Skip to main content

সপ্তাহব্যাপী মধ্যাঞ্চলের বৃহত্তম আসবাবপত্র মেলা শুরু হয়েছে

রিপনচন্দ্র মল্লিক, মধ্যাঞ্চল প্রতিনিধি: দেশের মধ্যাঞ্চলের ভেতরে প্রায় দুইশত বছরের ঐতিহ্যবাহী সবচেয়ে বড় আসবাবপত্র মেলা মঙ্গলবার থেকে কালিপূজাকে কেন্দ্র করে আনুষ্ঠানিক ভাবে শুরু হয়েছে। সপ্তাহব্যাপী মেলায় গৃহস্থালী পণ্যের সমারাহ নিয়ে এই মেলায় খুবই কম দামে কাঠের খাট-পালং, সোফা, চেয়ার-টেবিলে ও শো-কেজ, আলমারিসহ বাঁশ ও বেতের বিভিন্ন সামগ্রী পাওয়া যায়। মেলা কর্তৃপক্ষ আশা করছে, এক সপ্তাহের মেলায় ৫ কোটি টাকার বেশি বেচাকেনা হবে। এদিকে অপ্রীতিকর ঘটনা রোধে মেলাকে ঘিরে বিশেষ নিরাপত্তার ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন আইন শৃংখলা বাহিনীর সদস্য রয়েছেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের পাশে ভূরঘাটার কুন্ডু বাড়ির নামে স্থানীয় কুন্ডু পরিবারের পক্ষ থেকে শ্রী শ্রী শ্যামা কালী পুজা উপলক্ষে প্রায় দুই’শ বছর আগে এই মেলা দীননাথ কুন্ডুু ও মহেশ কুন্ডু প্রবর্তন করেন। বর্তমানে সাত দিনব্যাপী মেলা অনুষ্ঠিত হয়। মেলাকে কুন্ডুবাড়ির কালীমন্দির ও বাড়ির চারপাশে এবং ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের প্রায় এক কিলোমিটার এলাকা ঘিরে বিভিন্ন পন্যের পসরা নিয়ে বসে বিভিন্ন জেলা থেকে আগত ব্যবসায়ীরা। এখানে জিনিসপত্র বিক্রি করতে আসেন ঢাকা-বরিশাল, খুলনা, যশোর, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, শরীয়তপুর, বাগেরহাট, রাজশাহী, নওগাঁ, বগুড়া, নরসিংদী,মাগুরা ও নড়াইলসহ দেশের বিভিন্নস্থানের ব্যবসায়ীরা। তবে সকল জিনিসপত্রের মধ্যে কাঠের ফার্নিচারের মালামাল ও শিশুদের খেলনা সামগ্রীর বেশি বেচাকেনা হয় বলে জানান ব্যবসায়ীরা। এখানে অল্প দামে পন্য সামগ্রী পাওয়ায় দেশ-বিদেশের লাখ লাখ দর্শনার্থী ও ক্রেতার সমাগম হয়। মেলার দোকানী খোকন দাস, শঙ্কর দাস ও রঘুনাথ দে,মধু সোম সহ বেশ কয়েকজন বলেন, এবারের মেলায় শিশুদের খেলনা ও কাঠের জিনিসপত্র বেশি উঠেছে। ক্রেতাদের চাহিদা অনুসারে সব জিনিসপত্র ক্রয় ক্ষমতার মধ্যেই রয়েছে। গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া থেকে মেলায় আসা ক্রেতা নয়ন, সজীব, কালু বলেন, এই মেলায় আমরা প্রত্যেক বছরই কেনাকাটা করতে আসি। তবে এবছর এ মেলা আগের তুলনা বেশি জমবে। মেলা কমিটির সভাপতি ভজন কুন্ডু বলেন, সমীর কুন্ড, গোপাল কুন্ডু, বাসুদেব কুন্ডু, অমল কুন্ডুসহ আমাদের আরো অনেক পূর্বপুরুষ এই মেলা করে আসতেন। আমাদের ঐতিহ্য ধরে রাখতে আমরা প্রতি বছর মেলার আয়োজন করে থাকি। এবছরও হচ্ছে। মেলায় গত বারের চেয়ে বেশি দোকান বসেছে। আশা করছি ৫ কোটি টাকার বেশি বেচা কেনা হবে। এব্যাপারে কালকিনি থানার ওসি মোঃ মোফাজ্জেল হোসেন বলেন, কুন্ডুবাড়ি মেলাকে ঘিরে পুলিশসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছেন।