প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

‘স্বল্প পরিসর’, বিষয়টা কি?

মাসুদ কামাল : জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে সংলাপের রাজনীতি বেশ জমে উঠেছে। এর মধ্যে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নামের প্রধান বিরোধী জোট এক দফা বৈঠকে বসেছে, আরও একবার আলোচনার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। বলেছে, এবার তারা স্বল্প পরিসরে বসতে চায়। আবার সংলাপ যে হতে পারে, তার ইঙ্গিত আগেও পাওয়া গিয়েছিলো। কিন্তু ‘স্বল্প পরিসর’ বলতে ঠিক কি বোঝনো হয়েছে, সেটা অনেকের কাছেই পরিষ্কার নয়। একবার মনে হলো, এবার কি তাহলে দফার সংখ্যা কমবে? আগে ছিলো সাত দফা। সংলাপ শেষে দুই পক্ষের বক্তব্য থেকে যতোটুকু বোঝা গেছে, একেবারে প্রথম দফাটিই পাত্তা পায়নি সরকারের কাছে। সে দফায় বেগম খালেদা জিয়াসহ সকল রাজবন্দির মুক্তি চাওয়া হয়েছিলো। বলা হয়েছিলো, বর্তমান সরকারের পদত্যাগ ও জাতীয় সংসদ বাতিলের কথা। বলা বাহুল্য এর কোনোটিই মানেনি সরকার পক্ষ। অপর ছয়টি দাবির মধ্যে বেশ কয়েকটির বিষয়েই সরকারের নমনীয় মনোভাব টের পাওয়া গেছে। তাহলে কি আগামী বৈঠকে কেবল ওই প্রথম দফাটি নিয়েই আলোচনা হবে? স্বল্প পরিসর বলতে কি তাহলে স্বল্প দফাকেই বোঝানো হয়েছে?

আবার মনে হলো পরিসর বলতে দফা নয়, বোধকরি বৈঠকে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যার কথা বলা হয়েছে। প্রথমবার সংলাপে ঐক্যফ্রন্টের পক্ষে অংশ নিয়েছিলেন ২০ জন। এদের মধ্যে বিএনপির ৬ জন, গণফোরামের ৬ জন, জেএসডির ৩ জন, অন্যান্য দলের ৫ জন। এদের মধ্যে এমন অনেকে ছিলেন যাদের নাম অতি রাজনীতি সচেতন ব্যক্তিও হয়তো এবারই প্রথম শুনলেন। এতো বিশাল বহরের সবাই কি সেদিন বৈঠকে কথা বলেছিলেন? নাকি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে নিছক সৌজন্য সাক্ষাৎই ছিলো অনেকের প্রধান উদ্দেশ্য? এসব প্রশ্নের উত্তর দেওয়া কঠিন। কারণ বৈঠকটি ছিলো রুদ্ধদ্বার। আলোচনার সময় সেখানে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার ছিলো না। আর বৈঠকের আলোচনা নিয়ে তো সবাই যার যার মতো করে কথা বলছেন।

‘স্বল্প পরিসর’ বলতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নতুন মুখপাত্র মির্জা ফখরুল যা-ই বুঝিয়ে থাকুন না কেন, আমরা সাধারণ মানুষ চাইবো দফা এবং লোক দুটোই কমে যাক। এতে আলোচনার যেমন সুবিধা হবে, সময়ও বাঁচবে সকলের।

লেখক : সিনিয়র নিউজ এডিটর, বাংলাভিশন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ