প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

দীর্ঘ দাবিনামা নিয়ে আজ সংলাপে যাচ্ছেন এরশাদ

সমকাল :  আসন্ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সঙ্গে আসন ভাগাভাগি নিয়ে আলোচনা করতে আজ গণভবনে সংলাপে যাচ্ছেন জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ।

দলটির দীর্ঘ দাবিনামার মুখ্য বিষয় হিসেবে থাকছে ক্ষমতা ভাগাভাগি। আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠানে তার আপত্তি নেই। আপত্তি নেই সংসদ বহাল রেখে নির্বাচনেও।

দলটির নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, আজকের সংলাপে এরশাদের দাবি থাকবে, বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট ভোটে অংশ নিলে জাপাকে ৭০ আসন দিতে হবে। বিএনপি না এলে দিতে হবে ১০০ আসন। জাপাকে যেসব আসন ছাড়া হবে, সেখানে আওয়ামী লীগের প্রার্থী থাকতে পারবে না। দলটির কেউ যেন বিদ্রোহী প্রার্থীও না হন জাপাকে ছেড়ে দেওয়া ওই সব আসনে।

এ ছাড়া জাপা আর বিরোধী দলেও থাকবে না। আওয়ামী লীগ আগামীতে সরকার গঠন করলে জাপা থেকে অন্তত ১০ জনকে মন্ত্রী করতে হবে। দিতে হবে সংসদ উপনেতা ও ডেপুটি স্পিকারের পদ।

এসব দাবি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সঙ্গে গণভবনে আজ সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় সংলাপে বসবে সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদের নেতৃত্বে জাপার জোটের ৩৩ সদস্যের প্রতিনিধি দল।

এ দলে রয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ, জাপার কো-চেয়ারম্যান জি এম কাদের, মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার, প্রেসিডিয়াম সদস্য বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়কমন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, কাজী ফিরোজ রশীদ, জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলুসহ জ্যেষ্ঠ নেতারা।

সংসদ ভেঙে দিয়ে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন, ভোটে বিচারিক ক্ষমতাসহ সেনাবাহিনী মোতায়েন, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা, ইভিএম ব্যবহার না করাসহ সাত দাবি নিয়ে গত বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের সঙ্গে সংলাপে বসে বিএনপি, গণফোরাম, জেএসডি ও নাগরিক ঐক্যের সমন্বয়ে গঠিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। সংলাপে আওয়ামী লীগ বলেছে, তারা সংবিধানের বাইরে যাবে না।

আওয়ামী লীগের এ অবস্থানকে সমর্থন করেছেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত এরশাদ। গত রোববার জামালপুরে জনসভায় তিনি বলেছেন, ঐক্যফ্রন্টের দাবি সরকারের পক্ষে মানা সম্ভব নয়। প্রধানমন্ত্রীর পদে থাকলে তিনিও মানতেন না। এরশাদ জানান, আসন্ন নির্বাচনে আসন ভাগাভাগি নিয়ে আলোচনা করতে সংলাপে যাচ্ছে তার দল।

জাপার কো-চেয়ারম্যান জি এম কাদের বলেছেন, এখন পর্যন্ত তাদের অবস্থান হলো বিএনপি ভোটে অংশ নিলে আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট করবে জাপা। বিএনপি না এলে জাপার নেতৃত্বাধীন জোট এককভাবে নির্বাচন করবে।

এরশাদেরও দাবি ছিল নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার না করা। সম্প্রতি তিনি আগের অবস্থান থেকে সরে এসেছেন। জাপা মহাসচিব জানিয়েছেন, তাদের এমন কোনো দাবি নেই।

রুহুল আমিন হাওলাদার বলেছেন, সংলাপে তারা কোনো দাবিনামা নিয়ে যাচ্ছেন না। খোলা মন নিয়ে আলোচনা করতে যাবেন। সব দলের অংশগ্রহণে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে জাতীয় পার্টি কী ভূমিকা রাখতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা হবে।

বিএনপি নির্বাচনে অংশ না নিলে ১০০ আসন, এলে ৭০ আসনের দাবি সম্পর্কে তিনি বলেন, সুযোগ পেলে এ বিষয়ে আলোচনা হতে পারে। আসন ভাগাভাগির আলোচনা করতেই সংলাপে যাচ্ছেন এমন নয়।

বিএনপি অংশ না নেওয়ায় ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছিলেন এরশাদ। নানা নাটকীয়তার পর রওশন এরশাদের নেতৃত্বে জাপার একাংশ ভোটে অংশ নিয়ে ৩৪ আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। ওই নির্বাচনে জাপাকে ৪৮ আসন ছেড়ে দিয়েছিল আওয়ামী লীগ। কিন্তু কয়েকটিতে শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের প্রার্থী থেকে যায়। আওয়ামী লীগের শরিক দল ও বিদ্রোহী প্রার্থী ছিল কয়েকটি আসনে। যে কারণে ওই সব আসনে পরাজিত হন জাপা প্রার্থী। আগামী নির্বাচনে যেন এমন না হয়, তা নিশ্চিত করতে দলের নেতারা এরশাদকে বলেছেন দলীয় সভা থেকে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ