প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বিএনপির ছদ্মবেশী চাদরখানা আরেকটু মোটা হলো

মোহাম্মদ আলী শিকদার : তর্জন-গর্জনে ঐক্যফ্রন্ট অনেক সরব হলেও বর্ষণ শেষ পর্যন্ত কতটুকু হবে তা নিয়ে শুরু থেকেই মানুষের মনে প্রবল সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে। আপাতদৃষ্টিতে মনে হয় তেলে-জলে মিলে বোধহয় বিরাট নতুন কিছু হয়ে গেলো। বাস্তবে কিন্তু তা নয়। ঐক্যফ্রন্টের নামে আজ যারা একমঞ্চে উঠেছেন, এর মধ্যে বিএনপি ছাড়া অন্য কারও সংগঠন, জনসংযোগ ও জনসমর্থন বলতে যা বোঝায় তার কিছুই নেই। বিএনপি ছাড়া  অন্য যারা এখানে আছেন মিডিয়া যদি তাদের কাভারেজ না দিতো তাহলে দেশের মানুষ তাদের চিনতো না। ভোটের বাজারে শূন্য এবং মুক্তিযুদ্ধের সময়েও বঙ্গবন্ধু হত্যাকা- প্রসঙ্গে যার ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ, এমন নেতা ড. কামাল হোসেনের কাছে বড় ভোট ব্যাংক সম্পন্ন দল বিএনপি যখন ধরনা দেয় এবং সারেন্ডার করে, তখন বুঝতে হবে এর মধ্যে ভয়ানক গলদ আছে।

এটা মোটেও স্বাভাবিক ঘটনা নয়। সেজন্যই মানুষ বলছে, এটা হলো জগাখিচুড়ির ঐক্যফ্রন্ট। এদের আসল উদ্দেশ্য নির্বাচন ও তাতে জয় লাভ করা নয়। এখানে যারা মিলিত হয়েছেন তাদের সকলের কমন লক্ষ্য হলো শেখ হাসিনা বিদ্বেষ। কারণ, শেখ হাসিনা দেশের মানুষের কাছে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যে উচ্চতায় উঠেছেন তাতে তিনি যতোদিন রাজনীতিতে আছেন ততোদিন উনাদের সকলের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ শূন্য। আর রিজার্ভ ভোটব্যাংক থাকলেও নির্বাচনে ফল নির্ধারক দল নিরপেক্ষ সাধারণ ভোটারদের কাছে বিএনপির যে জায়াগ ছিলো তা এতোদিনে হারিয়ে ফেলেছে আত্মঘাতী রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ও কর্মকা-ের কারণে এবং সময়ের সঙ্গে তাল মিলাতে ব্যর্থ হওয়ায়। সম্প্রতি হাইকোর্ট একটি আদেশ জারি করেছেন, দুর্নীতির দায়ে সাজাপ্রাপ্ত বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান, দুজনের কেউই বিএনপির নেতৃত্বে থাকতে পারবেন বলে মনে হয় না। যদিও হাইকোর্টেও আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ বিএনপি পাবে।

আসল কথা হলো ১৯৭৮ সাল থেকে আজ ৪০ বছর মুক্তিযুদ্ধের আদর্শবিরোধী শুধু নয়, মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ সম্বলিত রাজনীতিকে ধ্বংস করার রাজনীতি করে আসছে বিএনপি। আসলে এর পরিণতিতেই বিএনপি এখন এই সময়ে এসে পুরোপুরি অস্তিত্বের সংকটে পড়ে গেছে। প্রমাণিত হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শবিরোধী রাজনীতি বাংলাদেশে চলবে না। তরুণ প্রজন্ম তা গ্রহণ করবে না। মুক্তিযোদ্ধা বীর উত্তম জিয়াউর রহমানের ছদ্মবেশে এতোদিন বিএনপি যা করেছে তার মুখোশ তরুণ প্রজন্মের কাছে উন্মোচিত হয়ে গেছে। তরুণ প্রজন্ম বুঝতে পেরেছে মুক্তিযোদ্ধা বীর উত্তম জিয়াউর রহমান রাজনীতিতে যা কিছু করেছেন তা তো একাত্তরের পরাজিত শক্তি পাকিস্তান এবং এ দেশে তাদের প্রতিনিধিত্বকারী জামায়াতের কাজ।

৪০ বছর বিএনপির রাজনৈতিক কর্মকা- ও পদক্ষেপ বিশ্লেষণ করলে সকলেই বলবেন স্বাধীন বাংলাদেশে ফ্রেশভাবে জন্ম নেওয়া একটি রাজনৈতিক দলের কর্মকা- এসব হতে পারে না। মুক্তিযোদ্ধা বীর উত্তম খেতাবধারী জিয়াউর রহমানের হাত ধরে উপরোক্ত মুক্তিযুদ্ধ আদর্শবিরোধী কাজগুলো হয়েছে বিধায় বিএনপিসহ তথাকথিত নিরপেক্ষগণ বলার চেষ্টা করেছেন, বিএনপিও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের দল। কিন্তু কথায় আছে, ‘বৃক্ষ তোমার নাম কী ফলে পরিচয়’। বিএনপির কর্মকা-ই প্রমাণ করে জামায়াতের কাজগুলোই ছদ্মবেশে বিএনপি করে দিয়েছে। সুতরাং জামায়াত ও বিএনপির মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। এই বিএনপির সঙ্গে এখন এক কাতারে বসার ঘোষণা দিলেন বীর উত্তম বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী , ঐক্যফ্রন্টের ছদ্মবেশে। তাই বলা যায় এতে বিএনপির ছদ্মবেশী চাদরখানা আরেকটু মোটা হলো। এ ছাড়া অন্য কোনো পার্থক্য এতে হবে না। এতোদিনে বাংলাদেশের মানুষ সকলেই চিনে ফেলেছে।

লেখক : রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ