প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

‘সেদিন থেকে হেফাজত প্রধানের কোন টু-শব্দ শুনেছেন?’

রবিন আকরাম : শেখ হাসিনাকে হেফাজত যে সংবর্ধনা দিলো কিংবা যে তমিজ করলো এগুলো তো একদিনে হয়নি। হেফাজত প্রধান শফী ব্লগারদের খতম করবার দাবী জানিয়েছিলো। সেটি হয়েছে আনসারুল্লা বাংলা টিম নামে একটা দলের নাম সামনে এনে।

ব্লগার হত্যার সাথে সরকার যে পুরোপুরি জড়িত তথা সরকারের বিভিন্ন আইন শৃংখলা বাহিনী যে জড়িত, এটা বুঝবার জন্য আপনাকে রকেট সায়েন্টিস্ট হতে হবে না। মাথায় একটু বুদ্ধি থাকলে কিংবা ছেলেবেলার পাটিগণিতের স্মৃতি মাথায় থাকলে এগুলো বুঝতে পারা সম্ভব। আই কিউ এস, আল কায়েদার বাংলাদেশ শাখা এসব ভুগোল বুঝিয়ে আমাদের যা-ই বলা হোক না কেন, সরকারের বুঝা উচিৎ সবাই বার্লি খায় না।

নাস্তিক ব্লগারদের একটা গোপন লিস্ট বানানো হয়েছে এবং একটা একটা করে কোপানো হয়েছে আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের নাম করে। অভিজিৎ রায় গোপনে দেশে এলে সেটা জেনে যায় খুনীরা, কে কোন লেখা লিখেছে সেটা ছদ্ম নামেও বুঝে ফেলে খুনীরা, নগদের উপর খুন স্বীকার, দায় স্বীকার এগুলো করে ফেলে ফেসবুক ব্যবহার করে, টুইটার ব্যবহার করে কিন্তু ধরা পড়েনা। অথচ শেখ হাসিনার নামে এক শব্দ লেখা হলে সে আন্দামানে গেলেও ধরা পড়ে যায়। আমাদের এত বোকা মনে করবার কারন কি?

কারা কারা নাস্তিকতা বিষয়ক লেখালেখি করে এটা বের করতে ২০১৩ সালে ১৩ সদস্যের একটা টাস্কফোর্স্ক গঠন করা হয়েছিলো বিভিন্ন আইনী সংস্থাকে নিয়ে। আপনারা আমার এই তথ্য ব্যবহার করে একটু গুগল করবেন, বাকিটা আর বলে দিতে হবে না। আপনারাই বুঝবেন।

এতে করে ফলাফল হচ্ছে শফী আর তার দলবল পুরোপুরি ঠান্ডা। ব্লগাররা যেদিন থেকে খুন হওয়া শুরু করেছিলো, সেদিন থেকে কি শফী’র একটা টু শব্দ আপনারা কেউ শুনেছেন? উত্তর হচ্ছে, শোনেন নি।

একই সাথে শফিকে আর তার ছেলেকে চট্রগ্রামের সরকারী প্রায় কয়েকশো বিঘা জমি দিয়ে দেয়া হয়েছে, অর্থ দেয়া হয়েছে, বিভিন্ন সময়ে একোমোডেট করা হয়েছে। ফলে হেফাজতকে নিউট্রিলাইজেশন প্রক্রিয়ায় কোন রকমের ভুল হয়নি বা করা হয়নি সরকারের পক্ষ থেকে।

প্রশ্ন যদি উঠে আসে যে এগুলো কেন করা হয়েছে? তাহলে এর উত্তরও সোজা। বাংলাদেশে নাস্তিকতা, ধর্ম নিয়ে সমালোচনা, সমকামিতা চিন্তা, সমকামিতার অধিকার, ধর্ম নিয়ে পালটা কথা বলবার অধিকার, চিন্তার অধিকার, এর প্রসার এগুলো ৯৫ পার্সেন্ট মুসলিম চরমতম পাপ কর্ম হিসেবে দেখেন। এমন একটা দেশে এই বড় জনগোষ্ঠীকে কেন খেপিয়ে তোলা হবে? রাজনীতিবিদেরা কেন নিজেদের পায়ে কুড়াল মারবেন? কয়টা নাস্তিক আছে বাংলাদেশে, এদের ভোট কি হেফাজতের মত বড়? হাতে গুনলে ৫ হাজার ধর্মে অবিশ্বাসী পাওয়া যাবে “হয়ত” দেশে।

হেফাজতের মত এমন বড় একটা ভোট ব্যাংক বি এন পির হাতে থাকবে আর এটা নিয়ে এরা রাজনীতি করবে, খেলবে, এটা এই সরকার কেন মানবে? ফলে হেফাজতকে আওয়ামীলীগ তাদের দলে টানবার সকল চেষ্টা করবে, এটাই স্বাভাবিক।

(লেখক ও কলামিস্ট নিঝুম মজুমদার)

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ