প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

পতনের ধারায় ঋণ প্রবৃদ্ধি

আমাদের সময় :  বর্তমানে সতর্ক ভঙ্গিতে ঋণ বিতরণ করছে ব্যাংকগুলো। ফলে ঋণ প্রবৃদ্ধির হার ক্রমেই কমে চলেছে। সর্বশেষ হিসাবে, গত সেপ্টেম্বরে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি হয় ১৪ দশমিক ৬৭ শতাংশ, যা গত ৩৩ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। ব্যাংকাররা বলছেন, নির্বাচনী বছর সতর্কতা এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা পরিপালন করতে গিয়ে ঋণ বিতরণ কমছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের সেপ্টেম্বরের শেষে বেসরকারি খাতে ব্যাংকগুলোর ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯ লাখ ১৮ হাজার ৭৪৫ কোটি টাকা। আগের অর্থবছরের একই মাসে এ ঋণ ছিল ৮ লাখ ১ হাজার ২২৫ কোটি টাকা। এক বছরের ব্যবধানে ঋণ বিতরণ বেড়েছে ১ লাখ ১৭ হাজার ৫২০ কোটি টাকা বা ১৪ দশমিক ৬৭ শতাংশ। এর আগে ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি ছিল ১৪ দশমিক ১৯ শতাংশ। এরপর কখনো ঋণের প্রবৃদ্ধি এত কম হয়নি।
গত অর্থবছরের শুরু থেকেই আগ্রাসীভাবে ঋণ বিতরণ শুরু করে ব্যাংকগুলো। প্রথমার্ধের পর কেন্দ্রীয় ব্যাংক নানাভাবে লাগাম টানার চেষ্টা করে। এর পরও অর্থবছর শেষে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি হয় ১৭ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের শুরু থেকেই ঋণ বিতরণের প্রবৃদ্ধি কমতে থাকে। বাজেটে ঘোষিত ৭ দশমিক ৮ শতাংশ দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) বেসরকারি খাতে ১৬ দশমিক ৮ শতাংশ হারে ঋণ বৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। কিন্তু প্রথম মাস জুলাইয়ে বেসরকারি খাতে ঋণ বেড়েছে ১৫ দশমিক ৮৭ শতাংশ, যা মুদ্রানীতিতে ঘোষিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় ১ শতাংশীয় পয়েন্ট কম। আগস্টে তা আরও কমে হয় ১৫ দশমিক ৮৭ শতাংশ, যা গত ৩১ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন।
বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) প্রেসিডেন্ট ও ঢাকা ব্যাংকের
এমডি সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, মূলত ৩টি কারণে ঋণ বিতরণ কম হয়েছে। প্রথম ঋণের সুদহার কমানোর চেষ্টা চলছে। দ্বিতীয়ত, নির্বাচন কাছে আসায় প্রকৃত উদ্যোক্তাদের চাহিদা কম এবং ব্যাংকগুলো কিছুটা সতর্ক। তৃতীয়ত, এডিআর সীমা লঙ্ঘিত হওয়ায় তা নিয়মের মধ্যে আসার প্রচেষ্টা, যার ফলে গত অর্থবছরে মুদ্রানীতির লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ঋণ বিতরণ বাড়লেও জুলাই লক্ষ্যমাত্রার অনেক নিচে রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, আমদানি বৃদ্ধিসহ কিছু কারণে গত বছরের মাঝামাঝি থেকে ঋণ চাহিদা ব্যাপক বাড়তে থাকায় তারল্যের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়। এক অঙ্কের নিচে নেমে আসা ঋণের সুদহার বেড়ে দুই অঙ্কে উঠে যায়। অনেক ব্যাংক ১০ শতাংশের বেশি সুদে আমানত নিতে শুরু করে। এর মধ্যে ৩০ জানুয়ারি ব্যাংক খাতের এডিআর কমিয়ে দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। আবার ব্যাংক মালিকদের সংগঠন বিএবি গত ২০ জুন এক বৈঠক থেকে ৯ শতাংশ সুদে ঋণ বিতরণ এবং ৬ শতাংশ সুদে আমানত নেওয়ার ঘোষণা দেয়। এর পর আশানুরূপ হারে আমানত পাচ্ছে না অধিকাংশ ব্যাংক। বর্তমানে যেসব ব্যাংকের এডিআর নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার ওপরে রয়েছে, নানা উপায়ে তারা তা সমন্বয়ের চেষ্টার ফলে নতুন করে ঋণ বিতরণ করতে পারছে না। এডিআর যেন বেড়ে না যায় এ জন্য লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে থাকা ব্যাংকগুলোও সতর্কতার সঙ্গে ঋণ বিতরণ করছে। সব মিলিয়ে ব্যাপক চাপে পড়ে ব্যাংকগুলো আগের মতো আর ঋণ বাড়াতে পারছে না।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ