প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

পীরগঞ্জ এ.এস.পি’র বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ

জাকির হোসেন, ঠাকুরগাঁও : ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ সার্কেল অফিসের এ.এস.পি’র (সহকারি পুলিশ সুপার) বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নিয়মিত ঘুষ গ্রহণ, থানার দারোয়ানের কাছ থেকে মাসোহারা আদায়, জনপ্রতিনিধিদের রিমান্ডে নেওয়ার হুমকি দেওয়া সহ তাদের সাথে অসৌজন্য মূলক আচরণ করা, সাংবাদিককে অহেতুক জেল খাটানোর হুমকি এবং তার নিযুক্ত সোর্সের মাধ্যমে বিভিন্ন এলাকা থেকে অর্থ আদায় সহ জনপ্রতিনিধিদের সহায়তা না করার অভিযোগ উঠেছে। এ সব অভিযোগ এনে উপজেলা চেয়ারম্যান সহ ১০ জন ইউনিয়ন চেয়ারম্যান তার বিরুদ্ধে পুলিশ মহাপরির্দকের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তবে অভিযোগ সঠিক নয় বলে দাবি ঐ পুলিশ কর্মকর্তার।

সম্প্রতি (০১ নভেম্বর) মহা পুলিশ পরিদর্শক (আই.জি.পি) বরাবরে পাঠানো ১১জন জনপ্রতিনিধির স্বাক্ষরিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, পীরগঞ্জ সার্কেল’র এ.এস.পি মোসফেকুর রহমান কুখ্যাত মাদক স¤্রাট ইমাম ও রঘুনাথপুর গ্রামের চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী আরমান এবং সেনুয়া গ্রামের সুন্দরী বেগম সহ উপজেলার বিভিন্ন জায়গা হতে মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মাসিক টাকা আদায় করেন। এছাড়াও থানার দারোগাদের কাছ থেকে মাসিক ১ হাজার টাকা করে চাঁদা নেন। দৌলতপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান কার্তিক চন্দ্র রায়কে অব্যাহতি পাওয়া একটি মামলায় দূর্গাপূজার সময় রিমান্ডে নেওয়ার হুমকি দেন।

ভোমরাদহ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হিটলার হক ও জাবরহাট ইউ’পি চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীরকে গত ৩০ অক্টোবর সহ বিভিন্ন সময়ে নানা ভাবে হুমকি ধামকি দেন। বর্তমানে পীরগঞ্জ উপজেলার জাবরহাট ইউনিয়নে করনাই গ্রামে চিহিৃত মাদক ব্যবসায়ী জনৈক আনোয়ারুল হক পালসারের গ্রামের বাড়ি এবং ঐ পুলিশ কর্মকর্তার বাড়ি একই জেলা চাপাইনবাবগঞ্জ হওয়ায় ঐ কর্মকর্তার মদদে তিনি মাদক ব্যবসা সহ নানা অপকর্ম দেদারসে চালিয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি ঐ মাদক ব্যবসায়ী আনোয়ারুল হক পালসারের রেজিষ্ট্রেশন বিহীন মোটরসাইকেল পীরগঞ্জ থানা পুলিশ আটক করলে ঐ কর্মকর্তা মাদক ব্যবসায়ীর মোটরসাইকেলটি ছেড়ে দেন।

এতে পুলিশ প্রশাসনের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ঐ পুলিশ কর্মকর্তা এ.এস.পি (সার্কেল) মোসফেকুর রহমানের এমন কর্মকান্ডে গত অক্টোবর মাসের উপজেলা আইন শৃঙ্খলা মিটিং বয়কট করে সকল জনপ্রতিনিধিগণ। এদিকে সম্প্রতি সময়ে মোবাইল ফোনে যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা খায়রাত আলী সহ সকল মুক্তিযোদ্ধাদের অহেতুক গালিগালাজ করে ঐ পুলিশ কর্মকর্তা। তার এমন কর্মকান্ডে হতভম্ব হয় মুক্তিযোদ্ধারা। এর বিচার চেয়ে গত ৪ অক্টোবর মহাপুলিশ পরিদর্শক বরাবরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন মুক্তিযোদ্ধারা। অন্যদিকে রেজিষ্ট্রেশন বিহীন মোটরসাইকেল জব্দ করার পর টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনা ঐ কর্মকতার কাছে দৈনিক খোলা কাগজের সাংবাদিক বাদল হোসেন তার মতমত জানতে চাইলে জনসম্মুখে ঐ সাংবাদিককে জেল হাজত খাটানো হুমকি দেন তিনি।

জানতে চাইলে এ বিষয়ে পীরগঞ্জ এ.এস.পি (সার্কেল) মোসফেকুর রহমান জানান, কিছুদিন আগে ভোমরাদহ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হিটলার হকের রেজিষ্ট্রেশন বিহীন মোটর সাইকেল আটক করি। তার মোটর সাইকেলে কাগজপত্র ছাড়া মোটরসাইকেল ফেরত না দেওয়ায় আমার বিরুদ্ধে এসব মনগড়া অভিযোগ দিয়েছে। তবে সত্যের জয় নিশ্চিত।

সর্বাধিক পঠিত