প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

প্রার্থিতা নিয়ে জাপা নেতারা অনিশ্চয়তায়

ভোরের কাগজ : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থিতা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন জাতীয় পার্টির (জাপা) মনোনয়ন প্রত্যাশীরা। সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে কেন্দ্রের সবুজ সংকেতের অপেক্ষায় তারা। কেউ কেউ পার্টিপ্রধানের বনানী কার্যালয়ে দিনের পর দিন ধরনা দিচ্ছেন।

মহাসচিব থেকে শুরু করে শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগও রক্ষা করছেন। তারপরেও অনিশ্চয়তা কাটছে না। দফায় দফায় চেয়ারম্যানের ডাকা সভা-সমাবেশ আর সংবাদ সম্মেলনে হাজির হয়েও মিলছে না কোনো কাক্সিক্ষত সুসংবাদ। সর্বশেষ সম্মিলিত জাতীয় জোটের মহাসমাবেশ থেকে প্রার্থী বাছাইয়ের নির্দেশনাও থামকে আছে। পার্টি এককভাবে তিনশ আসনেই নির্বাচন করবে, নাকি জোটবদ্ধভাবে আসন ভাগাভাগি করবে- এ নিয়ে চরম দ্বিধাদ্বন্দে মনোনয়ন প্রত্যাশীরা।

তবে এসব উপেক্ষা করে তৃণমূলে পার্টির সাংগঠনিক শক্তি বাড়ানোসহ নির্বাচনী এলাকায় নেতাদের গণসংযোগের নির্দেশ দিয়েছেন পার্টিপ্রধান এইচ এম এরশাদ। ইতোমধ্যে ডিজিটাল নির্বাচনী প্রচারণারও উদ্বোধন করেছেন তিনি। জেলায় জেলায় নির্বাচনী জনসভা হচ্ছে। সেখানে অনেককেই প্রার্থী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেয়া হচ্ছে। তবে জোট বা এককের ধোঁয়াশা না কাটায় এবং চূড়ান্ত নির্বাচনী রূপরেখা তৈরি না হওয়ায় কে কোন আসনে টিকবেন তা নিয়ে ভেতরে ভেতরে উদ্বিগ্ন মনোনয়ন প্রত্যাশীরা।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনশ আসনেই প্রতিদ্ব›িদ্বতা করার জন্য বহু আগে থেকেই ঘোষণা দিয়ে রেখেছেন জাপাপ্রধান সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। কয়েক মাস আগে জাপার তিনশ প্রার্থীর খসড়া তালিকাও প্রকাশ করে কয়েকটি গণমাধ্যম। সে তালিকায় নাম দেখে অনেক নেতাই নির্বাচনী এলাকায় গণসংযোগে নেমে পড়েন। তবে কিছুদিনের মধ্যেই সেই তালিকা নিয়ে কেন্দ্র থেকে প্রবল আপত্তি তুলে প্রত্যাখ্যান করা হয়। এরপর সন্দেহ, অবিশ্বাস আর দ্বিধাদ্ব›দ্ব নিয়ে নির্বাচনী মাঠে ঝিমিয়ে পড়েন মনোনয়ন প্রত্যাশী অনেক নেতা।

সূত্র জানায়, জোটের শরিক হিসেবে কয়েক মাস আগে আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ১০০ আসন দাবি করেন এরশাদ। এরপর থেকেই সভা-সমাবেশে ঘোষণা দিতে থাকেন নির্বাচনে বিএনপি অংশ না নিলে জাপা থেকে তিনশ আসনে প্রার্থী দিয়ে বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করবে। তবে প্রকাশ্যে এসব বক্তব্য দিলেও দেশের ভেতরে বাইরে সরকারবিরোধীদের সঙ্গে সাবেক এই সেনাশাসকের দরকষাকষির বিষয় আলোচনায় উঠে আসে। এমনকি সদ্য আত্মপ্রকাশ করা জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের সঙ্গেও তিনি নির্বাচনী দরকষাকষির চেষ্টা করছেন বলে গুঞ্জন রয়েছে।

এদিকে, গত ২০ অক্টোবর সম্মিলিত জাতীয় জোটের মহাসমাবেশের পর ৩০০ আসনের চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশের কথা বললেও গতকাল পর্যন্ত কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। আবার এর মধ্যেই জাপা দুর্গখ্যাত রংপুরের আসনগুলোতে আওয়ামী লীগকে ছাড় না দেয়ার বিষয়ে কঠোর সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন এরশাদ। এতে বৃহত্তর রংপুরে আওয়ামী লীগের সঙ্গে জাপার আসন ভাগাভাগি নিয়ে জটিলতার ইঙ্গিত পাচ্ছেন অনেকেই।

তবে এসব নিয়ে প্রকাশ্যে কোনো কথা বলতে রাজি নন জাপার মনোনয়ন প্রত্যাশীরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নেতা বলেন, তিনশ আসনে ত্যাগী ও জনপ্রিয় নেতাদের প্রার্থী হিসেবে প্রস্তুত রাখার পর যদি জোটবদ্ধ নির্বাচনের সিদ্ধান্ত হয় তাহলে অনেকেই বঞ্চিত হবেন। তা ছাড়া জাপা নেতৃত্বাধীন জোট কত আসন দাবি করবে সেটাও বিবেচনায় রাখতে হবে। এ বিচারে কে কোন আসনে টিকবেন বা ছিটকে পড়বেন তা নিয়ে যথেষ্ট শঙ্কা আছে। জানতে চাইলে লক্ষীপুর-১ আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী আলহাজ সিরাজুল ইসলাম বলেন, মনোনয়ন নিয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সবুজ সংকেত পাইনি। কবে পাব তা বলা যাচ্ছে না। তবে মাদারীপুরের কালকিনি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী আব্দুল খালেক জানান, তিনশ আসনের প্রার্থী তালিকা প্রস্তুত করার কথা শুনেছি।

তিনশ আসনে প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করার বিষয়টি নিশ্চিত করে জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য মেজর (অব.) খালেদ আকতার বলেন, এবার যোগ্য ও ত্যাগীদেরই মূল্যায়ন করা হচ্ছে। তবে একক বা জোটবদ্ধ নির্বাচনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হওয়ার আগেই তিনশ আসনে প্রার্থী দেয়ার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে প্রভাবশালী এই নেতা বলেন, জোটবদ্ধ নির্বাচনের বেলায় প্রার্থী প্রত্যাহার করতে হবে। এতে কিছু কিছু আসনে সমস্যা দেখা দিতে পারে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ