প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সংসদ নির্বাচন : চট্টগ্রামে সম্ভাব্য প্রার্থীর ৯০ শতাংশই ব্যবসায়ী

বনিক বার্তা  :  রাজনীতিক-আইনজীবীরাই একসময় আইনসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠ ছিলেন। নব্বইয়ের দশক থেকে এ ধারায় পরিবর্তন আসতে থাকে। কমতে থাকে রাজনীতি ও আইন পেশা থেকে আসা সংসদ সদস্যদের প্রতিনিধিত্ব। সংখ্যাগরিষ্ঠ হতে থাকেন ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা। ১৯৯১ থেকে শুরু করে ২০১৪ সালের নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সংসদেও ব্যবসায়ীদের প্রতিনিধিত্ব অর্ধেকের বেশি। সারা দেশেই সংসদ নির্বাচনের প্রার্থিতায় ব্যবসায়ীরা এগিয়ে থাকলেও চট্টগ্রামে এ প্রবণতা আরো বেশি। আসন্ন একাদশ সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামে ১৬টি আসনে প্রার্থী হওয়ার চেষ্টা করছেন ১০০-এর মতো ব্যক্তি। এর মধ্যে প্রায় ৯০ জনই ব্যবসায়ী।

চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) সংসদীয় আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন। হোটেল-অবকাশ খাত ও নির্মাণ খাতে বড় ব্যবসা রয়েছে আওয়ামী লীগের এ প্রেসিডিয়াম সদস্যের। এর মধ্যে চট্টগ্রামে হোটেল দ্য পেনিনসুলা ও কক্সবাজারে হোটেল সায়মনের মালিকানায় থাকা এ সংসদ সদস্য আসন্ন নির্বাচনেও একই আসন থেকে প্রার্থী হতে চান।

একই আসন থেকে আওয়ামী লীগের আরেক মনোনয়নপ্রত্যাশী নিয়াজ মোর্শেদ এলিট পরিবহন খাতের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। পরিবহন খাতের অন্যতম প্রতিষ্ঠান বড়তাকিয়া গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তিনি। আসনটিতে বিএনপির প্রার্থী হওয়ার দৌড়ে আছেন বড়তাকিয়া গ্রুপের চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম ইউসুফ। বিএনপির আরেক সম্ভাব্য প্রার্থী ক্লিফটন গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কামাল উদ্দিন। উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি তিনি।

চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) সংসদীয় আসনে আওয়ামী জোট থেকে এবারো মনোনয়ন চাইবেন তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান মুজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারী। উই মোবাইলসহ বিভিন্ন ব্যবসা পরিচালনা করেন তিনি। এ আসনে আওয়ামী লীগ থেকে প্রার্থী হতে চান সাবেক এমপি রফিকুল আনোয়ারের ভাই ফখরুল আনোয়ার। হোটেল ব্যবসা রয়েছে এ সম্ভাব্য প্রার্থীর। আরেক সম্ভাব্য প্রার্থী রফিকুল আনোয়ারের মেয়ে খাদিজাতুল আনোয়ার সানি। ভোগ্যপণ্য, ট্রেডিং, হোটেলসহ পরিবারিক ব্যবসা পরিচালনা করেন তিনি।

বিএনপির ব্যানারে আসনটি থেকে নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহী পেশাজীবী নেতা ডা. খুরশীদ জামিল চৌধুরী। চট্টগ্রামের শীর্ষস্থানীয় ডায়াগনস্টিক সেন্টার সিএসসিআরসহ সেবা খাতে একাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে তার। সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে আগ্রহী ফটিকছড়ি বিএনপির আহ্বায়ক সারওয়ার আলমগীর। পোশাক খাতসহ বিভিন্ন খাতে ব্যবসা রয়েছে সম্ভাব্য এ প্রার্থীর। বিএনপির ব্যানারে নির্বাচন করতে মাঠে রয়েছেন মীর্জা আকবরও, যার রয়েছে ইস্পাত ও পোশাক খাতে ব্যবসা।

চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য মাহফুজুর রহমান মিতা। আসন্ন নির্বাচনেও আওয়ামী লীগের প্রার্থী হতে চান রূপালী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের উদ্যোক্তা। এর বাইরেও বিভিন্ন খাতে ব্যবসা রয়েছে তার। আসনটিতে আওয়ামী লীগের আরেক সম্ভাব্য প্রার্থী লায়ন মিজানুর রহমান। ইটভাটা ও ঠিকাদারি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত তিনি। আওয়ামী লীগের আরেক সম্ভাব্য প্রার্থী ডা. জামাল উদ্দিন চৌধুরীর ডায়াগনস্টিক সেন্টারসহ স্বাস্থ্যসেবা খাতের বিভিন্ন ব্যবসা রয়েছে।

মাহফুজুর রহমান মিতা বণিক বার্তাকে বলেন, সংসদে প্রতিনিধিত্ব করা রাজনৈতিক নেতাদের অধিকাংশই ব্যবসায়ী, এটা সত্য। তবে পারিবারিক কিংবা ব্যক্তিগত ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত থাকলেও একজন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর পুরোদমে তৃণমূল রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েন। ব্যবসা-বাণিজ্য তখন পরিবারের অন্য সদস্যরা দেখাশোনা করেন। ফলে ব্যবসায়ী শ্রেণীর সংসদ সদস্য হওয়ার সংস্কৃতি তৈরি হওয়ায় গণমানুষের রাজনীতিতে এর নেতিবাচক প্রভাব তেমন একটা পড়বে না।

একই আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য মোস্তাফা কামাল পাশা। দীর্ঘদিন ধরে তিনিও ঠিকাদারি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। আরেক সম্ভাব্য প্রার্থী বিএনপির যুক্তরাষ্ট্র শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা কামাল পাশা বাবুল। তিনিও যুক্তরাষ্ট্রে আবাসন ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।

চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড ও সিটি করপোরেশনের ৯, ১০ নং ওয়ার্ড) আসনে আওয়ামী লীগ থেকে এবারো প্রার্থী হতে চান বর্তমান সংসদ সদস্য দিদারুল আলম। তিনি চট্টগ্রামের বনেদি ব্যবসায়ী পরিবার তাহের গ্রুপের পরিচালক। ইস্পাত ও শিপ ব্রেকিংসহ বিভিন্ন খাতে ব্যবসা রয়েছে তাহের পরিবারের।

আসনটি থেকে আওয়ামী লীগের আরেক সম্ভাব্য প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য আবুল কাশেম মাস্টারের ছেলে আব্দুল্লাহ আল মামুন। জাহাজ ভাঙা শিল্পে বড় ব্যবসা রয়েছে তার। আওয়ামী লীগের ব্যানারে প্রার্থী হতে আগ্রহী আব্দুল বাকের ভূইয়া। তিনি সীতাকুণ্ডের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। অন্যান্যবারের মতো এবারো নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা কামাল। জাহাজ ভাঙা, পোশাক শিল্প ও আমদানি-রফতানির ব্যবসা রয়েছে তার।

সীতাকুণ্ডে বিএনপির দুই প্রার্থী নির্বাচনে আগ্রহী। এর মধ্যে বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আসলাম চৌধুরী রাইজিং গ্রুপের কর্ণধার। জাহাজ ভাঙা, আবাসন, জ্বালানিসহ বিভিন্ন খাতে ব্যবসা রয়েছে তার। চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী উপজেলা ও সিটি করপোরেশনের ১, ২ নং ওয়ার্ড) আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হতে দীর্ঘদিন ধরে মাঠে রয়েছেন এমএ ছালাম। তিনি বর্তমান জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। শিপিংসহ বিভিন্ন খাতে ব্যবসা রয়েছে তার। প্রার্থিতার দৌড়ে রয়েছেন ইউনুছ গণিও। কনসালট্যান্সি ফার্মসহ আবাসন খাতে তার ব্যবসা রয়েছে।

আসনটি থেকে বিএনপির ব্যানারে প্রার্থী হতে মাঠে রয়েছেন সাবেক এমপি ওয়াহিদুল আলম চৌধুরীর মেয়ে ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা, সাবেক মেয়র মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিনের ছেলে ব্যারিস্টার মীর হেলাল উদ্দিন। পোশাক খাতের ব্যবসায়ী ও বিজিএমইএ নেতা ফজলুল হকও বিএনপির টিকিটে নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহী। এছাড়া ১৪ দলীয় জোট থেকে গতবারের মতো এবারো নির্বাচনে প্রার্থী হতে চান বর্তমান সংসদ সদস্য ও ব্যবসায়ী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন বণিক বার্তাকে বলেন, রাজনীতিতে ভালো সময় যাচ্ছে না। ফলে রাজনীতিবিদদের জায়গা দখল করে নিচ্ছেন নব্য পুুঁজিপতিরা। জীবনের সর্বোচ্চ ত্যাগের পরও প্রকৃত রাজনীতিবিদদের সঠিক মূল্যায়ন হচ্ছে না।

চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীর মধ্যে রয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য ফজলে করিম চৌধুরী ও ওমর ফারুক চৌধুরী। সম্ভাব্য এ প্রার্থীদের সবারই ব্যবসা-বাণিজ্য রয়েছে। বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় রয়েছেন গোলাম আকবর খন্দকার। টেক্সটাইল, গার্মেন্ট ও আবাসন খাতে ব্যবসা রয়েছে তার। এছাড়া সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ভাই গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর শিপিং, জ্বালানিসহ বিভিন্ন খাতে ব্যবসা রয়েছে।

চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া ও বোয়ালখালীর শ্রীপুর-খরণদ্বীপ ইউপি) আসনটি ২০০৮ সাল থেকে দখলে রেখেছে আওয়ামী লীগ। ২০০৮ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর পরিবেশ ও বনমন্ত্রীর দায়িত্ব পান হাছান মাহমুদ চৌধুরী। বর্তমানেও এ আসনে সংসদ সদস্য হিসেবে রয়েছেন তিনি। বিভিন্ন খাতে ব্যবসা রয়েছে হাছান মাহমুদের পরিবারের।

দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল আসনটি। এ আসন পুনরুদ্ধারে এবার প্রার্থী হতে চান যুদ্ধাপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর স্ত্রী ফারহাত কাদের চৌধুরী অথবা ছেলে হুম্মাম কাদের চৌধুরী। শিপিং, জ্বালানি, আমদানি-রফতানিসহ বিভিন্ন খাতে ব্যবসা রয়েছে এ পরিবারের।

চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী ও নগরীর ৩, ৪, ৫, ৬, ৭ নং ওয়ার্ড) আসনে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকায় রয়েছেন রেজাউল করিম চৌধুরী। ট্রেডিংসহ বিভিন্ন খাতে ব্যবসা রয়েছে তার। সানোয়ারা গ্রুপের বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসির ছেলে মুজিবুর রহমানও আওয়ামী লীগ থেকে এ আসনে প্রার্থী হতে আগ্রহী।

আসনটিতে নৌকার ব্যানারে প্রার্থী হতে চান সিডিএ চেয়ারম্যান আব্দুচ ছালাম। তিনি ওয়েল গ্রুপের অন্যতম কর্ণধার। আসনটির বর্তমান সংসদ সদস্য মঈন উদ্দিন খান বাদল। এবারো ১৪ দলীয় জোট থেকে নির্বাচনে অংশ নিতে চান তিনি।

২০০৮ সালের আগে আসনটিতে বিএনপির সংসদ সদস্য ছিলেন এম মোরশেদ খান। প্যাসিফিক গ্রুপের কর্ণধার তিনি। এ আসনে বিএনপির টিকিটে নির্বাচন করতে আগ্রহী বনেদি ব্যবসায়ী পরিবারের সন্তান এরশাদ উল্লাহ। পোশাক, জ্বালানি, আমদানি-রফতানির ব্যবসা রয়েছে তার। আসনটিতে বিএনপির আরেক সম্ভাব্য প্রার্থী নগর সিনিয়র সহসভাপতি আবু সুফিয়ান।

বর্তমানে রাজনীতি ব্যবসায়ীদের দখলে বলে মন্তব্য করেন আবু সুফিয়ান। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, প্রকৃত রাজনীতিবিদরা এখন কোণঠাসা। ফলে রাজনীতিবিদরা ব্যবসায়ী হয়ে ওঠার মাধ্যমে রাজনীতিতে টিকে থাকার চেষ্টা করছেন। কারণ দলের জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগের পরও টাকার অভাবে প্রকৃত রাজনীতিবিদদের মূল্যায়ন হয় না।

চট্টগ্রাম-৯ (বাকলিয়া-কোতোয়ালি সিটি করপোরেশনের ১৫ থেকে ২৩ ও ৩১ থেকে ৩৫ নং ওয়ার্ড) আসনে হেভিওয়েট প্রার্থীর মধ্যে রয়েছেন সাবেক মেয়র মহিউদ্দিন চৌধুরীর সন্তান চৌধুরী মহিবুল হাসান নওফেল। মেট্রোপলিটন চেম্বারের এ পরিচালক আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকও। ধনাঢ্য ব্যবসায়ী ও মোস্তফা হাকিম গ্রুপের চেয়ারম্যান সাবেক মেয়র এম মনজুর আলমও আওয়ামী লীগের টিকিটে নির্বাচন করতে চান। খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ছৈয়দ ছগীর আহমদও আওয়ামী লীগের প্রার্থী হতে আগ্রহী।

বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন এমইবি গ্রুপের কর্ণধার ও নগর বিএনপির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি শামসুল আলম। এছাড়া মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ডা. শাহাদৎ হোসেনও এ আসনে প্রার্থীর দৌড়ে রয়েছেন। ট্রিটমেন্ট হসপিটালসহ স্বাস্থ্যসেবা খাতে ব্যবসা রয়েছে তার। আসনটি থেকে প্রার্থী হতে চান জাতীয় পার্টির নেতা ও বর্তমান সংসদ সদস্য জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু।

চট্টগ্রাম-১০ (সিটি করপোরেশনের ৮, ১১, ১২, ১৩, ১৪ ও ২৪, ২৫, ২৬ নং ওয়ার্ড) আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থিতার দৌড়ে আছেন বর্তমান সংসদ সদস্য ডা. আফছারুল আমিন। পরিবহন, আবাসনসহ বিভিন্ন খাতে ব্যবসা রয়েছে চট্টগ্রামের এ বনেদি পরিবারের। পোশাক খাতের ব্যবসায়ী মাঈনুদ্দিন মিন্টু ও হেলাল উদ্দিন তুফান এ আসনে নৌকার প্রার্থী হতে আগ্রহী। নৌকার ব্যানারে আসনটি থেকে প্রার্থী হতে চান মহিউদ্দিন বাচ্চু ও ফরিদ মাহমুদ। ঠিকাদারিসহ বিভিন্ন খাতে ব্যবসা রয়েছে দুজনেরই। এছাড়া আরেক সম্ভাব্য প্রার্থী মাহমুদুল হক চৌধুরীর রয়েছে বন্দরকেন্দ্রিক ব্যবসা। ফিশিং ব্যবসায়ী সাবেক কাউন্সিলর জাবেদ নজরুল ইসলামও এ আসনে নৌকার প্রার্থী হতে আগ্রহী।

এ আসনে বিএনপির একক প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন কেন্দ্রীয় বিএনপির ভাইস প্রেসিডেন্ট আব্দুল্লাহ আল নোমান। ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটির এ উদ্যোক্তার অন্যান্য খাতেও ব্যবসা রয়েছে।

চট্টগ্রাম-১১ (নগরীর ২৭, ২৮, ২৯, ৩০ ও ৩৬, ৩৭, ৩৮, ৩৯, ৪০, ৪১ নং ওয়ার্ড) আসনে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য এমএ লতিফ। চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক সভাপতির পোশাক, পাদুকা, আমদানি-রফতানিসহ বিভিন্ন খাতে ব্যবসা রয়েছে। আরেক প্রার্থী নগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি খোরশেদ আলম সুজনের রয়েছে ট্রাভেল এজেন্সিসহ বিভিন্ন খাতে ব্যবসা। এ আসনে আওয়ামী লীগের আরেক প্রার্থী নজরুল ইসলাম বাহাদুর। জ্বালানিসহ চট্টগ্রাম বন্দরকেন্দ্রিক ব্যবসা রয়েছে তার।

এ আসনে বিএনপির প্রার্থীর তালিকায় রয়েছেন সাবেক এমপি আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। মেহের গ্রুপের এ কর্ণধার বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য।

চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসন থেকে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায় সবার উপরে থাকা বর্তমান সংসদ সদস্য শামসুল হক চৌধুরীর পরিবারের রয়েছে একাধিক ব্যবসা। তার ভাই ও ছেলেরা এসব ব্যবসা-বাণিজ্য দেখাশোনা করেন। আরেক সম্ভাব্য প্রার্থীর মধ্যে রয়েছেন বিজিএমইএ নেতা ও ধনাঢ্য ব্যবসায়ী মো. নাছির।

অন্যদিকে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আছেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন চেম্বারের পরিচালক সালমা গ্রুপের কর্ণধার ও চট্টগ্রাম চাল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি এনামুল হক এনাম। বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায় আরো আছেন খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ী ইদ্রিস মিয়া ও তৈরি পোশাক শিল্পের ব্যবসায়ী শাহাদাত হোসেন।

চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) আসন থেকে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ। সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য ও মহিলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ওয়াসিকা আয়েশা খান ছাড়াও দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহজাদা মহিউদ্দিন প্রার্থীদের সম্ভাব্য মনোনয়ন দৌড়ে রয়েছেন। আওয়ামী লীগের সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবুর পারিবারিক একাধিক শিল্পপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। সংসদ সদস্য হওয়ার আগে আরামিট গ্রুপের কর্ণধার ও ইউসিবির চেয়ারম্যান ছিলেন তিনি। আওয়ামী লীগের সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য আতাউর রহমান খান কায়সারের মেয়ে ওয়াসিকা আয়েশা খানের পারিবারিক ব্যবসা রয়েছে। আরেক প্রার্থী শাহজাদা মহিউদ্দিন রূপালী ব্যাংকের সাবেক পরিচালক। বিএনপির প্রার্থী তালিকায় প্রথম দিকে থাকা কর্ণফুলী থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আব্বাসের রয়েছে একাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। আরেক সম্ভাব্য প্রার্থী সরোয়ার জামাল নিজামও ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত।

চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ) আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম চৌধুরী ছাড়াও আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন মফিজুর রহমান, আবদুল কৈয়ূম, জাহেদুল ইসলাম জাহাঙ্গীর ও ড. নাছির উদ্দীন। এর মধ্যে নজরুল ইসলাম চৌধুরীর পারিবারিক একাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। মফিজুর রহমানের আবাসন খাতে ব্যবসা রয়েছে।

অন্যদিকে আসনটিতে বিএনপি থেকে ডা. মহসিন জিল্লুর করিম, অ্যাডভোকেট মিজানুল হক, অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম, সিরাজুল ইসলাম সওদাগর ও শফিকুল ইসলাম রাহীর নাম সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে শোনা যাচ্ছে। সবারই শিল্পপ্রতিষ্ঠান ছাড়াও বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা আছে।

চট্টগ্রাম-১৫ (লোহাগাড়া-সাতকানিয়া) আসন থেকে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আছেন বর্তমান সংসদ সদস্য আবু রেজা মুহাম্মদ নিজাম উদ্দিন নদভী। আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ছাড়াও এনজিও রয়েছে তার। আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায় আরো রয়েছেন কিষোয়ান গ্রুপের (বনফুল) কর্ণধার আব্দুল মোতালেব, স্বাস্থ্য খাতের একাধিক ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও হাসপাতালের শেয়ারহোল্ডার ডা. মিনহাজুর রহমান ছাড়াও আমিনুল ইসলাম, রূপালী ব্যাংকের পরিচালক আবু সুফিয়ান সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে প্রচারণা চালাচ্ছেন। জামায়াতের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এ আসনের সম্ভাব্য দুই প্রার্থী আ ন ম শামসুল ইসলাম ও শাহজাহান চৌধুরী। দুজনেরই আবাসন ছাড়াও একাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থী বর্তমান সংসদ সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী পারিবারিকভাবে ঠিকাদারি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। এছাড়া আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায় প্রথম সারিতে রয়েছেন পোশাক খাতের প্রতিষ্ঠান স্মার্ট গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুজিবুর রহমান ছাড়াও আওয়ামী লীগ নেতা ব্যবসায়ী আবদুল্লাহ কবির লিটন।

আসনটিতে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক পরিবেশ ও বন প্রতিমন্ত্রী জাফরুল ইসলাম চৌধুরী। চিটাগং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সাবেক সভাপতি জাফরুল ইসলামের রয়েছে একাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।

ব্যবসায়ীদের সংসদ সদস্য হওয়ার বিষয়টিকে রাজনীতিতে বাণিজ্যিকীকরণ হিসেবে দেখছেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মইনুল ইসলাম। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, দুর্বৃত্তায়নের ফলে প্রকৃত রাজনীতিবিদরা বাংলাদেশের রাজনীতি থেকে অনেক আগেই নির্বাসনে গেছেন। বর্তমানে রাজনীতিতে কালো টাকা আর পেশিশক্তির ব্যবহার চলছে। ধনকুবেররা ক্ষমতাসীনদের বিভিন্ন ধরনের পৃষ্ঠপোষকতা করেন। একসময় ব্যবসায়ীরাই জনপ্রতিনিধি হয়ে তাদের স্বার্থ রক্ষার জন্য কাজ করেন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ