প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আলোচনা অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে: রুহুল আমীন হাওলাদার

মোঃ ইউসুফ আলী বাচ্চু: প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাতীয় পার্টি (জাপা)-এর সংলাপ অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে । প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপার নির্বাচন কেন্দ্রিক বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে । প্রধানমন্ত্রী দেশের রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন । এছাড়া জাপা চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রীকে ৮টি প্রস্তাবনা দিয়েছেন । গতকাল সন্ধ্যায় গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এরশাদের জোটের সংলাপ শেষে বনানীর জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের কার্যলয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে জাপা মহাসচিব এবিএম রুহুল আমীন হাওলাদার এসব কথা জানান ।
তিনি বলেন, আমাদের চেয়ারম্যান প্রাধানমন্ত্রীকে যে ৮টি প্রস্তাবনা দিয়েছে তারমধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, আসন্ন নির্বাচনের সময় সেনাবাহিনীকে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে মোতায়েন করার । তবে তাদের হাতে বিচারিক ক্ষমতা না দেয়া । এছাড়া একাদশ  নির্বাচনেই ইভিএম ব্যবহার করা না হয় । আর নির্বাচন কালীন সরকার নিয়ে তিনি বলেছেন, সংবিধানের মধ্যে থেকেই জাতীয় সংসদের প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলো থেকে অন্তবর্তী সরকার গঠন করে নির্বাচন করতে হবে  । যাতে কোন তৃতীয় শক্তি ক্ষমতায় না বসতে পারে । প্রধানমন্ত্রী আমাদের আশস্ত করেছ বলেছেন তিনি এগুলো দেখবেন । পরবর্তীতে এ নিয়ে স্বল্পপরিসরে আরো আলোচনা হবে ।
ব্রিফিংয়ের শুরুতে রুহুল আমীন হাওলাদার বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে আমরা জাপা চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে গণভবনে নৈশভোজে অংশগ্রহণ করি । এরপরে সেখানে অনেক বিষয় আলোচনা হয়েছে । অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ আলোচনা হয়েছে । সেখানে জাপা চেয়ারম্যান বলেছেন, যে অর্থে অন্য দুটি দল আপনার সঙ্গে আলোচনায় বসেছে আমাদের তেমন কোন দাবি আলোচনা হয়েছে অনেক বিষয় নিয়ে ।
আসন ভাগাভাগি নিয়ে সংলাপে কোন আলোচনা  হয়েছে কিনা সাংবাদিকরা জানতে চাইলে জাপা মহাসচিব বলেন, আমরা মহাজোটে ছিলাম তাই অনেক বিষয়ে আলোচানা হয়েছে সব বলা ঠিক হবে না । সব প্রকাশ করার জন্যও নয় । তবে আমরা আগেও বলেছি, আমাদের জোট আছে ।তাদের নিয়ে ৩০০ আসনে নির্বাচন করার প্রস্তুতি ইতিমধ্যে নিয়েছি । সময় নির্ধারণ করবে আমরা মহাজোটে যাইবো কি যাবো না ।
জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে যাবেন কিনা এমন এক প্রশ্নের জবাবে রুহুল আমীন হাওলাদার বলেন, আমরা তো কোন জোট করিনি । আগামী কয়েকদিনে রাজনীতিতে অনেক কিছু দেখা যাবে ।  সময়ই সব সময়ে বলে দিবে ।
রুহুল আমীন হাওলাদার আরও বলেন, কোন অনির্বাচিত সরকারের অধীনে আমরা নির্বাচন চাইনা । সংলাপে আমরা অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের কথা বলেছি । ১৯৯১, ১৯৯৬ এবং ২০০১ সালের তথাকথিত অনির্বাচিত সরকার লেভেলপ্লেইং ফিল্ড তৈরী করতে ব্যার্থ হয়েছে। এছাড়া ওয়ান-ইলেভেন এর অনির্বাচিত সরকার মাইনাস টু ফর্মুলায় দেশের শীর্ষ নেতাদের রাজনীতির মাঠ থেকে বিতারিত করতে চেয়েছে । ২০০১ সালের নির্বাচনের তিক্ত অভিজ্ঞতার আলোকেই আমরা এই প্রস্তাব করেছি ।
এছাড়া আমাদের একটি সংস্কার কর্মসূচীর প্রস্তাব আছে। সেটা হচ্ছে- প্রাদেশিক ব্যবস্থা প্রবর্তন। দেশের সচেতন মানুষ মাত্রেই এই প্রস্তাব সমর্থন করেন। একজন প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে এই ১৭/১৮ কোটি মানুষের দেশ পরিচালনা করা কষ্টসাধ্য ব্যাপার। এই প্রতিশ্রুতি প্রত্যাশা করি আগামী সংসদে আমরা এই প্রাদেশিক ব্যবস্থা প্রবর্তনের আইন পাশ করবো। তিনি বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের নিশ্চয়তা দেবার পর কে নির্বাচনে আসবে বা কে আসবে না তা দেখার কোনো অবকাশ নেই। ব্রিফিংয়ের শেষ মুহুর্তে এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, নির্বাচনের তফসিল ঘোষনা হলে, সারপ্রাইজ আসতে পারে
তিনি আরো বলেন আলোচনা একটি চলমান প্রক্রিয়া, আমাদের প্রেসিডিয়ামে আলোচনা শেষে আমরা প্রধানমন্ত্রীর সাথে একটি ছোট্ট পরিসরে আলোচনা করবেন এবং দলের চেয়ারম্যান সঠিক সিদ্ধান্ত নেবেন।
সংলাপ শেষে প্রধানমন্ত্রীকে মধ্যহ্নভোজ অথবা নৈশভোজে অংশ নিতে তাঁর বাসভবনে পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। জবাবে প্রধানমন্ত্রী সময়-সুযোগ মতো তিনি এই আমন্ত্রণে অংশ নেবেন বলেও জানান ।
এর আগে সন্ধ্যা ৬:৩০ মিনিটে এরশাদের নেতৃত্বে জাপা সম্মিলিত জোটের নেতারা গণভবনে সংলাপে অংশ নেয়ার জন্য প্রবেশ করেন । সন্ধ্যা সোয়া ৭ টায় সংলাপ শুরু হয়ে চলে প্রায় ৯টা পর্যন্ত । এরপর প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে নৈশভোজ শেষ করে তারা ৯:৩০ মিনিটে গণভবন থেলে ন্ব্র হয়ে আসেন । প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এরশাদের নেতৃত্বে  জাপা ও সম্মলিত জোটের যারা অংশ নেন তারা হলেন, সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান ও বিরোধী দলীয় নেতা রেগম রওশন এরশাদ, কো-চেয়ারম্যান জিএম কাদের, মহাসচিব এবিএম রুহুল আমীন হাওলাদার,  প্রেসিডিয়াম সদস্য আনিসুল ইসলাম মাহমুদ,  এমএ ছাত্তার, কাজী ফিরোজ রশীদ, জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু, অধ্যাপক দেলোয়ার হোসন খান, সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, আলহাজ্জ সাহিদুর রহমান, শেখ মুহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম, ফখরুল ইমাম ,মজিবুল হক চুন্নু, সালমা ইসলাম,সুনীল শুভ রায়, এসএম ফয়সল চিশতী, মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী, মসিউর রহমান রাঙা, এটি ইউ তাজ রহমান , সোলায়মান আলম শেঠ,  আতিকুর রহমান আতিক, মেজর (অব.) খালেদ আক্তার, সফিকুল ইসলাম সেন্টু, শামীম হায়দার পাটোয়ারী । জাপার যুগ্ম মহাসচিব লিয়াকত হোসেন খোকা এমপি, নুরুল ইসলাম ওমর এমপি । বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের চেয়ারম্যান মাওলানা এমএ মান্নান, মহাসচিব এমএ মতিন।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাহফুজুল হক, যুগ্ম মহাসচিব জালাল আহমেদ। জাতীয় ইসলামী মহাজোট’র চেয়ারম্যান আবু নাসের ওয়াহেদ ফারুক, বিএনএ’র চেয়ারম্যান সেকেন্দার আলী মনি ।
সংলাপে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ছিলেন দলের সাধারণ-সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, সভাপতিম-লীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, মোহাম্মদ নাসিম, মো. আবদুর রাজ্জাক, কাজী জাফর উল্যাহ, রমেশ চন্দ্র সেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, দীপু মনি, আবদুর রহমান, জাহাঙ্গীর কবির নানক, দফতর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাছান মাহমুদ, আইনবিষয়ক সম্পাদক শ ম রেজাউল করিম, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ