প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আবার দুলবে শহর মাটির সুরে

প্রিয় সংবাদ : বাঙালির হাজারো বছরের বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ধারক-বাহক হলো লোকসংগীত। তাই এর চর্চা ও প্রসারের জন্য গত তিন বছর ধরে আয়োজিত হয়ে আসছে ‘ঢাকা আন্তর্জাতিক লোকসংগীত উৎসব’। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের সংস্কৃতিকে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরার জন্য চতুর্থবারের মতো অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এ আয়োজন। আবার দুলবে শহর মাটির সুরে।

৫ নভেম্বর ‘ঢাকা আন্তর্জাতিক লোকসংগীত উৎসব ২০১৮’ উপলক্ষে ঢাকার এক অভিজাত হোটেলে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে আরও জানানো হয়, সান ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এবার আয়োজিত হতে যাচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় লোকসংগীতের এ উৎসব।

ঢাকার আর্মি স্টেডিয়ামে ১৫-১৭ নভেম্বর সন্ধ্যা ৬ টা থেকে রাত ১২ টা পর্যন্ত দর্শক উপভোগ করতে পারবেন বাংলাদেশসহ বিশ্বের সেরা লোকসংগীত শিল্পীদের পরিবেশনায় শেকড় সন্ধানী গানগুলো।

বাংলাদেশের লোকসংগীত শিল্পীদের নিয়ে ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে কাজ করতে চান সান কমিউনিকেশনের চেয়ারম্যান অঞ্জন চৌধুরী।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশের আনাচে-কানাচে অনেক লোক গানের শিল্পী আছে, তাদের গান আমরা শুনি, নানান মাধ্যমে। তারা জানেও না তাদের গান শুধু দেশ নয়, দেশের বাইরেও অনেকেই শুনছে। কিন্তু তারা এর বিনিময়ে কিছুই পায় না। অত্যন্ত প্রতিকূল অবস্থায় জীবনযাপন করে। সে জায়গা থেকেই তাদের নিয়ে কাজ করার প্রথম চিন্তাটা মাথায় আসে। আর সেখান থেকেই আমাদের এ প্রতিষ্ঠানটির যাত্রা শুরু। তবে আমরা যে উদ্যোগটি নিয়েছি সেটা কোনো আর্থিক লাভের জায়গা থেকে না। এটা সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে।’

বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৭টি দেশ থেকে ১৭৪জন শিল্পী অংশগ্রহণ করবেন একই মঞ্চে বলে জানানো হয়েছে আয়োজক প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে।

এবারের আসরে বাংলাদেশ থেকে গাইবেন মমতাজ বেগম, বাউল আব্দুল হাই দেওয়ান, বাউল কবির শাহ, নকশীকাঁথা ও স্বরব্যাঞ্জো।

আর ভারত থেকে ওয়াদালি ব্রার্দাস, রাঘু দিক্সিত, সাত্যকি ব্যানার্জি। এ ছাড়া পাকিস্তান থেকে শাফকাত আমানাত আলী, বাহরাইন থেকে মাজায। আর যুক্তরাষ্ট্র থেকে গ্র্যামি বিজয়ী লস টেক্সমেনিয়াক্স, পোল্যান্ড থেকে দিকান্দা এবং স্পেনের লাস মিগাস সংগীত পরিবেশন করবেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাংলা লোকগানের জনপ্রিয় শিল্পী মমতাজ বেগম। বক্তব্যের শুরুতেই তিনি জানান, প্রতি বছরই এ আয়োজনটির জন্য অপেক্ষায় থাকেন। আর এ আয়োজনটির জন্য বক্তব্যের শুরুতেই সান ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যানকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

সুর সম্রাজ্ঞী মমতাজ বলেন, ‘এ উৎসবটি শুরুর থেকেই ব্যাপক সাড়া পেয়েছে ও প্রসংশা কুড়িয়েছে। আমরা যারা ফোক গান নিয়ে কাজ করছি, তাদেরই হয়তো এ ধরনের একটি উদ্যোগ নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আমরা সে দায়িত্ব নিতে পারিনি। কিন্তু আমাদের দিক থেকে তাদের প্রতি সব ধরনের সহযোগিতাটা থাকবে। আমরা সব সময় তাদের সঙ্গে থাকতে চাই।’

‘আমি যাই হই না কেন, আমি কিন্তু ফোক গান কিংবা আমার শেকড়ের জন্যই হয়েছি, আমি শিল্পী বলে, ফোক গান গাই বলে। ফোকের মহাজন যাদের আমরা বলে থাকি, তাদের অনেকেরই কিন্তু আমাদের দেশে জন্ম হয়েছে। তাদের কারণেই কিন্তু আমরা আজ এ সম্পদটা পেয়েছি। সেগুলোকে লালন করা আমাদের দায়িত্ব।’

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, প্রতিবারের মতো এবারও দর্শকরা বিনামূল্যে শুধুমাত্র অনলাইন রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি সরাসরি উপভোগ করতে পারবেন। রেজিস্ট্রেশন শুরু হবে ৭ নভেম্বর থেকে।

এজন্য dhakainternationalfolkfest.com ওয়েবসাইটে গিয়ে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে পরের ৫দিন পর্যন্ত চলবে।

রেজিস্ট্রেশনের জন্য পাসপোর্ট সাইজ ছবি, জাতীয় পরিচয়পত্র/ ড্রাইভিং লাইসেন্স/ পাসপোর্টের স্ক্যান কপি প্রয়োজন হবে।

এ ছাড়াও ফেসবুকে ‘ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ফোক ফেস্ট’ পেইজটিতে পাওয়া যাবে আয়োজনটির সকল তথ্য।

বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আবুল খায়ের, ঢাকা ব্যাংক লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও সিইও মাহবুবুর রহমান, গ্রামীণফোনের চিফ বিজনেস অফিসার মাহমুদ হোসেনও সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

‘ঢাকা আন্তর্জাতিক লোকসংগীত উৎসব ২০১৮’-এর টেলিভিশন সম্প্রচারের দায়িত্বে থাকবে মাছরাঙা টেলিভিশন। এ ছাড়াও গ্রামীণফোনের অনলাইন ভিডিও স্ট্রিমিং সার্ভিস- বায়োস্কোপ লাইভে থাকবে অনুষ্ঠানটি লাইভ দেখার সুযোগ।

 

সর্বাধিক পঠিত