প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ভুয়া চাকরি নিয়ে কুয়েতে ৯ শতাধিক বাংলাদেশি

মানবজমিন : ভুয়া চাকরি নিয়ে কুয়েত গেছেন নয় শতাধিক বাংলাদেশি। এসব বাংলাদেশির তালিকা তৈরি করেছে কুয়েত সরকার। এরই মধ্যে দেশটির সরকারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও মিশরের দুই হাজার নয় শ’ জনকে গ্রেপ্তারের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এ অবস্থায় আতঙ্কিত প্রবাসী বাংলাদেশিরা। পাশাপাশি আদম পাচারের সঙ্গে জড়িত বাংলাদেশি সিন্ডিকেট কুয়েত ছাড়ছেন। মহাফাঁপরে পড়েছেন তারা। বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, সরকারের সঙ্গে চুক্তিভিত্তিক কাজের কথা বলে তিনটি ভুয়া প্রতিষ্ঠান দুই হাজার নয় শ’ বিভিন্ন দেশের নাগরিককে কুয়েতে নিয়ে যায়। এরপর তাদের জন্য কোনো চাকরির ব্যবস্থা না করেই ছেড়ে দেয়া হয়।

এমন তথ্য পেয়ে তালিকা তৈরি করে কুয়েত সরকার। এরই মধ্যে অবৈধ উপায়ে বা পাচার হয়ে কুয়েতে প্রবেশ করা বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের গ্রেপ্তার করে আটকাদেশ দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে গত কয়েক দিনে ৯০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে কুয়েতের আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। কুয়েতে চাকরির আশায় এরা সবাই ভুয়া প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রচুর অর্থ দেন। কুয়েতে আদম ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত এক ব্যবসায়ী সূত্রে জানা গেছে, কুয়েতে নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের বিপরীতে মানব পাচারের জাল বিস্তারের পেছনে এক সিরিয়ান মাস্টারমাইন্ড রয়েছে বলে মনে করা হয়। এখনই তার নাম-পরিচয় প্রকাশ করছে না কুয়েত সরকার। তবে সিরিয়ান ওই মাস্টারমাইন্ড বর্তমানে কুয়েত সরকারের হেফাজতে আছেন। ওই ব্যক্তিই তিনটি ভুয়া প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিশাল সংখ্যক শ্রমিক কুয়েতে এনেছে। তাদের কোনো কাজ না দিয়ে ছেড়ে দিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গেল মাসে কুয়েতের ডিরেক্টরেট জেনারেল অব রেসিডেন্স অ্যাফেয়ার্স আচমকা জিব আল-শুইয়ুখ পরিদর্শন করেন। সেখানেই অনুসন্ধান করতে গিয়ে আদম পাচারের ভয়াবহ তথ্য বেরিয়ে আসে। এরপর ওই জায়গা থেকেই বেশ কয়েকজন কর্মীকে আটক করা হয়। তাদের পাসপোর্ট ও রেসিড্যান্স পারমিটে স্ট্যাম্প করা প্রতিষ্ঠানের নাম দেখে কর্মকর্তার চোখ যেন কপালে ওঠে। কারণ ওই কোম্পানির সঙ্গে কুয়েত সরকারের চুক্তি রয়েছে। এ সময় আটক করা বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের জিজ্ঞেস করা হয়, তারা কেন কাজে যোগ দিচ্ছেন না। এর জবাবে তারা জানান, তাদের ভাগ্যে কোনো চাকরিই জোটেনি। যদিও কুয়েতে তাদের ভালো চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে আনা হয়েছে। এজন্য তারা প্রচুর অর্থ খরচ করেছেন। ডিরেক্টরেট জেনারেল অব রেসিডেন্স অ্যাফেয়ার্স বিষয়টি নিয়ে আরো অনুসন্ধান করতে শুরু করেন। অনুসন্ধান করে তিনি জানতে পারেন, ওই তিনটি কোম্পানি একই উপায়ে তিন হাজারের বেশি মানুষকে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে কুয়েত এনেছেন। এরপর বিষয়টি সম্পর্কে কুয়েত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করেন তিনি। এরপরই মানবপাচারের ভয়াবহ চিত্র বেরিয়ে আসে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও মিশর থেকে প্রায় তিন হাজার কর্মী আনা হয়েছে। এদের প্রত্যেকের কাছ থেকে ভিসার জন্য দেড় হাজার (দুই লাখ ৬৭ হাজার) থেকে তিন হাজার কুয়েতি দিনার (পাঁচ লাখ ৩৪ হাজার টাকা) পর্যন্ত নেয়া হয়েছে। এদিকে গ্রেপ্তার হওয়া ৯০ জন বিভিন্ন দেশের নাগরিকের মধ্যে বাংলাদেশিও রয়েছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজন মুক্তি পেয়ে দেশে ফেরার অপেক্ষায় আছেন। এদের মধ্যে একজন মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ির কায়নুল হোসেন মুঠোফোনে মানবজমিনকে বলেন, আদম পাচারকারীদের মিথ্যা কথায় ভালো বেতনের চাকরির আশায় কুয়েত গিয়েছিলাম। এখন জীবনটা শেষ হয়ে গেল।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত