প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

দি মার্কেন্টাইল কো-অপারেটিভ অবৈধ ব্যাংকিং বন্ধের নির্দেশ

রমজান আলী : দি মার্কেন্টাইল কো-অপারেটিভ ব্যাংক লিমিটেডকে অবৈধ ব্যাংকিং ব্যবসা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। মাত্র তিন কোটি টাকার শেয়ার মূলধনের বিপরীতে হাজার কোটি টাকার আগ্রাসী আমানত সংগ্রহের চিত্র উঠে এসেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদন্তে।

এর আগে প্রতিষ্ঠানটির কাছে চিঠি দিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জবাব চাইলেও সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারেনি। কেন্দ্রীয় ব্যাংক ১১ অক্টোবর সব ধরনের ব্যাংকিং কার্যক্রম বন্ধ করতে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যানের কাছে চিঠি দেয়। জানা গেছে, সমবায় সমিতির কার্যক্রম চালানোর লক্ষ্যে গঠন করা হয় দি মার্কেন্টাইল কো-অপারেটিভ ব্যাংক লিমিটেড। কিন্তু সমবায়ের আড়ালে অবৈধ ব্যাংকিং কার্যক্রম চালাচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে জঙ্গি অর্থায়নের অভিযোগও রয়েছে। পাশাপাশি উচ্চ মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে সারা দেশে ১২০টি শাখার মাধ্যমে দেড় লাখ গ্রাহক থেকে আমানত সংগ্রহ করেছে।
তাই প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিবকে চিঠি দিয়েছে।

এর আগে প্রতিষ্ঠানটির অবৈধ ব্যাংকিং কার্যক্রম বন্ধে করণীয় নির্ধারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ২০১৬ সালের ৩ এপ্রিল প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় সভা করে। সভায় বাংলাদেশ সিকিউরিটি অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন, যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মগুলোর নিবন্ধন কার্যালয়, বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ, মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি, সমবায় অধিদফতর, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।

দেখা গেছে, প্রতিষ্ঠানটি সমবায় অধিদফতর থেকে ১৯৭৩ সালে ‘দি বেঙ্গল কো-অপারেটিভ সোসাইটি অ্যাক্ট-১৯৪০’এর বিধান অনুযায়ী সমবায় প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিবন্ধন নিয়েছে। এটি বাংলাদেশ ব্যাংক বা ব্যাংক কোম্পানি আইন-১৯৯১ অনুযায়ী কোনো ব্যাংক কিংবা আর্থিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিবন্ধিত নয়। এর আগে সর্বপ্রথম ১৯৮৯ সালে সমবায় অধিদফতর থেকে এই প্রতিষ্ঠানের নামের শেষে ব্যাংক শব্দ ব্যবহার না করার নির্দেশ দেয়া হয়।

কিন্তু কোনো তোয়াক্কা করা হয়নি। জানা গেছে, অবৈধ ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে গত ১৫ বছরে প্রতিষ্ঠানটি আমানত সংগ্রহ করেছে সাড়ে ৯০০ কোটি টাকার ওপর। প্রায় দুই লাখ গ্রাহক রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে গ্রাহকদের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে একধরনের অনিশ্চয়তা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আইনজীবী আজমালুল হক কিউসি বলেছেন, প্রতিষ্ঠানটির বৈধ সমবায় কার্যক্রম অব্যাহত রেখে অবৈধ ব্যাংকিং কার্যক্রম বন্ধে বাংলাদেশ ব্যাংক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত