প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কুয়াকাটা সৈকতে অবৈধ স্থাপনা তোলার হিড়িক

নিনা আফরিন,পটুয়খালী : পর্যটন নগরী কুয়াকাটার সমুদ্র সৈকতে জেলা প্রশাসক ও উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে একটি প্রভাবশালী মহলের মদদে সরদার মার্কেট এবং সান রাইজ মার্কেটের নামে অবৈধ স্থাপনা তোলার হিড়িক পড়েছে। এসব অবৈধ স্থাপনা তোলার কারণে সৈকতে পর্যটকদের অবাধ চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে। অপর দিকে এসব স্থাপনা তোলায় সৈকতের পরিবেশের উপর বিরুপ প্রভাব পড়ছে। যে যার ইচ্ছেমত তুলছে এসব অবৈধ স্থাপনা। জেলা পরিষদ ডাক বাংলোর সামনে এবং সৈকতের জিরো পয়েন্টে এসব ঘর তুলে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কাছে ভাড়া দেওয়া হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে সাদা বালুতে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কাছ থেকেও সান রাইজ কর্তৃপক্ষ তার রেকর্ডীয় জমি দাবি করে প্রায় অর্ধশতাধিক দোকান থেকে ভাড়া আদায় করছেন। এসব ভাড়া আদায় নিয়ে সান রাইজ কর্তৃপক্ষ এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়িদের মাঝে প্রতিনিয়ত বাকবিতন্ডা হচ্ছে। প্রশাসনের চোখের সামনে এসব অবৈধ স্থাপনা তোলা হলেও রহস্যজনক কারনে তারা নিরব রয়েছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, সৈকতে নামতে সড়কের পশ্চিম পার্শ্বে সরদার মার্কেট কর্তৃপক্ষ এক অংশ পূর্বের টিনসেট ঘর ভেঙ্গে ২ ইঞ্চি এ্যাঙ্গেল দিয়ে ১৬ ফুট উঁচু করে ঝুকিঁপূর্ণ ভাবে তৈরি করছে বিশাল দোতালা এই স্থাপনা। যেখানে থাকছে নিচে র্মাকেট উপরে রেষ্টুরেন্ট ও আবাসিক হোটেল। সামান্য বাতাস এলেই যা ধ্বসে পড়ে দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে বলে ব্যবসায়ীদের অভিযোগ। অন্যদিকে সানরাইজ কর্তৃপক্ষও কাঠের একাধিক নতুন ঘর তুলছেন কোন বাধা ছাড়াই। এসব ঘর তুলতে স্থানীয় প্রভাবশালী একটি পক্ষ সহায়তা করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা প্রতিদিন সৈকতে আসা যাওয়া করলেও এসব অবৈধ স্থাপণা তোলার দৃশ্য তাদের নজরে আসছে না।

এদিকে সৈকতে এসব অবৈধ স্থাপনা তোলা নিয়ে গত কয়েক বছর ধরে গনমাধ্যমে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশের পর পরিবেশ বাদী সংগঠন বেলা উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন দাখিল করার পর বিজ্ঞ আদালত সন্তুষ্ট হয়ে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক, ইউএনও, এসি ল্যান্ড কলাপাড়া সহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের রিট পিটিশনটি নিস্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কুয়াকাটায় পাউবো’র বেড়ি বাঁধের বাইরে লেম্বুর চর থেকে কাউয়ার চর পর্যন্ত সকল ধরনের স্থাপনা তোলার উপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন।

সরদার মার্কেটের সভাপতি মোঃ মাসুদ জানান, টিনের নরবড়ে ঘর তুলে তাদের কাছে ভাড়া দেয়া হচ্ছে। এর উপর আবার এ্যাংগেল দিয়ে দোতালা ঘর তুলে খাবার হোটেল ও আবাসিক হোটেল তোলা হচ্ছে। এ ঘর খুবই ঝুকিঁপুর্ণ। মালিককে বলার পরও কর্ণপাত করছেন না তারা।

কুয়াকাটা শুঁটকি ব্যবসায়ী আব্বাস কাজী বলেন, সরদার মার্কেট ও সানরাইজ কর্তৃপক্ষ সরকারী জমিতে অবৈধ ভাবে ঘর তুলে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। অন্যদিকে সৈকতের সাদাবালিতে ক্ষুদ্র ব্যবসায়িদের কাজ থেকে জোর করে ভাড়া আদায় করছেন। ভাড়া না দিতে চাইলে পুলিশ দিয়ে হয়রানী করছেন।

সরদার মার্কেটের মালিক সাজেদুল আলম সাজু জানান, তারা অবৈধভাবে ঘর তুলছেন না। তাদের জমিতে ঘর নির্মাণ করতে পারবেন; আদালতের এমন নির্দেশনা মেনেই তারা ঘর তুলছেন।

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তানভীর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, বিষয়টি তার জানা নেই। অবৈধ ভাবে কেউ স্থাপনা নির্মাণ করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।