প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

রাজশাহী নগরীতে ফুটপাত বেদখল, রাসিকের ব্যাখ্যা চেয়েছেন আদালত

বাংলা ট্রিবিউন : রাজশাহী নগরীর বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বেদখল করে ফুটপাতের ওপর দোকান তৈরি করে ব্যবসা করছে একশ্রেণির মানুষ। এতে নিরাপদভাবে পথচারীরা ফুটপাত ব্যবহার করতে পারছে না। ফলে রাস্তা দিয়ে পথচারীরা যাতায়াত করায় দুর্ঘটনায় পড়ছে। এই অবস্থায় ‘কেন নগরীর ফুটপাতগুলো বেদখলমুক্ত ও নিরাপদ চলাচলের জন্য উপযুক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না?

দীর্ঘদিন ধরে এই অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে কেন আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না?’ জানতে চেয়ে ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২৫-এর বিধান মোতাবেক স্বতঃপ্রণোদিতভাবে মেট্টোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জাহিদুল ইসলাম আগামী ১২ নভেম্বর রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, প্রধান প্রকৌশলী, ৮ ও ১২ নম্বর কাউন্সিলরকে আদালতে হাজির হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দেওয়ার আদেশ প্রদান করেছেন।

একই সঙ্গে আদেশের অনুলিপি প্রদান করা হয়েছে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র, পুলিশ কমিশনার, রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক, বোয়ালিয়া, রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে।

এ বিষয়ে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ মোমিন বলেন, ‘আমরা আদালতের আদেশনামা পেয়েছি। নির্ধারিত তারিখে হাজির হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা প্রদান করা হবে। আইনজীবীর মাধ্যমে সে প্রক্রিয়া আমরা গ্রহণ করেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘ফুটপাত ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য নয়। পথচারীদের জন্য তৈরি করা হয়েছে। তাই বেদখল ফুটপাত থেকে দোকান উচ্ছেদ করা হবে। এজন্য প্রথমে আমরা মাইকিং করব। এরপর ফুটপাত দখলমুক্ত না হলে আইনানুগ ব্যবস্থার মাধ্যমে উচ্ছেদ করা হবে। এ ব্যাপারে আমরা আন্তরিক। কিন্তু আমাদের ম্যাজিস্ট্রেট নেই। এজন্য একটু সমস্যা হয়।’

গত ২৪ অক্টোবর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জাহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত রাজশাহী মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট-৩ আদালত থেকে ইস্যুকৃত ওই আদেশনামায় বলা হয়েছে, ‘রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের সামনের সড়কের, সাহেববাজারের পুরো ফুটপাতসহ নগরীর প্রায় সব ফুটপাত বেদখল হয়ে আছে। সেখানে বিভিন্ন ধরনের ব্যবসায়ী দোকান বসিয়ে পথচারীদের চলাচলের পথ অবরুদ্ধ করে নানান সামগ্রী বিক্রি করছে। এছাড়া রাস্তার পাশে নতুন করে বিভিন্ন ভবন নির্মাণের সময় নির্মাণসামগ্রী যত্রতত্রভাবে ফুটপাত দখল করে রাখা হচ্ছে। এতে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ ও জনবহুল এলাকার ফুটপাতগুলো জনগণের চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। এমনকি জনগণ নিরাপদভাবে ফুটপাত ব্যবহার করে চলাচল করতে পারছে না। এর ফলে জনগণ চলাচলের সময় ফুটপাত ব্যবহার করতে না পেরে মূল রাস্তা দিয়ে হাঁটছে। এতে তারা দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। অথচ নিরাপদ সড়ক নিশ্চিতকরণের জন্য বর্তমান সরকার নানা ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। এটি বর্তমান সরকারের একটি বড় চ্যালেঞ্জ। নিরাপদ সড়ক নিশ্চিতে রাজশাহী সিটি করপোরেশন থেকে প্রায় ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে নগরীর ভেতরে বিভিন্ন রাস্তার পাশে টাইলস দিয়ে ফুটপাত বাঁধানো হয়েছে।’

‘এই অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে নগরীর পথচারীদের জন্য নির্মিত ফুটপাত বেদখল ও ব্যবহারে বাধার সম্মুখীন হওয়ার কারণে দুর্ঘটনার শিকার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আর এর দায় কোনোভাবে রাজশাহী সিটি করপোরেশন ও মহানগর পুলিশ এড়াতে পারে না।’

‘এই বিষয়ে প্যানেল কোডের ২৮৩, ২৮৮ ও ২৯০ ধারায় যদি কোনও ব্যক্তি সরকারি রাস্তায় কারও বিপদ সৃষ্টি করে বা বাধার সৃষ্টি করে বা দালান মেরামত করার কাজে অবহেলামূলক আচরণ করে বা জনসাধারণের উপদ্রবের সৃষ্টি করে তবে তার দণ্ডের কথা উল্লেখ আছে। এছাড়া রাজশাহী মহানগরীর পুলিশ আইন ১৯৯২-এর ৭৫ ধারায় রাস্তা বা সাধারণের ব্যবহার্য স্থানে গৃহনির্মাণ সরঞ্জাম ও অন্যান্য জিনিস রাখার দণ্ডের কথা বলা আছে। তাই আইনের সুস্পষ্ট বিধান থাকা সত্ত্বেও কেন ফুটপাতগুলো বেদখল হওয়া ঠেকানো যাচ্ছে না এবং কেন নিরাপদ ফুটপাত নিশ্চিত করা যাচ্ছে না, তা এই আদালতের কাছে বোধগম্য নয়।’

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ