প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ভারতের সঙ্গে আমাদের বন্ধন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ

তরিকুল ইসলাম : ভারতের সঙ্গে আমাদের বন্ধন চিরন্তন এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভারত আমাদের প্রতিবেশী নয়, ভারতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক অনেক গভীর এবং আত্মিক। প্রায় সারা ভারতের সঙ্গেই আমাদের সাংস্কৃতিক মিল রয়েছে।

সাংস্কৃতিক বন্ধনের পাশাপাশি অর্থনৈতিক বন্ধনটাও বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে ক্রমান্বয়ে উন্নতি হচ্ছে। তবে নি:সন্দেহে সাংস্কৃতিক বন্ধন গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। দুই প্রতিবেশীর মধ্যে সম্পর্ক গভীর থেকে গভীরতর হচ্ছে। এটা আজকে প্রতিষ্ঠিত সত্য।

জাতীয় জাদুঘরের সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে রোববার অনুষ্ঠিত ‘সংস্কৃতির বন্ধনই হোক বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কেও মূলভিত্তি’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।
দৈনিক প্রতিদিনের সংবাদ ও ইন্দিরা গান্ধী সাংস্কৃতিক কেন্দ্র যৌথভাবে সেমিনারের আয়োজন করে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ.ক.ম. মোজাম্মেলন হক বলেন, বাংলাদেশ-ভারতের সম্পর্ক বহু যুগের বহু শতাব্দীর। আমরা একই দেশ ছিলাম। ১৯৪৭ সালে ভারত-পাকিস্থান এবং বাংলাদেশ বিভক্ত হয়। পরবর্তীতে পাকিস্থানের জুলুম অত্যাচার, শোষণ-নির্যাতন এবং বিশেষ করে ভাষার ওপর হামলা ইত্যাদি কারণে আমাদের মহান নেতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে সারা বাঙ্গালী জাতি ঐক্যবদ্ধ হয়ে আমরা বাংলাদেশকে স্বাধীন করি।

আমাদের এই স্বাধীনতা সংগ্রামে প্রয়াত ভারতের মহীয়সী সাবেক প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধী ভারতের সরকার এবং ভারতের জনগণ সেদিন আমাদের পাশে যেভাবে দাঁড়িয়ে ছিলেন, এমনিভাবে না দাঁড়ালে মাত্র নয় মাসে আমরা দেশ স্বাধীন করতে পারতাম না। আমাদের এক কোটি শরণার্থীকে আশ্রয় দেওয়া, মুক্তিযোদ্ধাদের ট্রেনিং দেওয়াসহ অস্ত্রের যোগান দিয়েছিল। সর্বপরি মিত্র বাহিনী গঠন করে একত্রে যুদ্ধ করে বাংলাদেশকে আমরা পাকিস্থানী হানাদারমুক্ত করি।

তিনি বলেন, ভারতের সাথে আমাদের সাংস্কৃতিক মিল রয়েছে। পঁচাত্তর পরবর্তী সময়ে খুনি মোশতাক, জিয়ারা আবার সাম্প্রদায়িকতার লালন-পালন শুরু করে। এর মাধ্যমে আবারও আমাদের মধ্যে বৈরী সম্পর্ক তৈরী করার চেষ্টা করেছে। তবে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি ক্ষমতায় এসে সেই সাম্প্রদায়িকতার উন্মাদনাকে শুধু স্থিমিতই করেনি বরং ধ্বংস করে দিয়েছে। সেজন্য আমাদের মধ্যে চমৎকার সম্পর্কের উন্নয়ন ঘটছে। এতে সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে পরিবর্তন ঘটেছে। দুই প্রতিবেশীর মধ্যে সম্পর্ক গভীর থেকে গভীরতর হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

বিদ্যুৎ, জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় কমিটির সভাপতি মো. তাজুল ইসলাম এমপি শুভেচ্ছা বক্তব্যে বলেন, দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে বিদ্যমান সাংস্কৃতিক বন্ধনকে আরো সুদৃঢ় করার উদ্দেশ্য নিয়ে আজকের এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। ভারতের সঙ্গে আমাদের বন্ধন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জাতিরজনক বঙ্গবন্ধুর ডাকে আমরা যখন স্বীনতার যুদ্ধে অবতীর্ণ হলাম। তখন পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর অত্যাচার, নির্যাতন থেকে বাঁচার একটি মাত্র জায়গা ছিল; সেটা হল ভারত।

এজন্য আমরা ভারতের কাছে কৃতজ্ঞ। ভারত সেদিন আমাদেরকে মানবতার কারণে এদেশের প্রায় এক কোটি মানুষকে আশ্রয় দিয়ে ছিল। এ কারণে আমরা তাদের কাছে ঋণী। তাছাড়া স্বাধীনতার পরে জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু সারা বিশ্বের সাথে সু-সম্পর্ক গড়ে তুলাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে ছিলেন। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর নির্মম হত্যা কান্ডের পরে যেসব শাসক গোষ্ঠী ওই সময় ক্ষমতায় এসেছিল, তারা এই উপমহাদেশে পরস্পর বৈরী মানসিকতা তৈরীর চেষ্টা করেছিল বলে জানান তিনি।

তিনি আরো বলেন, বর্তমানে বাস্তবতা হল প্রতিবেশী সঙ্গে সম্পর্ক যদি আমরা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি করতে সক্ষম না হই,অত্যন্ত বন্ধু সুলভ না থাকে; তাহলে আমাদের একসঙ্গে বসবাস করে এগিয়ে যাওয়াটা অত্যন্ত দূরহ হবে। এটা আজকে প্রতিষ্ঠিত সত্য। কারণ আমাদের অনেক উদ্বৃত্ত সম্পদ আছে। আবার প্রতিবেশীর কাছে অনেক উদ্বৃত্ত সম্পদ আছে যা আমাদের কাছে নাই। তার উদ্বৃত্ত সম্পদ আবার তার প্রয়োজন নেই। অন্যদিকে ওই সম্পদের আমাদের প্রয়োজন আছে। তাই আমরা যদি উভয়ে মিলে-মিশে শেয়ার করতে পারি; তারাও লাভবান হতে পারে; অন্যদিকে আমরাও লাভবান হতে পারি। আর মিলে-মিশে বসবাস করার মধ্যেই রয়েছে সম্মৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক মুক্তি।

অ্যাডভোকেট সানজিদা খানম এমপি বলেন, প্রতিবেশী দেশ ভারতের সঙ্গে আমাদের সংস্কৃতির ঐতিহ্যগত সম্পর্ক রয়েছে। তবে এখন সংস্কৃতির সম্পর্কটাকে আরো জোড়ালো করতে হবে ভারতকে। তিনি ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার একটা উদাহরণ দিয়ে বলেন, আমি ওই সময় কলকাতায় ছিলাম। প্রতিদিনের মতো সকালে ফোন দিয়ে বাসার খোজখবর নিলাম। ওই দিন বিকেলে হঠাৎই শোনলাম গ্রেনেড হামলার কথা। সঙ্গে সঙ্গে হোটেলের টিভি রুমে গিয়ে বিভিন্ন চ্যানেলগুলো দেখতে শুরু করলাম। কিন্তু কোন চ্যানেলে এ খবরটি সম্প্রচার করছে না। শুধু একটা চ্যানেল ২০ সেকেন্ডের একটা ভিডিও দেখিয়েছিল। আমি ভারতের উদ্দেশ্য বলব, প্রতিবেশী রাষ্ট্রের চ্যানেলগুলো সম্প্রচারের উদ্যেগ নেন। তাহলে দুই দেশের সাংস্কৃতিক বিনিময় আরো বাড়বে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় কমিটির সভাপতি মো. তাজুল ইসলাম এমপি’র সভাপতিত্বে এতে আরো বক্তব্য রাখেন, জাতীয় অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম। এ্যাডভোকেট নূরজাহান মুক্তা, ইন্দিরা গান্ধী সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের পরিচালক ড. নীপা চৌধূরী। বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মিডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ডা: শহীদুল্লাহ শিকদার প্রমূখ