প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কিশোর গ্যাং স্টার গ্রুপের হাতেই প্রাণ গেলো পাভেলের

সুজন কৈরী: রাজধানীর জুরাইন এলাকায় ছোট বোনকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করতে গিয়ে বখাটেদের ছুরিকাঘাতে বড় ভাই শেখ ইসলাম পাভেল (২৩) খুনের ঘটনায় শ্যামপুর থানায় একটি হত্যা মামলা হয়েছে। এতে এজাহারভুক্ত আসামি করা হয়েছে বখাটে মাসুম, তুহিন, রাব্বি ও ইরফানকে। ময়নাতদন্ত শেষে তার লাশ দাফনের জন্য গ্রামের বাড়ি নেওয়া হয়। সোমবার সকালে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কেশবপুর গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে।

শ্যামপুর থানার ওসি মিজানুর রহমান জানান, মামলায় উল্লেখ করা মাসুম, তুহিন, রাব্বি ও ইরফান জুরাইন এলাকার কিশোর সন্ত্রাসী গ্রুপের সদস্য। রাস্তায় মেয়েদের একা পেলে উত্যক্ত করাই তাদের কাজ ছিল। তারা এতটাই খারাপ ছিল যে রাতে শিক্ষার্থীদের বাসার আশপাশে ওৎ পেতে থেকে জানালা দিয়ে টর্চ লাইট বা লেজার লাইট মেরে বিরক্ত করত। স্কুল কলেজের সামনে হর্ন বাজিয়ে প্রচন্ড দ্র”ত গতিতে মোটরসাইকেল চালিয়ে সবার নজর কাড়ত ওরা। উঠতি বয়সেই ছিনতাই, মাদক কারবার ও মহল¬ায় মাস্তানিতে জড়িয়ে পড়ছিল তারা। তাদেরকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

এদের সম্পর্কে স্থানীয় মুরব্বি মোহাম্মদ হারুন বলেন, পাভেলের খুনিদের সবার বয়স ১৪ থেকে ১৬ বছরের মধ্যে। স্থানীয় বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থী তারা। তবে তারা ঠিকমত লেখা পড়া করে না। অল্প বয়সেই তারা এলাকায় সন্ত্রাসী বখাটে হিসেবে পরিচিত। কিশোর বয়সেই তারা মাদক সেবন করত। রাস্তায় মেয়েদের দেখলেই উত্ত্যক্ত করত। মোটরসাইকেল নিয়ে দাপিয়ে বেড়াত। এসব বখাটেদের বাবা মাকে এ বিষয়ে অনেক অভিযোগ দিয়েছিল উত্ত্যক্তের শিকার মেয়েদের অভিভাবকরা। স্থানীয়রা তাদের নিয়ে অনেক সালিস বৈঠক করেছিল। কিন্তু তারা ভাল হয়নি। উল্টো তারা পাভেলের মত এলাকার একটি ভাল নিরাপরাধ ছেলেকে নৃসংশভাবে হত্যা করল।

হিমু, মৃদুল, আলামিন, সেলিম, বিপ্ল¬ব, রহিমসহ আরো বেশ কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পাভেলের খুনিরা ‘কিশোর গ্যাং স্টার গ্রুপ’ এর সদস্য। এলাকায় এদের অনেক ছদ্ম নাম আছে। এই গুপের দলনেতা তুহিনের ছদ্ম নাম বাঘা তুহিন। তার গ্রুপের মাসুম, রাব্বি, ইরফানকেও এলাকার লোকজন বিভিন্ন ছদ্ম নামে চেনে।

এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এই কিশোরদের বাবা মা এলাকায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। ঘটনার পর থেকে তারাও বাসা বাড়িতে তালা মেরে গা ঢাকা দিয়েছেন।

শনিবার রাতে জুরাইনের মাজারগেট এলাকায় ৫৪ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সাবেক সাংগাঠনিক সম্পাদক তনয় ইসলাম পাভেলকে কিশোর বখাটেরা ছুরিকাঘাত করে। রোববার দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। জুরাইনের ৪৪২/২ বাসায় ভাড়া থাকতেন পাভেল। কয়েকদিন আগেই বিয়ে করেছিলেন। তবে বিবাহত্তোর সংবর্ধনা এখনো হয়নি। এর প্রস্তুতি চলছিল। এর মধ্যে স্বামীকে হারিয়ে পাগল প্রায় তার স্ত্রী মাহিয়া। তিনি জানান, তার ননদকে উত্যক্ত করে আসছিল এলাকার এক বখাটে যুবক। এতে তার পড়ালেখাও বন্ধের উপক্রম হয়। বোনকে উত্যক্তের প্রতিবাদ করছিলেন পাভেল। আর তুহিন নামের সেই যুবক কয়েকজন সঙ্গীকে নিয়ে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে পাভেলকে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ