প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ধারাবাহিকভাবে কমছে ব্যাংক আমানত ও ঋণ বিতরণের প্রবৃদ্ধি

আরিফুর রহমান তুহিন: দেশের ব্যাংকিং খাতে আমানত সংগ্রহ ও ঋণ বিতরণের প্রবৃদ্ধি ক্রমেই কমছে। বেশি আমানত কমেছে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে। মুদ্রানীতিতে ঘোষিত বেসরকারি খাতে ঋণ বিতরণের লক্ষমাত্রাও অর্জিত হচ্ছে না। খাতওয়ারি ঋণ বিতরণ কমেছে কৃষি খাতে। আসন্ন নির্বাচন ও আমানতে সুদের হার কমায় এমন অবস্থা তৈরি হয়েছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্র জানায়, নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা ও সিঙ্গেল ডিজিটে ঋণের সুদের হার নির্ধারণের পর কেবল জুলাইয়ে ব্যাংকিং খাতে আমানত কমেছে শূণ্য দশমিক ৬ শতাংশ। আলোচ্য সময়ে দেশের ব্যাংকিং খাতে আমানতের পরিমাণ ছিল (আন্তঃব্যাংক আমানত ছাড়া) ৯ লাখ ৬৯ হাজার ৬৩ কোটি টাকা। জুলাই শেষে তা ৯ লাখ ৬৮ হাজার ৪৫৮ কোটি টাকায় নেমে এসেছে।
রাষ্ট্রায়ত্ত চার ব্যাংক জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আমানত হারিয়েছে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা। সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংক আমানত হারিয়েছে প্রায় ২৭’শ কোটি টাকা, সোনালী ব্যাংক হারিয়েছে ৫ হাজা কোটি টাকা, রূপালী ব্যাংক হারিয়েছে ৩ হাজার কোটি টাকা এবং অগ্রণী ব্যাংক আমানত হারিয়েছে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা।

সূত্রে জানা যায়, ২০১৪ সালে যখন আমানতের সুদহার ছিল ৮ শতাংশেরও উপরে। আর আমানতের প্রবৃদ্ধি ছিলো ১৬ দশমিক ৩৭ শতাংশ। এর পর থেকে আমানতে সুদের হার কমার সাথে সাথে আমানতের প্রবৃদ্ধিও কমতে শুরু করে। ২০১৫ সালে ৪ শতাংশ কমে প্রবৃদ্ধি দাঁড়ায় ১২ দশমিক ১৭ শতাংশ। গত বছরের জুনে ছিলো ১০ দশমিক ৬১ শতাংশ। আর চলতি বছরের জুলাই মাসে আমানতের প্রবৃদ্ধি দাঁড়ায় ৯ দশমিক ৮৩ শতাংশ।

অন্যদিকে গত বছরের শেষে বেসরকারি খাতে অস্বাভাবিকভাগে ঋণ প্রবাহ বাড়লে বাংলাদেশ ব্যাংক এডিআর কমিয়ে দেয়। এছাড়া সিঙ্গেল ডিজিটে ঋণের সুদের হার বাস্তবায়ন করতে আমানতে সুদের হারও কমানো হয়। ফলে নতুন মুদ্রানীতির প্রথম মাসোই আমানত ও ঋণে বড় ধরণের ধাক্কা খায় ব্যাংকিং খাত। বছরের শেষ ৬ মাসের ঋণের লক্ষমাত্রা ১৬ দশমিক ৮০ শতাংশ নির্ধারণ করা হলেও জুলাই মাসে নেগেটিভ প্রবৃদ্ধি হয়। আলোচ্য মাসে আগের মাসের তুলনায় ৬ হাজার ৬৬ কোটি কোটি টাকার ঋণ কমে। কমে যায় আমানতের পরিমাণও।

আগস্ট থেকে এই খাতে ঋণ প্রবাহ বাড়লেও লক্ষমাত্রার চেয়ে প্রায় দেড় শতাংশ কম প্রবৃদ্ধি হয়েছে। ওই মাসে ঋণের প্রবৃদ্ধি ছিলো ১৪ দশমিক ৫ শতাংশের কাছাকাছি। সেপ্টেম্বর শেষে বেসরকারি খাতে ঋণের বার্ষিক প্রবৃদ্ধি ছিলো ১৪ দশমিক ৬৭ শতাংশ। আর আগের এই খাতে বার্ষিক প্রবৃদ্ধি ছিলো ১৪ দশমিক ৯৫ শতাংশ। অথচ ২০১৭ সালের নভেম্বর এই খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি ছিলো ১৯ দশমিক ৬ শতাংশ।

একাধিক ব্যাংক কর্মকর্তারা মনে করছেন, সাধারণত নির্বাচনি বছরে ব্যাংকগুলোতে ঋণের পরিমাণ কমিয়ে দেওয়া হয়। এছাড়া গত বছরের শেষের দিকে ঋণে প্রবৃদ্ধি অতিরিক্ত মাত্রায় বেড়ে যাওয়ায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক মুদ্রানীতিতে এডিআরে লাগাম টানে। অন্যদিকে ব্যাংক ঋণে সিঙ্গেল ডিজিট বাস্তবায়ন করতে গিয়ে আমানতে সুদের হার কমিয়ে দেয়। ফলে আমানতকারিরা ব্যাংকে অর্থ রাখার ক্ষেত্রে আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। এতে ব্যাংকগুলো আগের মত ঋণ বিতরণের সক্ষমতা কমে এসেছে।

বিবি সূত্র জানায়, ব্যাংকে যে পরিমাণ আমানত আসছে, ঋণ বিতরণ হচ্ছে তার চেয়েও বেশি। গত একবছরে ব্যাংকগুলো ঋণ বিতরণ করেছে এক লাখ ৩৩ হাজার ৩৪৩ কোটি টাকা। অথচ এই সময়ে ব্যাংকে আমানত এসেছে ৯০ হাজার ৪২২ কোটি টাকা। অর্থাৎ ব্যাংকগুলো ঋণ বিতরণ করেছে সংগৃহীত আমানতের চেয়ে ৪২ হাজার ৯২১ কোটি টাকা বেশি।

বর্তমান সময়ে ব্যাংকগুলোর আমানতের গড় সুদহার ৪ দশমিক ৮৯ শতাংশ। নির্দিষ্ট সময়ের জন্য আমানত রাখলে ব্যাংকভেদে সুদ পাওয়া যাচ্ছে ৪ থেকে ৭, সাড়ে ৭ শতাংশ। চলতি বা সঞ্চয়ী হিসাবে (কারেন্ট অ্যাকাউন্ট ও সেভিংস অ্যাকাউন্ট) জমা থাকা আমানতের ওপর ৩ থেকে সাড়ে ৩ শতাংশ সুদ পাওয়া যাচ্ছে। অথচ বছর তিনেক আগেও ব্যাংক আমানতের ওপর সর্বোচ্চ ১২.৫০ শতাংশ সুদ পাওয়া যেত। বর্তমানে ব্যাংক ঋণের গড় সুদহার এখন ৯ দশমিক ৯১ শতাংশ। যা ২০১৩ সালের জুলাইয়ে ছিলো ১৩ দশমিক ৬৩ শতাংশ। সম্পাদনা: সোহেল রহমান

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ