প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

হতশ্রী ব্যাটিংয়ে সিলেট টেস্টে লজ্জার হার বাংলাদেশের

নিজস্ব প্রতিবেদক : রেকর্ড গড়া তো দূরের কথা, কোনো প্রতিদ্বন্দ্বীতাই করতে পে র‌্যেলা না স্বাগতিক বাংলাদেশ। সিলেট টেস্টে রেকর্ড গড়ে জিততে হতো স্বাগতিকদের। তবে তা আর হয়নি। জিম্বাবুয়ের দেয়া ৩২১ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ১৬৯ রানেই থেমে যায় বাংলাদেশের ইনিংস। তাতেই ১৫১ রানের জয় পায় সফরকারী জিম্বাবুয়ে।

৩২১ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে তৃতীয় দিন শেষে বিনা উইকেটে ২৬ রান তোলে স্বাগতিকরা। অপরাজিত থেকে চতুর্থ দিনে ব্যাটিংয়ে নামেন লিটন দাস (১৪) এবং ইমরুল কায়েস (১২)। দু’জন মিলে চতুর্থ দিনের শুরুটা ভালভাবেই করেছিলেন। তবে দলীয় ৫৬ রানের মাথায় ব্যক্তিগত ২৩ রানে এলবির শিকার হয়ে ফেরেন লিটন।

দ্বিতীয় উইকেটে ইমরুল কায়েসের সঙ্গী হন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান মুমিনুল হক। তবে দলীয় ৬৭ রানে কাইল জার্ভিসের বলে বোল্ড হয়ে ব্যক্তিগত ৯ রানে ফেরেন বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান। এরপর ইমরুলের সঙ্গে ব্যাটিংয়ে যোগ দেন মাহমুদউল্লাহ। তবে সিকান্দার রাজার বলে দলীয় ৮৩ রানে বোল্ড হয়ে ব্যক্তিগত ৪৩ রানে ফেরেন ইমরুল। এরপর নাজমুল হোসেন শান্তকে সঙ্গী করে এগুচ্ছিলেন অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। তবে তবে দলীয় ১০২ রানে সিকান্দার রাজার বলে ক্যাচ দিয়ে ব্যক্তিগত ১৬ রানে ফেরেন বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক।

দলীয় ১১১ রানে ফেরেন নাজমুল হোসেন শান্ত। মাভুতার বলে সিকান্দার রাজার হাতে ক্যাচ দিয়ে ব্যক্তিগত ১৩ রানে ফেরেন বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান (১১১/৫)। তাতেই বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ।

দ্বিতীয় সেশনে আরিফুল হককে সঙ্গে নিয়ে এগুচ্ছিলেন মুশফিক। দলীয় ১৩২ রানে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরের পথ ধরেন মুশফিক। আউট হয়ে ফেরার আগে ১৩ রান করেন বাংলাদেশ দলের এই উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান (১৩২/৬)। এরপর দলীয় ১৫০ রানে উইকেটরক্ষকের হাতে ক্যাচ দিয়ে ব্যক্তিগত ৭ রানেই ফিরে যান মেহেদী হাসান মিরাজ (১৫০/৭)। এরপর রান যোগ করার আগেই ওয়েলিংটন মাসাকাদজার বলে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান তাইজুল ইসলাম (১৫১/৮)।

মাভুতার করা ওভারের প্রথম বলে এলবির শিকার হয়ে শূন্য হাতে ফেরেন নাজমুল হাসান অপু (১৫১/৯)। শেষ উইকেটে আরিফুলের সঙ্গে যোগ দেন আবু জায়েদ রাহী। তবে শেষদিকে চার ছক্কার ঝড়ো ব্যাটিংয়ে ৩৭ বলে ৩৮ রান তুলে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন আরিফুল হক। তাতেই থেমে যায় বাংলাদেশের ইনিংস। জিম্বাবুয়ের মাভুতা সর্বোচ্চ ৪টি উইকেট নেন। এছাড়াও সিকান্দার রাজা ৩টি, ওয়েলিংটন মাসাকাদজা ২টি এবং কাইল জার্ভিস ১টি উইকেট নেন।

এর আগে ১৩৯ রানের বিশাল লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে বিনা উইকেটে ১ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিন শেষ করে জিম্বাবুয়ে। হাতে ১০ উইকেট রেখে ১৪০ রানের লিড নিয়ে তৃতীয় দিন আবারো ব্যাট শুরু করে হ্যামিলটন মাসাকাদজার দল। তবে তাইজুল ইসলামের স্পিন ঘূর্নিতে দ্বিতীয় ইনিংসে ১৮১ রানেই গুটিয়ে যায় জিম্বাবুয়ে।

এই টেস্টে প্রথমবারের মতো ১০ উইকেট নেওয়ার কীর্তি অর্জন করলেন বাংলাদেশি স্পিনার তাইজুল ইসলাম। প্রথম ইনিংসেই তাইজুল নিয়েছিলেন ৬ উইকেট। টেস্টে এর আগে এক ইনিংসে ৮ উইকেটও পেয়েছেন, কিন্তু ম্যাচে ১০ উইকেট পাওয়া হয়নি কখনো। এবার জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে ছয় উইকেটের পর দ্বিতীয় ইনিংসে সোমবার (৫ নভেম্বর) তুলে নিয়েছেন ৫ উইকেট। এই টেস্টে সবমিলিয়ে ১৭০ রান দিয়ে ম্যাচে পেয়েছেন ১১ উইকেট। টেস্টে এটি বাংলাদেশের হয়ে তৃতীয় সেরা বোলিং।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ