প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

৪মাসে রপ্তানি আয়ের প্রবৃদ্ধি ১৮ হাজার ২৪০ কোটি টাকা

ফয়সাল মেহেদী : দেশের রপ্তানিপণ্যের আয় বেড়েই চলছে। চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রথম চার মাসে (জুলাই-অক্টোবর) বিভিন্ন পণ্য রপ্তানি করে ১ লাখ ১৬ হাজার ৪০ কোটি ১৩ লাখ টাকার বৈদেশিক মুদ্রা আয় করেছে বাংলাদেশ।

প্রতি ডলার ৮৫ টাকা ধরে যা গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১৮ হাজার ২৪০ কোটি ৮৩ লাখ টাকা বা ১৮ দশমিক ৬৫ শতাংশ বেশি। আর ১ লাখ ৩ হাজার ৭৯ কোটি ৫০ লাখ টাকার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে রপ্তানি আয় বেড়েছে ১২ দশমিক ৫৭ শতাংশ।

মঙ্গলবার রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) প্রকাশিত পণ্য রপ্তানি আয়ের হালনাগাদ প্রতিবেদনের তথ্যমতে, চলতি অর্থবছরের অক্টোবরে রপ্তানি আয় হয় ৩১ হাজার ৫৪৫ কোটি টাকা। যা এর আগের অর্থবছরের একই মাসের তুলনায় ৩০ দশমিক ৫৩ শতাংশ বেশি।

আগের অর্থবছরের অক্টোবরে ২২ হাজার ৭৪৪ কোটি ৫৬ লাখ টাকার পণ্য রপ্তানি হয়েছিল। এদিকে চলতি অর্থবছরের অক্টোবরে রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ২৩ হাজার ৭৭৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা। এর বিপরীতে আলোচ্য মাসে রপ্তানি আয় অর্জন হয়েছে ৩২ দশমিক ৬৮ শতাংশ বেশি।

তথ্যানুযায়ী, রপ্তানি আয়ের প্রধান খাত তৈরি পোশাক রপ্তানিতে জুলাই থেকে অক্টোবরে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হয়েছে ১১ দশমিক ৫০ শতাংশ বেশি। এসময়ে ৮৬ হাজার ৩৯৯ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আয় হয়েছে ৯৬ হাজার ৩৩১ কোটি ৩৫ লাখ টাকা।

চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে যে পরিমাণ টাকার পোশাক রপ্তানি হয়েছে তা গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ২০ শতাংশের বেশি। গত ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রথম চার মাসে ৮০ হাজার ২২০ কোটি ৭০ লাখ ৫০ হাজার টাকার পোশাক রপ্তানি হয়েছিল।

এদিকে রপ্তানি আয়ের দ্বিতীয় শীর্ষ খাত চামড়া-চামড়াজাত পণ্যে রপ্তানি আয় আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১৯ দশমিক ৪৩ শতাংশ কমেছে। আর লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় এ খাত থেকে আয় কমেছে ১ দশমিক ২৩ শতাংশ।

তৃতীয় শীর্ষ খাত পাট ও পাটজাত পণ্য থেকে রপ্তানি আয় কমেছে ১৬ দশমিক ২৮ শতাংশ এবং লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আয় কমেছে ১৪ দশমিক ৩৮ শতাংশ। আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় হিমায়িত এবং জীবন্ত মাছ রপ্তানিতে আয় কমেছে ১৩ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ। এর মধ্যে হিমায়িত চিংড়ির রপ্তানিতেই কমেছে ২২ দশমিক ৫৫ শতাংশ আয়।

অন্যদিকে কৃষিপণ্য রপ্তানিতে ৮০ দশমিক ৩৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে কৃষিপণ্য থেকে রপ্তানি আয় হয়েছে ৩ হাজার ১১৫ কোটি ৫০ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এর আগের বছরের একই সময়ে এ খাত থেকে আয় হয়েছিল ১ হাজার ৭২৭ কোটি ২৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

আলোচ্য সময়ে এই খাত থেকে রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ১ হাজার ৮৭৯ কোটি ১৮ লাখ টাকা। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে কৃষিপণ্য থেকে রপ্তানি আয় হয়েছে ৬৫ দশমিক ৭৯ শতাংশ বেশি।

উল্লেখ্য, চলতি অর্থবছরে পণ্য রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ লাখ ৩১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। এর আগে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে পণ্য রপ্তানিতে আয় হয় ৩ লাখ ১১ হাজার ৬৭৯ কোটি ৪৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ