প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ট্রাম্পকে কী বার্তা দিলেন ভোটাররা?

ডেস্ক রিপোর্ট : যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রার্থী না হয়েও আলোচনায় ছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রিপাবলিকান প্রার্থীদের পক্ষে প্রচারণা চালিয়ে সভা-সমাবেশ করেছেন পুরোদমে। শেষ পর্যন্ত ভোটের লড়াইয়ে ট্রাম্পের রিপাবলিকান শিবির প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছে ডেমোক্র্যাটদের কাছে। যদিও সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা আরও সংহত করতে পেরেছে ট্রাম্পের দল। ভোটের আগে বিভিন্ন পূর্বাভাসেও এমন ফল উঠে এসেছিল। তাই এই ফল একেবারে অপ্রত্যাশিত নয়। তবে আলোচনা চলছে অভিবাসন, আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণ, স্বাস্থ্যসেবা ইস্যুতে তরুণ ভোটারদের রায় কাদের পক্ষের গেছে। কারণ এই পর্যালোচনা থেকে আগামী ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সম্পর্কে প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস পাওয়া যাবে বলে ধারনা করা হচ্ছে।

ট্রাম্পের কাছে হিলারি ক্লিনটনের পরাজয়ের দুই বছর পর আবারও স্বপ্ন দেখার সাহস পাচ্ছে ডেমোক্র্যাটরা। এবার প্রতিনিধি পরিষদে জয় পেয়েছে তারা। শহর থেকে একটু দূরের এলাকাগুলোতে ডেমোক্র্যাটদের জনপ্রিয়তা বেশি। আর সেখানে ট্রাম্পের বক্তব্য ‘বিষাক্ত’ বলে বিবেচিত।

এছাড়া অনেক তরুণ ভোটারদেরও আকৃষ্ট করতে সক্ষম হয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। গত মধ্যবর্তী নির্বাচনের তুলনায় যা অনেক বেশি। সিএনএন এর রাজনীতি বিষয়ক বিশ্লেষক ভ্যান জোনস বলেন, ‘আমরা নতুন এক ডেমোক্র্যাটিক পার্টির শুরু দেখছি। আরও তরুণ, আরও বৃর্ষীয়ন, আরও নারী যারা মিশিগানে জিততে পারে, যারা পেনিসেলভেনিয়ায় জিততে পারে, যারা ওহাইওতে জিততে পারে।’ তিনি আরও বলেন, এটা হয়তো নীল উত্থান নয়, কিন্তু এটা রংধনুর উত্থান।

মঙ্গলবারের ভোটে মার্কিন নির্বাচনের ইতিহাসের ধারাই বহাল থাকার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। সর্বশেষ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হিলারি ক্লিনটন পপুলার ভোটে জিতেছিলেন কিন্তু ইলেক্টোরাল ভোটে হার মানেন। যেসব রাজ্যে রিপালিকান সমর্থক বেশি ছিল সেখানে নিজের জনপ্রিয়তা ধরে রেখেছেন ট্রাম্প। প্রায় সবগুলো রাজ্যেই ৫০ শতাংশের বেশি ইতিবাচক অবস্থান ছিল তার।

ভোটারদের এই অবস্থানে ট্রাম্প কী প্রতিক্রিয়া দেখাবেন তার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করছে। দুই বছর প্রেসিডেন্ট থাকা অবস্থায় প্রাতিষ্ঠানিক নৈরাজ্য তৈরি করে ফেলেছেন তিনি। বর্ণ, জাতিগত ও সাংস্কৃতিক বিভেদরেখা টেনেছেন। তার ব্যক্তিত্ব অনুযায়ী নিজের অবস্থান থেকে সরে আসার সম্ভাবনা নেই তার।

সমালোচকরা বলছেন, কলেজ শিক্ষার্থী ও নারী ভোটারদের মধ্যে ট্রাম্পের আচরণের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে। এতে করে তার পরবর্তী নির্বাচনে জয়লাভ অনেকটাই কঠিন।

হোয়াইট হাউসে পরিবারের সঙ্গে নৈশভোজ শেষে নির্বাচনের ফলাফল দেখছিলেন ট্রাম্প। এরপর তার সঙ্গে যোগ দেন রিপাবলিকানদের অর্থায়নকারী শেলডন আদেলসন, ব্ল্যাকস্টোনের প্রধান নির্বাহী স্টিফেন স্কোয়ারর্জম্যা ও প্রেসিডেন্টের নির্বাচনি প্রচারণার সহযোগীরা।

দুইটি সূত্র জানায়, ইতোমধ্যে এই হারের জন্য অবসরে যাওয়ার অপেক্ষায় থাকা স্পিকার পল রায়নকে দোষারোপ করছেন ট্রাম্প। তারা বলেন, ‘রায়ানের ওপর খুবই ক্ষুব্ধ তিনি।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ভোটের ফলে এই বার্তাই স্পষ্ট যে মার্কিন ভোটাররা ট্রাম্প প্রশাসনকে নজরদারি ও জবাবদিহিতার আওতায় রাখতে চান। প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের জয় এটাই ইঙ্গিত দিয়েছে। আর মার্কিন ভোটাররা যে ট্রাম্পের ওপর আস্থা এখনও হারাননি সেটারও প্রমাণ পাওয়া যায় সিনেটে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার মধ্যে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ