প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে সংলাপ রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ!

আব্দুল্লাহ আল নোমান শামীম : দেশ মানে ক্ষমতা বদল নয়, দেশ মানে মানুষ। সেখানে কোটি কোটি মানুষ বসবাস করে, তাদের অনেক চাহিদা থাকে, অনেক ধরনের চাহিদা থাকে। তারা সকাল থেকে রাত অবধি তাদের সংসার আর চারিদিক নিয়ে ক্রমাগত পরিশ্রম করে, আমরা যাকে জীবন যাপন বলি। এই জীবন ধারণে তারা জনমানুষবান্ধব সরকার চায়, যে সরকার তাদের স্থিতিশীলতা দেবে, জীবন যাপনে সহায়তা দেবে, সুরক্ষা দেবে। অতীতে আমাদের প্রজন্ম জন্মের পর অনেকবার সরকারের পরিবর্তন দেখেছি, কিন্তু মানুষের ভাগ্যের তেমন কোনো পরিবর্তন দেখিনি। ছোটবেলায় মুরুব্বীরা বলতেন, ‘এই দেশের কিছু হবে না।’ কতটুকু হতাশ হলে নাগরিকরা তার দেশ সম্বন্ধে এই কথা বলে! আমরা সেই দেশ ছেড়েছি, আমাদের অনেকেই ছেড়েছে, বুকে হাত দিয়ে বলতে পারি, আমরা সবাই দেশ ছেড়েছি ভালো থাকার জন্য, এতে কোনো দ্বিমত করছি না। কিন্তু কিছু বোকা দেশপ্রেমিক মানুষ দেশেই রয়ে গেলো। তারা ঘুরে দাঁড়ালো, আবার স্বপ্ন দেখালো, বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর সাথে স্বনির্ভর বাংলাদেশের স্বপন ভুলে যাওয়া জনগোষ্ঠীকে তারা বললো, নাহ, আমরা পালাবো না, আমরা আমদের ভবিষ্যত নিজেরা নির্ধারণ করবো, পরিশ্রম করবো, পলিসি দেবো, বাস্তবায়ন করবো।
তারা তা করলো, জননেত্রী শেখ হাসিনা বাবা-মা হারা এক মেয়ে সব স্রোতের বিপরীতে দাঁড়িয়ে পড়লেন। বাংলাদেশ নামের ভুখ-টাই এই দঢ়চেতা জননেত্রীর সঙ্গে ঘুরে দাঁড়ালো। এখন দেশি-বিদেশি চরম সমালোচকরাও বাংলাদেশের উন্নয়নের প্রশংসা করে। হাঁ, উন্নয়ন এখনো সমগ্র জনগোষ্ঠীকে ১০০% ছোঁয়নি, কারণ ৩০-৩৫ বছরের হতাশা থেকে সবাইকে স্পর্শ করা অসম্ভব, কিন্তু দেখা যাচ্ছে আমরা সব শ্রেণির মানুষের কাছে যাচ্ছি, তাদেরকে একে একে উন্নয়নের বেল্টে নিয়ে আসছি। ক্রমাগতভাবে আমরা আগামী ৫ বছরের মধ্যে সবাইকে এক বেল্টে নিয়ে আসবো, এই হিমালয়সম বিশাল অসম্ভবকে সম্ভব করেছেন জননেত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর দল। রাজনীতিতে এরচেয়ে উজ্জ্বল মুহূর্ত আর কী আছে! তবে স্বীকার করতেই হবে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন ঐক্যফ্্রন্টের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংলাপ রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ সৃস্টি করবে।
ড. কামাল হোসেনকে অনেকেই সমালোচনা করছেন। স্বাধীনতার এতো বছর পরে এই মাপের মানুষদের এভাবে সমালোচনা করাটা সময়ের অপচয় মনে করি, কিন্তু তাদের কার্যক্রমই এমন যে, সাধারণ মানুষ তাদের ধারণ করতে পারে না, বুঝে উঠতে পারে না। অদৃশ্য এই ব্যবধানটা তাদের এযাবৎ কাল পর্যন্ত ব্যর্থ রাজনীতিবিদ হিসেবে ইতিহাসে স্থান করে দিয়েছে। তবু তিনি রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার সঙ্গে সংলাপ ও গণতান্ত্রিক অধিকার চর্চা করতে চেয়েছেন, সুযোগও পেয়েছেন, সম্মানও পেয়েছেন। কষ্ট লাগে এটা ভেবে ড. কামাল হোসেনই বঙ্গবন্ধু কন্যার চরম দুঃসময়ে পাশে এসে দাঁড়াননি। সেই দুঃসময়ে তার দুয়ারে ভিখারীর মতো ধর্না দিয়েছেন ইংল্যান্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি সুলতান শরীফ, লন্ডন প্রবাসী কলামিস্ট আব্দুল গাফফার চৌধুরী। ড. কামালের মুখ থেকে দু’টা কথা যদি বঙ্গবন্ধুর পক্ষে বলানো যায় বিদেশী মিডিয়ার!
ড. কামালকে মানুষ কিভাবে চেনে? বঙ্গবন্ধুর ড. কামাল হিসেবেইতো? কিভাবে চেনে, বঙ্গবন্ধুর আদেশে সংবিধান প্রনয়নে অগ্রনী ভূমিকা পালনেতো? কিভাবে চেনে? বঙ্গবন্ধুর ক্যাবিনেটে মন্ত্রী হিসেবেতো? হায়, সেইসময় অর্থাৎ তৎকালীন বঙ্গবন্ধুর সদ্য এতিম দুই কন্যাকে অকূল সাগরে ফেলে তিনি গা ঢাকা দিয়েছিলেন, বিদেশে আবার এতিম করে দিয়েছিলেন। আজ ২০১৮ সাল। জননেত্রী শেখ হাসিনা ড. কামালের সঙ্গে সংলাপে বসলেন, আপ্যায়িত করলেন। ’৭৫-এর ঘটনাবলি যদি স্মরণ করি তাহলে আঁৎকে উঠি। শোনা যায়, ২০১০ সালে সরকারপ্রধান ৭১-এর গণহত্যাকারীদের বিচারে দায়িত্ব দিতে চেয়েছিলেন ড. কামালকে। তার ফার্ম যেকোনো কারণেই হোক সেই কাজটি পায়নি। বিদ্বেষে পুড়ে ড. কামাল বাংলাদেশের বিরুদ্ধেই দাঁড়িয়ে গেলেন। শুধু তিনি নিজে না, তার কন্যা ও কন্যার বিদেশী জামাই পর্যন্ত। স্বার্থে ও কারণে এটি তার বিরাট অবক্ষয় হিসেবে জাতি মূল্যায়ন করবে। আমরা কোনোদিন দুঃস্বপ্নেও অনুমান করতে পারি নাই ড. কামাল স্বাধীনতার শত্রুদের পক্ষে সপরিবারে দাঁড়িয়ে যাবেন। এ যে কত বড় কষ্ট বলে বোঝানো যাবে না! এমন নয় যে আমি তাঁকে আক্রমন করছি, আমি আমার জানার অক্ষমতা থেকে প্রশ্ন করছি। শুধু পার্টির কর্মী হিসেবে না, একজন তরুণ রাজনীতিবিদ হিসেবে আমার তাঁকে জিজ্ঞেস করতে ইচ্ছে করে, আপনি কিসের তৈরি? একটি দেশের জনকের বিশ্বাসের মূল্যের ভরসার হাত কি আপনার কাঁধ স্পর্শ করে? আপনি কি বঙ্গবন্ধুর শেষনিঃশ্বাস টের পান? তবে এটাও স্বীকার করতে হবে সারাদেশের মানুষকে বোকা বানানোর পরিকল্পনা নিয়ে যারা এগোচ্ছে তারা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার আস্বাদন পেতে ষড়যন্ত্র করছে। জঙ্গি-সন্ত্রাসীরা যতই চেষ্টা করুক না কেনÑ বাংলার জনগণ তা কখনো হতে দেবে না।
লেখক : সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ, অস্ট্রেলিয়া শাখা/ সম্পাদনা : দীপক চৌধুরী

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ