প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বিশ্বকাপ খেলা তারকাদের ছাপিয়ে আলো ছড়ালো আশরাফুল

স্পোর্টস ডেস্ক : এক ঝাঁক তারকা বসুন্ধরা কিংস ক্লাবে। বিশ্বকাপ খেলুড়ে কোস্টারিকান ড্যানিয়েল কলিনদ্রেস, ব্রাজিলের মার্কোস ভিনিসিয়াস, পিকে-ফেব্রিগ্রাসদের সঙ্গে খেলা জর্জ গোটর বা দেশি তারকা ফুটবলার ইমন বাবু, সুবজ, সুফিল, জনি, মতিন মিয়াদের নিয়ে বসুন্ধরা ক্লাব যেন একটা তারকা সমৃদ্ধ গ্যালাক্সি! কাগজে কলমে দেশের সবচেয়ে ব্যয়বহুল দলের বিপক্ষে যে নামবে তার অবস্থাটা কেমন হবে একবার ভাবুন।

সেটাও যদি পেশাদার ফুটবলে অল্প কিছুদিন আগে আসা নোফেল স্পোর্টিং ক্লাবের মতো দল হয় সেখানে নোয়াখালীর দলটির পক্ষে বাজি ধরার লোকের খোঁজ পাওয়া মুশকিল। একঝাঁক অপরিচিত ফুটবলার আর একজন বিদেশি কম নিয়েও ওই গ্যালাক্সিকে চমকে দিয়েছে জাতীয় ফুটবল দলের ফুটবলারহীন নোফেল স্পোর্টিং!

আর কলিনদ্রেস-মার্কোস-ইমনদের ছাপিয়ে যে খেলোয়াড়টি মাঠজুড়ে আলো ছড়িয়েছেন তার নাম খন্দকার আশরাফুল ইসলাম। পেশাদার ফুটবলে খুব একটা পরিচিত মুখ নন তিনি। চ্যাম্পিয়নশিপ থেকে উঠে আসা নোফেলের এই মধ্যভাগের ফুটবলার চমকে দিলেন পুরো জায়ান্ট ক্লাবকে। ম্যাচে নোফেলের হয়ে একমাত্র গোলটি আসে কুষ্টিয়ার এই ‘মেসি’র পা থেকেই।

বসুন্ধরার সঙ্গে ১-১ এ ড্র করা এই ম্যাচের সেরা খেলোয়াড়ের স্বীকৃতি পেয়েছেন আশরাফুল। ম্যাচজুড়ে বারবার বসুন্ধরার রক্ষণশিবিরে ত্রাশ সৃষ্টি করা ১৯ বছরের এই বিস্ময়বালক আলো ছড়িয়েছেন পুরো মাঠেই। রক্ষণ থেকে আক্রমণে গিয়েছেন। নাসির-গোটরদের পরীক্ষা নিয়েছেন দুর্দান্ত ড্রিবলিং দক্ষতায়। গোলের সুযোগও তৈরি করেছেন বেশ কয়েকবার। তবে, ফেডারেশ কাপ থেকে বিদায় নিয়েছে কামাল-বাবুর দল।

কুষ্টিয়ায় বড় হওয়া এই উদীয়মান ফুটবলার ম্যাচ সেরা হওয়ার অনুভূতি জানিয়েছেন সাংবাদিকদের। সঙ্গে ফুটবল নিয়ে তার ভবিষ্যত ভাবনাও জানিয়েছেন। আশরাফুল বলেন, ‘এতো বড় টিমের সঙ্গে ড্র করা বড় ব্যাপার। তার মধ্যে আমি ম্যাচ সেরার পুরস্কার পেয়েছি। জীবনের প্রথম বড় টুর্নামেন্টে এই পুরস্কার পেয়েছি। অনেক ভালো লাগছে।’

১৯ বছরের এই কুষ্টিয়ার ফুটবলার খেলতে চান জাতীয় দলে। সেজন্য কঠোর পরিশ্রম করতে ছাড় দিতে চান না পিতৃহীন এই ফুটবলার, ‘বাবা অনেক আগে মারা গেছেন। আমি তখন শিশু। তারপর থেকেই বড় ভাই খন্দকার শরিফুল ইসলাম আমাকে উদ্দীপনা দিচ্ছেন। উৎসাহ যুগিয়েছেন ফুটবল খেলতে। সেই ছোটবেলা থেকেই সহযোগিতা করছেন তিনি। আমি কুষ্টিয়া থেকে ওয়ারী ক্লাবে যোগ দেই চ্যাম্পিয়নশিপে। সেখান থেকে গতবছর নোফেলে যোগ দেই।’

ফেড কাপ থেকে ছিটকে গিয়েছে তার দল। সামনে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ বিপিএলে দুর্দান্ত খেলতে চান তিনি। জাতীয় দলে খেলার স্বপ্ন নিয়ে কঠোর পরিশ্রম করে যেতে চান। এদিকে জাতীয় দলের প্রধান কোচ জেমি ডেও প্রত্যেকটা ম্যাচ দেখছেন মাঠে বসে। লিগের প্রত্যেকটা ম্যাচ পর্যবেক্ষণ করে জাতীয় দল গঠন করতে চান। সেই সুযোগটা কাজে লাগাতে হবে আশরাফুলকেও। সারাবাংলা

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ