প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সর্বোচ্চ সতর্কতায় আইনশৃঙ্খলাবাহিনী

বাংলাদেশ প্রতিদিন : নির্বাচন সামনে রেখে সর্বোচ্চ সতর্ক র‌্যাব-পুলিশসহ আইন প্রয়োগকারী সব কটি সংস্থা। ২০১৪-১৫ সালের অভিজ্ঞতা আমলে নিয়ে নাশকতা ঠেকাতে সীমান্তবর্তী এবং জামায়াত-শিবির অধ্যুষিত ৩২ জেলায় চলছে বিশেষ নজরদারি। তবে সারা দেশে নির্বাচনকেন্দ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি রক্ষা এবং নাশকতামূলক যে কোনো ধরনের কর্মকাণ্ড ঠেকাতে পুলিশ ও র‌্যাব তাদের সব ধরনের প্রস্তুতি প্রায় শেষ করে এনেছে। পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে অস্ত্র, গোলাবারুদসহ আনুষঙ্গিক নিরাপত্তাসামগ্রী মজুদ ইতিমধ্যে নিশ্চিত করা হয়েছে। নির্বাচন সামনে রেখে মাঠ প্রশাসন সাজানোর কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। অন্যদিকে তফসিল ঘোষণার দিনকে কেন্দ্র করে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা সর্বোচ্চ সতর্কতামূলক প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে বলে নিশ্চিত করেছে একাধিক সূত্র।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ সদর দফতর সূত্র বলছে, সারা দেশে জেলা থেকে শুরু করে পুলিশের মাঠ প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়নের কাজ সমাপ্তির দিকে। শিগগিরই আরও কয়েকটি জেলার পুলিশ সুপার পরিবর্তন করা হবে। তফসিল ঘোষণার আগেই এ বিষয়টি শেষ করা হচ্ছে। তবে বিএনপি-জামায়াত অধ্যুষিত ৩২ জেলা ঘিরে র‌্যাব-পুলিশের রয়েছে বিশেষ পরিকল্পনা। তৈরি হয়েছে বিশেষ ছক। ওইসব জেলার এসপি থেকে ওসি পদায়নেও বিভিন্ন দিক যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচন ঘিরে যেসব জেলায় বেশি সহিংসতার ঘটনা ঘটে সেসব জেলার দিকে থাকবে বিশেষ দৃষ্টি। নির্বাচনকেন্দ্রিক পুলিশ ও র‌্যাবের  ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে এরই মধ্যে কয়েক দফা উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হয়েছে। নির্বাচনের আগের দিন এবং নির্বাচনের দিন প্রতিটি ভোট কেন্দ্রের নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত হবে— সে ক্ষেত্রে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের মতামত যাচাই-বাছাই করে দেখছে সর্বোচ্চ মহল। একই সঙ্গে নিরাপত্তার অজুহাতে কাউকে যাতে হয়রানি করা না হয় সে বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখবে পুলিশ এবং র‌্যাব সদর দফতর।

র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন) কর্নেল জাহাঙ্গীর আলম বলেন, জানমাল ও সরকারি সম্পদ রক্ষায় র‌্যাবের সদস্যরা সব সময় নিজেদের সর্বোচ্চটা দিয়ে কাজ করতে প্রস্তুত। সে যে-ই হোক, নাশকতার চেষ্টাকারী কাউকে বরদাশত করা হবে না। নির্বাচনকেন্দ্রিক নিরাপত্তায় অন্যান্য বাহিনী এবং গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করেই কাজ করে যাচ্ছে র‌্যাব। জানা গেছে, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নভেম্বর, ডিসেম্বর ও জানুয়ারি তিন মাস দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে বলে একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তা মনে করছেন। এ ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্বোচ্চ সজাগ রাখতে ইতিমধ্যে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে সরকারের কাছে গোপন রিপোর্ট দাখিল করা হয়েছে। নির্বাচনসহ দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সম্প্রতি পুলিশের আইজি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠক করেন। বৈঠকে জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং নির্বাচন ঘিরে যে কোনো ধরনের উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় মাঠপুলিশকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে নির্দেশনা দেন তিনি। বৈঠকে সব রেঞ্জ ডিআইজি, সব পুলিশ কমিশনার, হাইওয়ে, রেলওয়ে, নৌপুলিশের প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক সূত্র বলছে, নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণার পরপরই দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে। সরকারের সঙ্গে বিরোধী পক্ষের সমঝোতা না হলে রাজনৈতিক সংকট রাজপথের সংঘাতের দিকে ধাবিত হতে পারে। এ বিষয়টি মাথায় রেখেই প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে র‌্যাব, পুলিশসহ একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা। এর মধ্যে অস্ত্র-গোলাবারুদ পর্যাপ্ত মজুদ রাখা, বিদ্যমান জনবলের সর্বোচ্চ ব্যবহার, নাশকতাকারীদের গ্রেফতারে বিশেষ অভিযান পরিচালনা, ঢাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রয়োজনে পুলিশের অন্য ইউনিট থেকে ফোর্স মোতায়েন, বৈধ অস্ত্রের অবৈধ ব্যবহার বন্ধসহ নানা পদক্ষেপ রয়েছে। ইতিমধ্যে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কোনো পুলিশ সদস্যকে ছুটি না দিতে অধীনস্থদের পরামর্শ দিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার। এ ছাড়া কর্তব্য পালনকালে পুলিশকে দলবদ্ধভাবে চলতে পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

পুলিশ সদর দফতরের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) এস এম রুহুল আমীন বলেন, নির্বাচনকেন্দ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে পুলিশ। ২০১৪-১৫ সালের অভিজ্ঞতা মাথায় রেখেই এ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। কেউ কোনো ধরনের নাশকতার চেষ্টা করলে তাকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।

জানা গেছে, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর দেশজুড়ে অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ অভিযান পরিচালনার বিষয়টিও মাথায় রেখেছে র‌্যাব-পুলিশ। অভিযানে র‌্যাব-পুলিশের পাশাপাশি বিজিবিকেও নামানো হতে পারে। অন্যদিকে নির্বাচন ঘিরে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড চালাতে পারে বিএনপি, জামায়াত এবং অঙ্গসংগঠনের এমন নেতাদের একাধিক তালিকা তৈরি করেছে গোয়েন্দা সংস্থা। সেই তালিকা ধরে বিশেষ অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনাও রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর। জামায়াত-শিবিরের অন্যতম প্রভাব থাকা রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি দেবদাস ভট্টাচার্য এই প্রতিবেদককে বলেন, কোনো নাশকতা চেষ্টাকারীর ছাড় নেই। আগাম তথ্য সংগ্রহে সাদা পোশাকে পুলিশের সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। সন্দেহভাজন সবাই নজরদারির মধ্যে রয়েছেন। অপরাধ ঘটিয়ে পালানোর কোনো সুযোগ নেই। বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আগের চেয়ে অনেক বেশি পেশাদারি ভূমিকা রাখে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। নির্বাচন ঘিরে কেউ বিশৃঙ্খলা করতে চাইলে তারা কঠোরভাবে তা মোকাবিলা করবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি। গতকাল জেলহত্যা দিবস উপলক্ষে পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে জাতীয় চার নেতার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের নির্বাচন কমিশন আছে। তাদেরই দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা। তবে আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আগের চেয়ে অনেক দক্ষ। পেশাদারত্বে তারা অনেকখানি সক্ষম। কাজেই কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলার যদি কেউ চেষ্টা করে, তারা তা মোকাবিলা করতে পারবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ