প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আমতলী পৌর শহরে চুরি ডাকাতির হিড়িক, এক মাসে ২৭ বাড়ী ও দোকনে চুরি-ডাকাতি।

মোঃ জয়নুল আবেদীন, আমতলী (বরগুনা) : আমতলী পৌর শহরে চুরি-ডাকাতির হিড়িক পড়েছে। গত এক মাসে দুই বাড়ীতে ডাকাতি ও ২৫ বাড়ী ও দোকানে চুরির ঘটনা ঘটেছে। রবিবার গভীর রাতে আমতলী পৌর শহরের বাঁধঘাট চৌরাস্তা পুলিশ বক্সের ৫০ গজ দুরে মাছ বাজার এলাকার মাহমুদা নিবাসে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এতে আতঙ্ক বিরাজ করছে পৌরসভার বিশ হাজার মানুষের। চোর ও ডাকাতের কবল থেকে রক্ষায় উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ দাবী করেছেন পৌরবাসী।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ ডাকাতি হলেও পুলিশ ডাকাতি মামলা নিচ্ছে না এবং আসামী গ্রেফতার করছে না। তারা আরো অভিযোগ করেন পুলিশ ও পৌর পুলিশের টহল জোরদার না থাকায় একের পর এক চুরি-ডাকাতির ঘটনা ঘটছে।

জানাগেছে, রবিবার গভীর রাতে আমতলী পৌর শহরের বাঁধঘাট চৌরাস্তায় পুলিশ বক্সের ৫০ গজ দূরে মাছ বাজার এলাকার মাহমুদা নিবাসের পেছনের দরজা ভেঙ্গে ১০/১২ জন মুখোশধারী ডাকাত দল ঘরে প্রবেশ করে। ওই ঘরের মালিক পুলিশের এএসআই মোঃ ইব্রাহিম খলিল মিরাজের কক্ষ ভেঙ্গে ফেলে। এ সময় ঘরে থাকা মিরাজের মা রওশনারা বেগম, স্ত্রী উম্মে হানি মুক্তা ও তার দুই শিশু কন্যাকে একটি কক্ষের মধ্যে দেশীয় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে রাখে। পরে ঘরের তিনটা আলমিরা, সুটকেস ও ওয়ারড্রোপ ভেঙ্গে তছনছ করে ফেলে এবং নগদ ৩৫ হাজার টাকা, ৫ ভরি স্বর্নালংকার ও দুটি মোবাইল সেট নিয়ে যায়। গত ২৩ অক্টোবর রাতে উপজেলা আওয়ামীলীগ দপ্তর সম্পাদক ও মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেন ফকিরের বাড়ীকে একইভাবে পরিবারের লোকজন জিম্মি করে ঘরে থাকা তিন লক্ষ টাকা ও স্বর্নাংকার নিয়ে যায়। গত ১২ দিনে পৌর শহরের দুই বাড়ীতে ডাকাতির ঘটনায় পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি।

এছাড়া গত অক্টোবর মাসে আমতলী পৌর শহরের ৩নং ওয়ার্ডের বটতলা হামিম ইলেকট্রনিক্স, ইমরান স্টোর, সাবিহা ট্রেডার্স, সোহরাবের মনোহরদি দোকান ও ইসমাইল মাষ্টারের পার্সের দোকান, একে স্কুল সড়কের রুবেল শিকদার, রাহাত পঞ্চায়েত, আমতলী মহিলা কলেজ সড়কের আরডিএফ অফিসের দোতালায় খুলনা দিগুলিয়া থানার ওসি মোঃ হাবিবুর রহমানের বাসা, ৮নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মেনহাজ উদ্দিন চৌকিদার, হারুন হাওলাদার, ৫ নং ওয়ার্ডের ধীমান, জসিম, মিলন, বাহাদুর, বারেকের বাসা ও সুমনের দোকানসহ ২৫টি বাড়ী ও দোকানে চুরির ঘটনা ঘটেছে। এ সকল ঘটনায় চোর ও ডাকাত চক্র অধোরাই রয়ে যাচ্ছে এমন অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। ভুক্তভোগীদের আরো অভিযোগ একের পর এক চুরি ও ডাকাতির ঘটনা ঘটলেও পুলিশ কোন অপরাধীকে গ্রেফতার করতে পারছে না। অপরাধীদের আইনের আওতায় না আনায় একের পর এক ঘটনা ঘটে যাচ্ছে। এদিকে পৌর শহরে চুরি ডাকাতি হলেও আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো বলে দাবী করছেন পুলিশ কর্তৃপক্ষ।

মাহমুদা নিবাসের মালিক পুলিশের এএসআই ইব্রাহিম খলিল মিরাজ বলেন, রাত পৌনে দুইটার দিকে পেছনের দরজা ভেঙ্গে ঘরে প্রবেশ করে ডাকাত দল। আমার কক্ষের দরজা ভেঙ্গে মুখোশধারী ডাকাত দল পরিবারের সকলকে দেশীয় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে একটি কক্ষে আটকে রাখে। পরে তারা ঘরে থাকা সকল আলমিরা, সুটকেস ও ওয়ারড্রোপ ভেঙ্গে নগদ ৩৫ হাজার টাকা, ৫ ভরি স্বর্নালংকার ও দু’টি মোবাইল সেট নিয়ে গেছে।

আমতলী উপজেলা আওয়ামীলীগ দপ্তর সম্পাদক ও মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার ফকির বলেন, আমার বাড়ীতে ডাকাতি হলেও পুলিশ আজ পর্যন্ত ডাকাতি মামলা নেয়নি এবং কোন আসামী গ্রেফতার করেনি। তিনি আরো বলেন, ডাকাতি মামলা করার জন্য থানায় গিয়েছিলাম ওসি ডাকাতি মামলা না নিয়ে চুরি মামলা করতে বলেছে তাই আমি কোন মামলা করিনি।
আমতলী পৌরসভার ৫ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন ফরহাদ বলেন, আমার ওয়ার্ডের ১০ বাড়ীতে চুরি হয়েছে। তিনি আরো বলেন, ঘটনার পরপর পুলিশ এসে ঘটনা তদন্ত করে গেলেও কোন অপরাধী গ্রেফতার হচ্ছে না।

আমতলী থানার ওসি মোঃ আলাউদ্দিন মিলন বলেন, এ সকল ঘটনায় কোউ অভিযোগ দেয়নি। কোন অভিযোগ পেলে তাৎক্ষনিক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ