Skip to main content

ইভিএম ক্রয়ে কম বাস্তবায়নযোগ্য উন্নয়ন প্রকল্প থেকে অর্থ সংস্থানের পরামর্শ

সোহেল রহমান : কোনো বিশেষ প্রকল্পের অনুকূলে অর্থ বরাদ্দ দেয়ার রেওয়াজ না থাকায় নির্বাচন কমিশন কর্তৃক ‘ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন’ (ইভিএম) ক্রয়ের প্রস্তাব ফেরত পাঠিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ। জানা যায়, ‘নির্বাচন ব্যবস্থায় তথ্য-প্রযুক্তি প্রয়োগের লক্ষ্যে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ইভিএম কেনার জন্য সরকারের কাছে ২ হাজার কোটি টাকা চেয়েছিল নির্বাচন কমিশন। কিন্তু অর্থ বিভাগের ব্যয় ব্যবস্থাপনা খাতে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকা এবং কোনো বিশেষ প্রকল্পের অনুকূলে অর্থ বরাদ্দ দেয়ার রেওয়াজ না থাকায় প্রস্তাবটি ফেরত পাঠানো হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের প্রস্তাবের জবাবে ইভিএম ক্রয়ে পরিকল্পনা কমিশনের অপেক্ষকৃত কম বাস্তবায়নযোগ্য কোনো উন্নয়ন প্রকল্প থেকে অর্থ সংস্থানের পরামর্শ দিয়েছে অর্থ বিভাগ। অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, সাধারণত অর্থ বিভাগ থেকে ‘কার্যক্রম বিভাগ’-কে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি)/সংশোধিত এডিপি (আরএডিপি)-এর জন্য সম্পদের আকার নির্ধারণ করে দেয়া হয়। কার্যক্রম বিভাগ ওই সম্পদ সীমার মধ্যে বিভিন্ন প্রকল্পের অনুকূলে অর্থ বরাদ্দ দেয়। রাজস্ব খাতের আওতায় জরুরী প্রয়োজনে ব্যয় নির্বাহের জন্য অর্থ বিভাগের ব্যয় ব্যবস্থাপনা খাতে সীমিত পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ থাকে। চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ব্যয় ব্যবস্থাপনা খাতে বরাদ্দের পরিমাণ ছিল ২ হাজার কোটি টাকা। যা ইতোমধ্যে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ছোট-খাটো আর্থিক দাবি পূরণে প্রায় শেষ হয়ে এসেছে। এ অবস্থায় চলতি অর্থবছরে এডিপি-তে অন্তর্ভূক্ত কম বাস্তবায়ন অগ্রগতি সম্পন্ন প্রকল্প থেকে ইভিএম প্রকল্পের জন্য অর্থ বরাদ্দের বিষয়টি বিবেচনা করা যায়। চলতি অর্থবছরে আরএডিপি’র সম্পদের আকার নির্ধারণের ক্ষেত্রে উল্লেখিত পুনঃউপযোজনের মাধ্যমে বরাদ্দকৃত অর্থ সমন্বয়যোগ্য। প্রসঙ্গত: আসন্ন নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের প্রকল্পটি গত ১৮ সেপ্টেম্বর একনেক বৈঠকে অনুমোদন দেয়া হয়। প্রকল্পের আওতায় দেড় লাখ ইভিএম কিনতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৮২৫ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। প্রকল্পের বাস্তবায়নের মেয়াদকাল চলতি অর্থবছর থেকে ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায়, তিন ধাপে দেড় লাখ ইভিএম কেনা হবে। চলতি অর্থবছরে ৫০ হাজার ইভিএম কেনা হতে পারে। প্রতিটি ইভিএম-এর কন্ট্রোল ইউনিট-এর সঙ্গে ২টি করে ব্যালট ইউনিট কেনার প্রস্তাব করা হয়েছে। ইঅিএম-এর ওয়ারেন্টি ১০ বছর পর্যন্ত পাওয়া যাবে।