প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

‘এই মুহূর্তে সবার দাবি হওয়া উচিত নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’

আশিক রহমান : লেখক, গবেষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদ বলেছেন, সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক দল এই মুহূর্তে সবারই দাবি হওয়া উচিত নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড, যাতে সবার জন্য সমান সুযোগ তৈরি হয়। এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে তিনি আরও বলেন, বিএনপিকে তো বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির কথা বলতেই হবে। বিএনপির চেয়ারপারসনের মুক্তি তো অসম্ভব ব্যাপারও না। এর নানারকম ফরমুলা রয়েছে। তার জামিনের বিরোধিতা যদি সরকার পক্ষ না করে কিংবা প্যারোলে মুক্তির কথা উঠেছে, এটা আসলে সরকারের সদিচ্ছার ওপর নির্ভর করছে। এক প্রশ্নের জবাবে মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, দুই পক্ষই এখন অনেকটা সংযত ভাষায় কথাবার্তা বলছেন। এর মধ্যেও দুয়েকটি ব্যতিক্রম দেখি। কেউ কেউ চরমপন্থামূলক কথাবার্তাও বলছেন। কিন্তু দুই পক্ষেরই অতিউৎসাহী কিছু সমর্থক রয়েছেন, যারা উল্টোপাল্টা বলছেন। যেমন একজন তো বলেই দিলেন ড. কামাল হোসেন রাজাকার ছিলেন। এসব অনাকাক্সিক্ষত। একটি ভালো নির্বাচনের স্বার্থে দুই পক্ষ যতো কাছাকাছি আসতে পারবে ততোই মঙ্গল। কিন্তু দুই পক্ষকে দূরে সরিয়ে রেখে যাদের ফায়দা হবে, তারা কী করছে জানি না। তবে এটুকু বলতে পারি, এতে দেশের মঙ্গল হবে না। তিনি বলেন, আমরা সবাই ভালো একটি নির্বাচন প্রত্যাশা করছি। নির্বাচন ভালো হওয়ার জন্য আবশ্যিক যে শর্তগুলো নিয়ে রাজনৈতিক পক্ষগুলোর মতবিরোধ রয়েছে। এ ব্যাপারে একটা সমঝোতা বা ঐকমত্য না হলে ভালো নির্বাচন না হওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়। এখন পর্যন্ত সংলাপ যেভাবে এগোচ্ছে, তা কি নির্দিষ্ট কোনো চিত্রনাট্য ধরে এগোচ্ছে নাকি খোলা মনে তারা আলাপ-আলোচনা করছেন এ নিয়ে এখনই মন্তব্য করাটা খুব কঠিন।

তিনি আরও বলেন, সংলাপ হচ্ছে মূলত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন চৌদ্দদলের। সেখানে বিএনপি যদিও একটি বড় শরিক, তাদেরসঙ্গে সংলাপ আওয়ামী লীগ নেতারা এর আগে উড়িয়ে দিয়েছিলেন। এখন ঐক্যফ্রন্টের শরিক বিএনপি এবং তাদের প্রধান নেতারা ইতোমধ্যেই মানইনাস হয়ে গেছেন। সেখানে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন ঐক্যফ্রন্টকে মোটামুটি গ্রহণযোগ্য মনে হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। ড. কামাল হোসেনের ভূমিকা এখানে খুব গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে একটা বাফার হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারেন। কিছু কিছু ব্যাপারে আশাবাদ এখনো আছে।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে এই রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলেন, ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে দ্বিতীয়বার সংলাপে বসার চিঠি দেওয়া হয়েছে একটু ছোট পরিসরে। ছোট পরিসরে সংলাপ হলে সেটা অনেক বেশি গুরুত্ব পায়। ফোকাসড ডিসকাশনটা হয়। এতে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে আওয়ামী লীগ। আমরা আশা করছি, কিছুটা হলেও অনড় অবস্থান থেকে উভয় পক্ষ সরে আসবে এবং একটা সমঝোতা হবে। সেটা যদি না হয় তাহলে নির্বাচনকে ঘিরে নানারকম অনিশ্চয়তার আশঙ্কা থেকেই যাবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ