প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সাহাবায়ে কিরামদের মর্যাদা

এহছানুল হক মোজাদ্দেদী : আরবি ‘সুহবত’ শব্দ থেকে ‘সাহাবি’ শব্দটি এসেছে। আভিধানিক অর্থ সঙ্গী, সাথী, সহচর, একসঙ্গে জীবনযাপনকারী অথবা সাহচর্যে অবস্থানকারী। ইসলামী পরিভাষায় ‘সাহাবা’ শব্দটি দ্বারা রসুলুল্লাহ (সা.)-এর মহান সঙ্গী-সাথীদের বোঝায়। আল্লামা ইবনে হাজার আসকালানি (রহ.) ‘আল-ইসাবা ফী তাময়ীযিস সাহাবা’ গ্রন্থে সাহাবির পরিচয় দিতে গিয়ে বলেন, ‘সাহাবি সেই ব্যক্তি যিনি রসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি ঈমান সহকারে তাঁর সাক্ষাৎ লাভ করেছেন এবং ইসলামের ওপর ইন্তেকাল করেছেন।’

সাহাবিরা সত্য ও ন্যায়ের মাপকাঠি। একেক সাহাবি আকাশের একেকটি তারকার সমতুল্য। তাদের পরস্পরের মধ্যে মর্যাদার হিসাবে স্তরভেদ থাকতে পারে, কিন্তু পরবর্তী যুগের এমন কোনো মুসলমানই, তিনি যত বড় জ্ঞানী, গুণী ও সাধক হোন না কেন কেউই একজন সাহাবির সমান মর্যাদা লাভ করতে পারবেন না। এ ব্যাপারে পবিত্র কোরআন, সুন্নাহ এবং ইজমা একমত। স্মরণীয় যে, সাহাবিরাই রসুল (সা.) ও তাঁর উম্মতের মধ্যে প্রথম মধ্যসূত্র। পরবর্তী উম্মত আল্লাহর কালাম পবিত্র কোরআন, কোরআনের ব্যাখ্যা, আল্লাহর রসুলের পরিচয়, তার শিক্ষা, আদর্শ, মোট কথা দ্বীনের সবকিছুই একমাত্র তাদেরই সূত্রে, তাদেরই মাধ্যমে জানতে পেরেছেন।

কোনো কোনো সাহাবিকে জীবদ্দশায় রসুল (সা.) জান্নাতের সুসংবাদ দিয়েছেন। তবে মুসলিম আলেমরা সাহাবিদের সবাইকেই জান্নাতি বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন। ইবনে হাজার ‘আলইসাবা’ গ্রন্থে স্পেনের ইমাম ইবনে হাযমের মন্তব্য উদ্ধৃত করেছেন। তিনি বলেন, ‘আস-সাহাবাতু কুল্লুহুম মিন আহলিল জান্নাতি কাতআন।’ অর্থাৎ ‘সাহাবিদের সবাই নিশ্চিতভাবে জান্নাতি।’ সাহাবিদের গালি দেওয়া বা হেয় প্রতিপন্ন করা কিংবা সমালোচনা করা সম্পূর্ণ হারাম। রসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আমার পরে তোমরা তাদের সমালোচনার লক্ষ্যে পরিণত কর না। তাদের যারা ভালোবাসে, আমার মুহাব্বতের খাতিরেই তারা ভালোবাসে, আর যারা তাদের হিংসা করে, আমার প্রতি হিংসার কারণেই তারা তা করে।’ (মিশকাতুল মাসাবিহ)। হজরত ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত- রসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যখন তোমরা ওইসব লোকদের দেখবে, যারা আমার সাহাবিদের গালমন্দ করে, তখন তোমরা বলবে, তোমাদের প্রতি আল্লাহ তায়ালার লানত, তোমাদের এ মন্দ আচরণের জন্য। (তিরমিজি)।

লেখক : গবেষক ও টিভি উপস্থাপক

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ