প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ব্লাসফেমি আইনে পাকিস্তান ছাড়তে হলো যাদেরকে !

অনলাইন ডেস্ক : পাকিস্তানের ধর্মীয় সংখ্যালঘু ও অধিকার কর্মীরা ব্লাসফেমির অভিযোগ সামনে আনার জন্য সবসময় দেশটির সেনাবাহিনীরই সমালোচনা করে থাকে।

দেশটিতে ব্লাসফেমির শাস্তি মৃত্যুদণ্ড, তবে আইনি শাস্তির বাইরেও ব্লাসফেমির অভিযোগে কয়েকজনকে খুন হতে হয়েছে ক্রুদ্ধ গোষ্ঠীর হাতে।

এখন নতুন করে বিতর্কিত এই আইনটি আলোচনায় এসেছে খ্রিস্টান নারী আসিয়া বিবি’র ঘটনাকে ঘিরে।

তাঁর আইনজীবী মনে করছেন, চার সন্তানের জননী এই নারী ও তার পরিবারকে নিরাপত্তার জন্যই এখন দেশ ছাড়তে হবে।

কিন্তু পাকিস্তানে এমন পরিস্থিতির উদাহরণ একমাত্র আসিয়া বিবিই নন, বরং একই ধরণের অভিযোগ তুলে পাকিস্তান ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে আরও অন্তত চারজনকে।

১. জন (ছদ্ম নাম) খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের একজন সুপরিচিত নাম যিনি পাকিস্তানেই ব্যাংকিং পেশায় কর্মরত ছিলেন এবং রাজনীতিও করতেন।

এই ব্যক্তির জীবনই পাল্টে যায় যখন তার মাত্র তের বছর বয়সী সন্তানকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ না করায় ব্লাসফেমির দায়ে অভিযুক্ত করা হয়।

এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি স্ত্রী ও দু সন্তানসহ যুক্তরাজ্যে শরণার্থীর জীবন যাপন করছেন কিন্তু ওই অভিযোগ এখনো তার পিছু ছাড়ছেনা।

 

 ২. আসিম সাইদ পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ সুন্নি সম্প্রদায়েরই সদস্য।

কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ায় পাকিস্তানী সামরিক বাহিনীর সমালোচনা করে পোস্ট দেয়ার পরই তিনি টার্গেটে পরিণত হন।

২০১৭ সাল ‘রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা’ যে পাঁচজন ব্লগারকে অপহরণ করে বলে অভিযোগ উঠেছিলো আসিম ছিলেন তাদেরই একজন।

পরে ব্লাসফেমির অভিযোগ করা হয় যা তিনি প্রত্যাখ্যান করেন।

 

 ৩. তাহির মাহদি আহমদিয়া মুসলিম সম্প্রদায়ের সদস্য। তিনি তার সম্প্রদায়ের সমর্থনে কাজ করে এমন একটি পত্রিকার প্রকাশক ও ব্যবস্থাপক ছিলেন।

সত্তরের দশকেই আহমদিয়াদের অমুসলিম ঘোষণা করা হয় পাকিস্তানে।

তাহিরের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয় যে তিনি এমন কিছু প্রকাশ করেছেন যা ধর্ম অবমাননাকর।

যদিও এ অভিযোগ তিনি প্রত্যাখ্যান করেছেন। কিন্তু এ অভিযোগেই তাকে আড়াই বছর জেল খাটতে হয়।

 

৪. জাহিদা’র বাবা হামিদুল্লাহ রেহমাতুল্লাহ খুবই জনপ্রিয় একজন দন্ত চিকিৎসক ছিলেন।

সমাজের সব স্তরের রোগীই তার ছিলো ও তারাও তাকে ভালোবাসতো। তার মতে, ধর্মান্ধরা তাকে ঘৃণা করতো শুধু তিনি আহমদিয়া সম্প্রদায়ের বলে। তিনি নিজের মতো করে প্রার্থনা ঘর তৈরি করেছিলেন আর এটাকেই আখ্যা দেয়া হয়েছিলো ব্লাসফেমি হিসেবে।

 

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ