প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কী হতে যাচ্ছে আজ?

বিভুরঞ্জন সরকার : আজ ৭ নভেম্বর রাজনীতিসচেতন সবার চোখ থাকবে গণভবনের দিকে। সকাল সাড়ে ১১টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দ্বিতীয় দফায় সংক্ষিপ্ত পরিসরে আলোচনায় বসবেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতৃবৃন্দ। বিএনপির একজন নেতা ৫ নভেম্বর বলেছেন, ৭ নভেম্বর থেকে নাকি দেশ চলবে ঐক্যফ্রন্টের নির্দেশে। তাহলে কি আজ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঐক্যফ্রন্টের সাত দফা দাবি মেনে নেবেন? ড. কামাল ‘এক মিনিটের মধ্যে’ সমস্যা সমাধানের পথ বাতলে দেবেন আর শেখ হাসিনা টোপলাটুপলি গুটিয়ে গণভবন ছেড়ে সুধা সদনে গিয়ে উঠবেন?

না, এতো দুর্বল অবস্থানে যেমন সরকার এবং আওয়ামী লীগ নেই, তেমনি কামাল হোসেনের নেতৃত্বে বিএনপিও অতোটা সবল অবস্থায় নেই।

সরকার পদত্যাগ করবে না। ঐক্যফ্রন্টও তাদের এই দাবি থেকে সরে এসে শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচনে যেতে রাজি। তবে তারা এখন চায় : সংসদ ভেঙে দেয়া, খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং নির্বাচনকালীন সরকারে ঐক্যফ্রন্টের অংশগ্রহণ। এই তিনটির যেকোনো একটি মেনে নিলেই বিএনপি তথা ঐক্যফ্রন্ট খুশি মনে নির্বাচনে যাবে। কিন্তু সরকার কি তাদের খুশি করতে চাইবে? বিএনপি বিজয়ীর বেশে নির্বাচনে যেতে চায়। সরকার সে সুযোগ দিতে চায় না। সরকারের মনোভাবে এক্ষেত্রে কোনো পরিবর্তন এসেছে বলে কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য নেই।

শেখ হাসিনা একটি চমক দেখাতে পারেন বলে অনেকে মনে করছেন। কী হতে পারে সেই চমক? খালেদা জিয়ার জামিন অথবা প্যারোলে মুক্তি? নাকি কেউ ভাবছেন না এমন কিছু? শেখ হাসিনার মনে কি আছে তা অন্য কারো জানা সম্ভব নয়। তিনি যে আলোচনায় বসবেন সেটা কি আগে কেউ ভাবতে পেরেছিলেন?

কারো কাছেই খুব বেশি বিকল্প নেই। সাধ্য ও সামর্থ হিসেবে রেখেই দরকষাকষি করা দরকার। দায়িত্বহীন ব্যক্তিরা উস্কানিমূলক কথা বলতে পারেন, মন গড়া হুমকি দিতে পারেন, দশ দিনের মধ্যে দেশে বিরাট পরিবর্তন হবে বলে হাত তালি নিয়ে দশ দিন পর লজ্জার মাথা খেয়ে নতুন কথা বলতে পারেন কিন্তু দায়িত্বশীল রাজনৈতিক নেতা হিসাব-নিকাশ ছাড়া কথা বলতে পারেন না। তাই মির্জা ফখরুলের বক্তব্য আর রিজভীর বক্তব্য একরকম হয় না।

এখন কী হতে পারে আজকের আলোচনায়? কোন পক্ষের ঝুলিতে কী থাকছে? খালেদা জিয়া কি চিকিৎসার জন্য বিদেশ যেতে রাজি হবেন? তিনি রাজি হলে একটি পথ বের হলেও হতে পারে।

তিনি যদি দেশে থেকে নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিতে চান তাহলে সেটা তার জন্য শারীরিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে বিবেচনা করে সরকার সে পথে হাঁটতে নাও পারে। সরকার নিশ্চয়ই নিজেদের অভিযুক্ত করার সুযোগ বিএনপিকে দেবে না।

নির্বাচনকালীন সরকারে ঐক্যফ্রন্টের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার দাবি সরকার সংবিধানের আওতায়ই পূরণ করতে পারে। টেকনোক্র্যাট কোটায় দু-চারজন মন্ত্রী নেয়ার কথা সরকার পক্ষ বিবেচনা করতে পারে। তবে হুমকি দিয়ে, সময় বেঁধে দিয়ে শেখ হাসিনার সরকারের কাছ থেকে দাবি আদায় করা যাবে বলে যারা মনে করছেন তারা শেখ হাসিনার রাজনৈতিক মনোজগতের ধারেকাছেও পৌঁছতে পারেননি।

৮ নভেম্বর নির্বাচনের সিডিউল ঘোষণা হলে বুঝতে হবে নির্বাচনী ট্রেন ঠিক সময়ে স্টেশন ছাড়বে। কেউ প্ল্যাটফরমে বসে থাকবে নাকি গন্তব্যের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করবে, সেটা তার ব্যাপার। সম্পাদনা : আলমগীর

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ