এখানকার সাহিত্য জগতে বেশ আলোচনায় উঠে আসেন আরিফ, আরিফের কাজ ‘দ্য স্টর্ম।’ বলা হয়, তিনি – ‘immensely talented new voice in international fiction.’তাঁর ‘দ্য স্টর্ম’ এপিক হিসেবে, বিশ্বখ্যাত লেখক খালেদ হোসাইনির ‘দ্য কাইট রানার’ এবং রোহিনতন মিস্ত্রির ‘দ্য ফাইন ব্যালেন্সে’র ধারার লেখার মর্যাদা পায়। গুডরিডসে বইটির রেটিং এবং পাঠ প্রতিক্রিয়া অত্যন্ত ইম্প্রেসিভ।

বইটির গল্প জুড়ে আছে – ৪টি দেশ, ৫টি পরিবার, ৭টি দশক এবং একটি প্রাণঘাতী ঝড়।

এ উপন্যাসে এসেছে ১৯৪২ এর বার্মা, ১৯৪৬ এর ভারত, ১৯৭০ এর বাংলাদেশ, ২০০৪ এর যুক্তরাষ্ট্র; প্রতিটি দেশের ক্রান্তিকাল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন বৃটিশ অধিকৃত বার্মা, দেশভাগের প্রাক্কালে ভারত, জলোচ্ছ্বাসের সময়কার বাংলাদেশ এবং ১/১১ পরবর্তী ওয়ার অন টেরর চলাকালীন যুক্তরাষ্ট্র।

এসব দেশের, বিচিত্র ব্যাকগ্রাউন্ডের নানান চরিত্রকে আরিফ তাঁর ন্যারেশনে গেঁথেছেন। গল্পে পাই – দরিদ্র বাংলাদেশি জেলে জমির, তার স্ত্রী হনুফা ও তাদের ছোট সন্তান; পাই সচ্ছল ভারতীয় মুসলিম রহিমকে, যে তার স্ত্রী সহ দেশভাগের আগে আগে হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গায় কলকাতা ছেড়ে পূর্ববঙ্গে চলে যায়। পাই – ক্লেয়ার নামের এক বৃটিশ ডাক্তারকে, যে ধরা পড়া জাপানি পাইলট ইচিরোর চিকিৎসা করে। পাই মূল চরিত্র শাহরিয়ারকে, যার ভিসা শেষ হয়ে যাওয়ায় আমেরিকা ছাড়ার সময় হয়ে এলে নানান অন্তর্দ্বন্দ্ব শুরু হয়; পাই শাহরিয়ারের সন্তান আনা। আরো পাই অন্যান্য চরিত্র। আর সব কটি চরিত্রের, প্রোটাগনিস্ট শাহরিয়ারের জীবনের সাথে যোগসূত্র স্থাপন করানোর দুসাধ্য কাজটি যথেষ্ট দক্ষতার সাথে করেছেন আরিফ।

বইটির বিশাল ক্যানভাস জুড়ে ফুটে উঠেছে – কলোনিয়ানিজম, সাম্প্রদায়িক ইস্যু, মাইগ্রেশন, অভিবাসনের দ্বন্দ্ব-অভিঘাত, মানবিক সম্পর্কের টানাপোড়েন। সবমিলিয়ে এটি এক মহাকাব্যিক প্রয়াসই বটে।
বইটি পড়ে ভাল তো লেগেছে বটেই, সময় সময় গা কাঁটা দিয়েছে, শিহরিত হয়েছি। আর বাংলাদেশি হিসেবে গর্বিত হয়েছি আরিফ আনোয়ারকে নিয়ে।

বইটি সম্পর্কে মোটাদাগে ধারণা দিলেও, সবটুকু আজ আর বলছিনা। কারণ এই মাল্টিলেয়ার্ড উপন্যাসটি নিয়ে ‘পাঠশালা’র (টরন্টো ভিত্তিক সাহিত্য-শিল্পানুরাগীদের প্ল্যাটফর্ম) আগামী আসরে বলতে আসছেন লেখক আরিফ আনোয়ার স্বয়ং, ২২শে নভেম্বরে। তাঁর কাছ থেকেই না হয় সবাই মিলে শুনে নেব গল্পটা, সাথে জানব গল্পের পেছনের গল্পটাও। বন্ধুরা, আপনাদের সাথে আমিও রইলাম লেখক আরিফ আনোয়ারের কাছ থেকে ‘দ্য স্টর্মে’র কথা শোনার অপেক্ষায়…

(ফারহানা আজিম শিউল’র ফেসবুক থেকে নেওয়া)

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ