প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

নির্বাচনী পোস্টারে সয়লাব রাজধানী

শাকিল আহমেদ: আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজধানীতে চলছে নির্বাচনী প্রচারণা। পুরো নগরী ছেয়ে গেছে ব্যানার, ফেস্টুন ও পোস্টারে। এতে একদিকে যেমন শহর নোংড়া হচ্ছে তেমনি নির্বাচনী আচারণবিধিও লঙ্ঘন হচ্ছে। তাই এর দায় সিটি কর্পোরেশন এড়াতে পারে না বলে মনে করেন নগর বিশেজ্ঞরা।

নগর পরিকল্পনাবিদ স্থপতি ইকবাল হাবীব বলেন, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে পোস্টার লাগানোর মানে আচারণবিধি লঙ্ঘন করা। পোস্টার না লাগাতে নির্বাচন কমিশন থেকে নোটিশ দেয়া হয়েছে। এমনকি প্রধানমন্ত্রীও এবিষয়ে নির্দেশ দিয়েছে তারপরও তারা শহরটাকে নোংরা করছে। দক্ষিণের মেয়র সাঈদ খোকন চাইলে এবিষয়ে ব্যবস্থা নিতে পারে হয়তো দলীয় কারনে তিনি নিচ্ছেনা। তারা নির্বাচন কমিশনের দিকে তাকিয়ে আছে। তফসিল ঘোষণা না হলে কিংবা নির্বাচনের পরে কি তারা কোন ব্যবস্থা নিবেনা? এটাতো সিটি করপোরেশনের দৈনন্দিন কাজ। এদিকে উত্তরের প্যানেল মেয়র একজন কাউন্সিলর সে কিভাবে এমপিদের পোস্টার অপসারন করবে?

বৃহস্পতিবার আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবে নির্বাচন কমিশন। ঢাকাসহ সারাদেশে বইছে নির্বাচনী আমেজ। মনোনয়ন পেতে দৌড়ঝাপ শুরু করছে দলীয় প্রার্থীরা। নিজেদের অস্তিত্বের জানানা দিতে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমসহ বিভিন্ন ব্যানার, ফেস্টুন ও পোস্টার লাগিয়ে প্রচারনায় ব্যস্ত সময় পার করছে দলীয় নেতাকর্মীরা। এছাড়া ঢাকা বিভাগীয় নির্বাচনী আসন গুলোতে সরকারের নানা উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরে প্রচার চালাচ্ছে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা। তবে এই প্রচারনায় একেবাইরে অনুপস্থিত বিএনপি বা অন্য রাজনৈতিক দলগুলো।

রাজধানীতে ঘুরে দেখা গেছে, ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণ দুই সিটিতেই পুরোদমে চলছে নির্বাচনী প্রচারণা। যতদুর চোখ যায় ততদুরই পোস্টার ও ব্যানার দেখা যায়। ছোট,বড় ও মধ্যম সারির নেতা, ওয়ার্ডের নেতা, শ্রমিক নেতাসহ সবাই নেতাদের মন জয় করতে ভোট এবং দোয়া চেয়ে পোস্টার লাগিয়েছে। ব্যনারে ঝুলিয়েছে নিজের নামসহ সমর্থিত নেতার ছবি। এর মধ্যে রয়েছে সাবেক ও বর্তমান এমপি এবং সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলরসহ মনোনয়ন প্রত্যাশী অনেক নতুন মুখ। রাজধানীর ফ্লাইওভার, ফুট ওভারব্রিজ, বিদ্যুতের খুটি, বাসা-বাড়ীর দেয়ালসহ কোন যায়গাই যেন বাদ যায়নি পোস্টার ও ব্যানারে। কোথাও যেন তিল ঠাই নাই একটির উপর আর একটি পোস্টার লাগাচ্ছে কর্মী ও সমর্থকরা। রোড ডিভাইডারে গাছের সাথে এমনকি গণপরিবহনেও পোস্টার লাগিয়ে চলছে প্রচারনা। এতে করে খুব সহজেই সৌর্ন্দয্য হারাচ্ছে মহানগরী। সরকার দলীয় পোষ্টার হওয়ায় কার্যকর কোন পদক্ষেপ নিতে পারছে না সিটি করপোরেশন। অনেকটাই নিরব দর্শকের ভুমিকা পালন করছে দুই সিটি।

জানতে চাইল ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্যানেল মেয়র মো. জামাল মোস্তফা বলেন, রাজনৈতিক ব্যানার, বিলবোর্ড ও পোস্টার অপসারণে পুলিশ ফোর্স দরকার যা আমরা পাই না। এর আগে নেতাদেরকে আমরা পোষ্টার না লাগানোর জন্য ফোন করেছি। অনেকগুলো উচ্ছেদও করেছি কিন্তু কাজ হয়না। তাই বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণার পর এবিষয়ে যৌথ ভাবে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এবিষয়ে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়রকে ফোন করে পাওয়া যায়নি। তবে ডিএসসিসির অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলি (বর্জ্য) মো. মিল্লাতুল ইসলাম বলেন, আমরা প্রতিদিনই বিলবোর্ড, ব্যানার, ফেস্টুন অপসারণ করছি এবং মামলা দিচ্ছি। কিন্তু রাজনৈতিক পোস্টার উঠানো সম্ভব নয়, এবিষয়ে প্রশাসনের সাহায্য দরকার। তাদের সাথে আলাপ করতে হবে।

সম্পাদনা-শাহীন চৌধুরী

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ