প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সাংসদের জালিয়াতিতে কালিহাতী উপজেলা আ.লীগের ক্ষোভ

সাইদ রিপন: রাজনীতিতে হাস্যরসের খোরাক বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার তিনটি জন্ম তারিখ! এবার ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগেও দেখা গেলো এক নেতার দুটি ভিন্ন ভিন্ন তারিখে জন্ম নেওয়ার মতো অবিশ্বাস্য ঘটনা। এমন অভিযোগ টাঙ্গাইলের সরকার দলীয় এক সংসদ সদস্যদের বিরুদ্ধে। আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে করা অভিযোগে এমন তথ্য তুলে ধরেছে দলটির কালিহাতী উপজেলা শাখা আওয়ামী লীগ।
দলীয় সভানেত্রীর কাছে পাঠানো পত্রে বলা হয়েছে, টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনের সংসদ সদস্য হাসান ইমাম খান সোহেল হাজারির বিরুদ্ধে রয়েছে শিক্ষাসনদ জালিয়াতির অভিযোগ। তার বিভিন্ন শিক্ষাসনদে রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন জন্ম তারিখ। অভিযোগপত্রটির কপি এই প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত আছে। অভিযোগপত্রে কালিহাতী উপজেলা আওয়ামী লীগ বলছে, গত সংসদ নির্বাচনের আগে জাতীয় নেতাদের কাছে পাঠানো জীবনবৃত্তান্তে ইমাম হাসান সোহেল হাজারী নিজেকে উচ্চিশিক্ষিত হিসেবে তথ্য উপস্থাপন করেন। আর নির্বাচনী হলফ নামায় লিখেন এইচএসসি পাস।

নির্বাচনী হলফ নামার তথ্য মতে, সোহেল হাজারি ১৯৮৭ সালে ছাতিহাতি গ র ম দাখিল মাদরাসা থেকে দাখিল পাস করেন। অথচ খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তিনি একই বছর গোপালদিঘী কে পি ইউনিয়ন উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন। তাতে তিনি ইংরেজী ও বাংলা বিষয়ে অকৃতকার্য হন। যার রেজিস্ট্রেশন নম্বর ৬০১৭৫/৮৫। একই বছর এসএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়ে আবার ওই বছরই দাখিল পাস করা অসম্ভব। কাজেই তিনি সনদ জালিয়াতিতে অভিযুক্ত। তার এসএসসির রেজিস্ট্রেশনে জন্মতারিখ দেওয়া হয়েছে ২২ জুলাই ১৯৭২। আর দাখিলের রেজিস্ট্রেশনে দেওয়া জন্মতারিখ ১ জানুয়ারি ১৯৭৩ সাল। তার এই শিক্ষাসনদ জালিয়াতি ও দুই জন্মতারিখ নিয়ে বিরোধী দল ও সাধারণ জনগণের কাছে হাস্যরসের শিকার হতে হয় স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের।

অভিযোগপত্রে সংযুক্ত নানাপ্রকার তথ্য-উপাত্ত বলছে, গত নির্বাচনের সময় নির্বাচন কমিশনে দেয়া হলফ নামায় তিনি বেশ কিছু অসত্য তথ্য জুড়ে দেন। সেই হলফনামায় ১৯৯৬ সালে শমসের ফকির কলেজ (নিকড়াইল, ভূয়াপুর) থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেছেন। কিন্তু ১৯৯৬ সালে এইচএসসি পাস করলেও তিনি ১৯৯১-৯২ শিক্ষাবর্ষে ¯œাতক শ্রেণিতে ভর্তি হয়ে ভিপি নির্বাচন করেন। অবিশ্বাস্য এই ঘটনা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
বর্তমান এই সংসদ সদস্যেও শিক্ষা জালিয়াতির তথ্য প্রমাণ সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুক, টুইটারসহ নানা মাধ্যমে ভিডিও সহকারে প্রকাশিত হচ্ছে। যা কালিহাতী উপজেলাসহ পুরো টাঙ্গাইলবাসীর মুখে মুখে ঘুরছে। এর ফলে দলীয় নেতাকর্মীরা সাধারণ জনগণ ও বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদের হাস্য রসাত্মক বাক্য বাণে জর্জরিত হচ্ছে।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, সোহেল হাজারীর বিরুদ্ধে রয়েছে দলীয় নেতা-কর্মীদের ওপর অত্যাচার ও নিপীড়নের একাধিক অভিযোগ। সরকারের নানা উন্নয়ন কাজে প্রভাব খাটিয়ে করেছেন দুর্নীতি ও নানা অনিয়ম। স্থানীয় নির্বাচনে দল মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী দিয়ে তার পক্ষে প্রচারণাও চালিয়েছেন তিনি। সবচেয়ে মজার ঘটনা হলো, এই সংসদ সদস্যের বিভিন্ন শিক্ষাগত সনদে রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন জন্মতারিখের ঘটনাও। দলীয় সভানেত্রীর কাছে পাঠানো অভিযোগপত্রের সাথে এ বিষয়ক সব তথ্যপ্রমাণ সংযুক্ত করে দিয়েছে কালিহাতী উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতারা।
এই বিষয়ে কথা বলার জন্য এই প্রতিবেদকসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের কর্মীরা হাসান ইমাম খান সোহেল হাজারীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। অভিযোগের সত্যতা বা উপজেলা আওয়ামী লীগের এই অভিযোগপত্র বিষয়ে তার বক্তব্য জানতে চেয়ে তাকে বারবার ফোন করা হয়, পাঠানো হয় এসএমএস। তিনি ফোন রিসিভ করেননি, এসএমএসেরও উত্তর দেননি।

টাঙ্গাইল জেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত বর্ধিত সভায় কালিহাতী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোজহারুল ইসলাম তালুকদার তার এলাকার সাংসদ হাসান ইমাম খান সম্পর্কে বলেন, দল থেকে নির্বাচিত হলেও দলের সঙ্গে এখন সাংসদের সম্পর্ক নেই। তিনি উপদল গঠন করেছেন। সম্প্রতি চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীদের যুবলীগের কমিটিতে স্থান দিয়েছেন। উল্লেখ্য, বঙ্গবন্ধু কন্যা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দুর্বার গতিতে উন্নয়নের মহাসড়কে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। সেই সময়ে সারাদেশে কিছু সংসদ সদস্যের বিতর্ক কর্মকাণ্ড দলীয় ভাবমূর্তি যেমন ক্ষুন্ন করছে, তেমনি বাধাগ্রস্ত করছেন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড। আসছে নির্বাচনে সারাদেশের ক্লিন ইমেজের নেতাকর্মীদের মনোনয়নের ব্যাপারে এগিয়ে রাখা হবে বলে দলটির হাইকমাণ্ডের নেতারা সবসময় বলে আসছেন।