প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

জরিপে এগিয়ে ডেমোক্র্যাটরা

কালের কন্ঠ : মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রে সাধারণত তেমন একটা উত্তাপ-উত্তেজনা চোখে পড়ে না; ভোটের হারও হয় কম; পরিবর্তন হয় না প্রেসিডেন্ট পদেও। প্রভাব পড়ে কেবল কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদ ও উচ্চকক্ষ সিনেটে। তবে এবার অবস্থা পুরোপুরি ভিন্ন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিভিন্ন বক্তব্য এবং পদক্ষেপ রাজনীতিকে এমন পর্যায়ে নিয়ে গেছে যে আজ মঙ্গলবার অনুষ্ঠেয় মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘিরেও বাড়তি উত্তাপ-উত্তেজনা ছড়াচ্ছে। সর্বশেষ জরিপের ফলাফল অনুযায়ী, ক্ষমতাসীন রিপাবলিকানদের চেয়ে ডেমোক্র্যাটরা অনেকটাই এগিয়ে আছে।

যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসের এই মধ্যবর্তী নির্বাচনকে দেখা হয় ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের ওপর আস্থার একটি গণভোট হিসেবে। যদি এই নির্বাচনে বিরোধী দল ডেমোক্র্যাটরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে যায়, তাহলে তা রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জন্য সমূহ বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়াবে। এর ফলে ট্রাম্পকে তাঁর ক্ষমতার মেয়াদের বাকি দুই বছর বেশ জটিল অবস্থার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। তখন তিনি নিজে থেকে অনেক সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন না।

এবিসি ও ওয়াশিংটন পোস্টের সর্বশেষ জরিপ অনুসারে ৫০-৪৩ পয়েন্ট ব্যবধানে ডেমোক্র্যাটদের কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ বা প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ পাওয়ার কথা। এক মাস আগেও এই ব্যবধানের পরিমাণ ছিল ১১ পয়েন্ট। একই জরিপ অনুসারে, সব সম্ভাব্য ভোটারের মধ্যে ৫১ শতাংশ ডেমোক্র্যাট ও ৪৪ শতাংশ রিপাবলিকানদের পক্ষে ভোট দেবে বলে মনে করা হচ্ছে।

বেশির ভাগ বিশ্লেষক মনে করছেন, ৭ পয়েন্টের এই ব্যবধান ধরে রাখতে পারলে আজকের নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক পার্টি প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাবে। এ জন্য তাদের প্রয়োজন অতিরিক্ত ২৩টি আসন। সিবিএস নিউজের নির্বাচনী মানচিত্র অনুসারে ডেমোক্রেটিক পার্টি ২২৫ ও রিপাবলিকান পার্টি ২১০টি আসনে এগিয়ে আছে। তবে এর মধ্যে ১৩টি আসন দুই দলের যে কেউ দখল করতে পারে।

অন্যদিকে সিনেটে রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রণের কোনো পরিবর্তন না হওয়ার সম্ভাবনা অধিক। সর্বশেষ নির্বাচনী ফলাফল মডেল অনুসারে রিপাবলিকান পার্টি ৫০ ও ডেমোক্রেটিক পার্টি ৪৪টি আসন দখলে রাখবে। অবশিষ্ট ছয়টি আসনের ফলাফল এখনো অনিশ্চিত, তবে একটি বা দুটি আসন ডেমোক্র্যাটরা হারাতে পারে বলে অধিকাংশ বিশেষজ্ঞ মনে করছেন।

এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি শেখ সেলিম বলেন, ‘হাউস বা প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের বিজয়ের সম্ভাবনাই আমি দেখছি। বিভিন্ন জরিপও তেমন কথাই বলছে। তবে সিনেটে কঠিন লড়াই হলেও নিশ্চিতভাবে কিছুই বলা যাচ্ছে না।’

আজ প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসনেই ভোটগ্রহণ হবে। কারণ প্রতিনিধি পরিষদের সদস্যের মেয়াদ দুই বছর। সিনেটের ১০০ আসনের মধ্যে এবার ৩৫টিতে ভোট হবে। সিনেটরদের মেয়াদ ছয় বছর। ৩৬টি রাজ্যের গভর্নর পদেও ভোট হবে। বর্তমানে প্রতিনিধি পরিষদের ২৩৫টি আসন রিপাবলিকানদের দখলে। ডেমোক্রেটদের রয়েছে ১৯৩টি; সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে তাদের অন্তত ২১৮টি আসন পেতে হবে। অন্যদিকে সিনেটে রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণে ৫১টি এবং ডেমোক্রেটদের রয়েছে ৪৯টি আসন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক কাজী সাহিদ হাসান বলেন, প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের প্রাধান্য বিস্তার করতে ২৩ আসন উল্টে যেতে হবে। এটা সম্ভব হতে পারে। কেননা হাউস সদস্য হয় জনসংখ্যা অনুপাতে। তিনি অঙ্ক কষে দেখান এমনও রাজ্য রয়েছে যেখানে হাউসের জন্য মাত্র একটি আসন। কিন্তু সিনেটের বিষয়টি ভিন্ন। অনেকটা ইলেকটোরাল কলেজের মতো। রাজ্য যত ছোট কিংবা বড়ই হোক, সবগুলোতেই দুটি করে পদ। ফলে রিপাবলিকান অধ্যুষিত ছোট রাজ্যগুলোও নির্বাচনে প্রভাব ফেলবে। তাই সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের নিয়ে নেওয়া অত সহজ হবে না বলেই তিনি মনে করেন।

গত নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনের পপুলার ভোট বেশি পাওয়ার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে এই বিশ্লেষক বলেন, এর পরও নির্বাচনে হিলারি হেরে যান, কেবল ইলেকটোরাল কলেজ ভোটের কারণে। কাজী সাহিদ হাসান বলেন, ‘২০৪৪ সালে আমেরিকায় শ্বেতাঙ্গরা সংখ্যালঘু হয়ে যেতে পারে, এমন শঙ্কার কারণে এই নির্বাচনেও সাদারা বেশি সংখ্যায় ভোট দেবে। আর সেই ভোটও রিপাবলিকানদের পক্ষে যাবে।’

গত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিভিন্ন জরিপে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পিছিয়ে থাকার কথা মনে করিয়ে দিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ব্র্যাডলি ইফেক্ট বলে একটি বিষয় আছে। যার কারণে জরিপ সব সময় সঠিক কথা বলে না।

যদিও অভিবাসন ইস্যু, বিভিন্ন বিষয়ে প্রেসিডেন্টের দেওয়া বক্তব্য, দেশের ভেতরে বিভক্তি তৈরির অভিযোগ, গণমাধ্যমের প্রতি আক্রমণ এবং সবশেষ পেনসিলভানিয়ার পিটসবার্গ শহরে ইহুদি উপাসনালয়ে হামলার ঘটনায় নির্বাচনে রিপাবলিকানদের জন্য বিরূপ প্রভাবের আশঙ্কাই করছেন বিশ্লেষকরা। ডেমোক্র্যাটদের বিজয় হলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অভিসংশনের ঝুঁকিও দেখছেন কেউ কেউ।

আর অভিবাসন ইস্যুটিকে সামনে রেখে, বেশির ভাগ বাংলাদেশিই ডেমোক্রেটদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে বলে মনে করেন অ্যাটর্নি শেখ সেলিম। তিনি মনে করেন, আগের চেয়ে বেশি সংখ্যায় বাংলাদেশি আমেরিকান এবারের নির্বাচনে ভোট দেবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ