প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মেজাজটা খারাপ হয়ে গেলো

শিমুল সালাহউদ্দিন : দেশের গুরুত্বপূর্ণ তিন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সুযোগ পাওয়া তিনজনের সাথে কথা হলো আজ, কাকতালীয়ভাবে, একসাথেই। জানলাম, বলা ভালো, জেনে মর্মাহত হলাম, রসায়ন, ফলিত পদার্থবিদ্যা ও বায়োটেকনোলজির মতো বিষয়ে সুযোগ পাওয়ার পরও তাদের জীবনের লক্ষ্য বিসিএস ক্যাডার হওয়া।

যাদের জীবনের একমাত্র লক্ষ্য বিসিএস ক্যাডার হওয়া, তাদের উচিতই নয় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে এর মহাগুরুত্বপূর্ণ একটিও আসন নষ্ট করা।

আমার অনেক বন্ধুরা বিসিএস ক্যাডার, কিন্তু এই মাথা ছুঁয়ে বলি, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে তাদের দেখলেই আমার রাগ লাগতো, পিত্তি জ্বলে যেতো। তারা ডিপার্টমেন্টের বইয়ের নিচে রেখে পড়তো ক্লাসে অফির্সাস বিসিএস, প্রফেসরস বিসিএস গাইড এইসব। আমার মনে হতো, আরে দুবছরে ডিগ্রি পাস করে ফেলে, বিসিএস দিয়ে দিলেই তো হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছয় বছর নষ্ট করার দরকারটা কী?

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হবে তারা, যাদের আছে নতুনের স্বপ্ন। নতুন গবেষণার, নতুন আবিষ্কারের, নতুন আনন্দের, নতুন অনুধাবনের, নতুন প্রেমের, নতুন আন্দোলনের স্বপ্ন।

দেশটাকে অনেক নতুনে ভরে দেবার স্বপ্ন যাদের তারা আসবে বিশ্ববিদ্যালয়ে। এসে চুটিয়ে আড্ডা দেবে, ক্লাসে শিক্ষকদের সাথে তর্ক করবে, সেই তর্ক টেনে নিয়ে যাবে চা-খানায়, তারপর হলের কমনরুমে, হলের গেমসরুমে, ছাদে, লাইব্রেরি হয়ে প্রয়োজনে তার পরদিনের ক্লাসে আবার পৌঁছে যাবে সেই তর্ক।

আড্ডা দিতে দিতে তারা নাওয়া-খাওয়া ভুলে যাবে, আড্ডা দিতে দিতে দিতে তারা আন্দোলনের গান ধরবে, জীবনের গান ধরবে, মানুষকে বাঁচাতে শিখবে।

সদ্য ইন্টারমিডিয়েট পাশ করা ছেলেমেয়েরা যখন বিসিএস ক্যাডার হতে চায় বলে মত দেয়, আমার ইচ্ছে করে সাইলেন্সার লাগানো কালাশনিকভ নিয়ে একটা গোপন কিলিং মিশনে নেমে এদের বাবা-মাসহ ধরে ধরে মেরে ফেলি।

টাকা বানানোর মেশিন আর এমন মেশিন যে বাবা-মারা বানাতে চান, তাদের কী আদতেই কোন দরকার আছে বাংলাদেশের? লেখক : সাংবাদিক। ফেসবুক থেকে। সম্পাদনা : রেআ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ