প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

প্রধানমন্ত্রী কি বিএনপিকে ‘সন্তুষ্ট’ করতে পারবেন?

মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী : ১ নভেম্বর গণভবনে অনুষ্ঠিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে আলোচনা শেষে ড. কামাল হোসেন সাংবাদিকদের ‘আলোচনা ভালো হয়েছে’ বলে উল্লেখ করেছেন, অন্যদিকে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ‘আমরা সন্তুষ্ট নই’ বলে গাড়িতে উঠে চলে গেছেন। একই কথা তিনি সাংবাদিক সম্মেলনেও উল্লেখ করেছিলেন। বিএনপির নেতৃবৃন্দ পরদিন বিভিন্ন মিডিয়ায় এবং বক্তৃতায় আলোচনার অগ্রগতি নিয়ে নানা ধরনের মন্তব্য করেছেন এবং আন্দোলনের মাধ্যমে সাত দফা দাবি আদায়ের কথা উল্লেখ করেছেন। কেউ কেউ অবশ্য আলোচনার আরও সুযোগ রয়েছে বলে মনে করেন।

রাজনীতির বিশ্লেষকরা অবশ্য সরকারের সঙ্গে ঐক্যফ্রন্টের নেতৃবৃন্দের আলোচনাকে ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখছেন। তারা মনে করেন যে, আলোচনার মাধ্যমে বিএনপির বেশ কিছু দাবি সরকার মেনে নেওয়ার মতো অবস্থানে আছেন। সেক্ষেত্রে বিএনপির উচিত হবে সরকারের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাওয়া এবং নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়া। কিন্তু বাস্তবে বিএনপির ভেতরের অবস্থা নানা রাজনৈতিক সমীকরণে মনে হচ্ছে জটিল হয়ে উঠছে। বিএনপির নেতাকর্মী-সমর্থকগণ বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির বাইরে গিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণকে তাদের জন্য আত্মঘাতী হবে বলে মনে করছেন। আবার যারা নির্বাচন করবেন বলে মন স্থির করেছেন তাদের পক্ষে নির্বাচন বর্জন কিংবা আন্দোলনÑ কোনোটাই মানসিকভাবে গ্রহণ করার অবস্থান নেই। কেননা ২০১৪ এবং ১৫ সালের আন্দোলনের অভিজ্ঞতা থেকে স্থানীয় পর্যায়ের অনেক নেতাকর্মীরই ধারণা যে নতুন করে এই সময়ে সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের ডাক দিয়ে জনসমর্থন খুব একটা পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। আবার নির্বাচনে গিয়ে দলের চেয়ারপারসন বা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসনের অনুপস্থিতিতে দলনিরপেক্ষ ভোটারদের ভোট খুব একটা টানা যাবে না। সেক্ষেত্রে দল জোট এবং আওয়ামীবিরোধী কিছু ভোটারের ভোট ছাড়া নতুনভাবে প্রাপ্তি খুব বেশি ঘটবে না।

অন্যদিকে সরকার দলীয় প্রার্থী যদি নির্বাচনি আসনের সাধারণ ভোটারদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পায় তাহলে বিএনপির ভোট কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এসব নানা বিবেচনা নির্বাচনি আসন কেন্দ্রিক বাস্তবতা থেকে বিএনপির নেতাকর্মীরা করছেন বলে মনে হচ্ছে। তবে তাদের ধারণা সাত দফা নয়, বরং বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি কিংবা জামিনের মতো বিষয়টি যদি আদায় করা যেতো তাহলে নির্বাচনে অংশ নিতে তাদের আর কোনো দাবি বাস্তবায়নের জন্য অপেক্ষা করার প্রয়োজন নেই। বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দও তাই মনে করেন সাত দফা নয় বরং এক দফা তথা বেগম জিয়ার মুক্তি কিংবা জামিনে বের হয়ে আসার সুযোগ পেলেই সন্তুষ্ট হওয়ার যথেষ্ট কারণ ঘটবে বলে মনে করেন। খালেদা জিয়ার মুক্তি কিংবা জামিন লাভের বিষয়টি বিএনপি নেতৃবৃন্দ সংলাপেও বারবার উচ্চারণ করেছিলেন। ঐক্যফ্রন্টের অন্য নেতাদের মধ্যে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি নিয়ে দুটি ধারা ছিলো। একপক্ষ খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়টি উচ্চারণ করেছেন অন্য পক্ষ ততোটা জোর দেয়নি। এ নিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা রয়েছে। তবে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি কিংবা জামিন আদেশের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য খুবই স্পষ্ট ছিলো।

তিনি এটিকে সম্পূর্ণ আইনি ও আদালতের বিষয় বলে জানিয়ে দিয়েছেন। এটাই বিএনপি  নেতৃবৃন্দের ‘অসন্তুষ্টি’র মূল কারণ বলে ধরে নেওয়া যায়। সর্বশেষ বিএনপি নেতৃবৃন্দ ঐক্যফ্রন্টের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে আবারও সংলাপে বসার জন্য রোববার ৪ নভেম্বর সকালে চিঠি পাঠিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দ্বিতীয়বার আলোচনায় তাদের কখন ডাকবেন সেটি জানার অপেক্ষা সবাই করছেন। ঐক্যফ্রন্ট সংলাপে দ্বিতীয়বার বসার আগে তফসিল ঘোষণা না করার দাবি জানিয়েছে শনিবার ৩ নভেম্বর নির্বাচন কমিশন বরাবর চিঠি দিয়ে। যদিও বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ারভুক্ত, তথাপিও নির্বাচন কমিশন ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে সরকারের দফা-রফা হওয়ার জন্য অপেক্ষা করবে নাকি তফসিল ঘোষণা করবেÑ সেটি দেখার বিষয়। তবে দ্বিতীয় দফা আলোচনার আয়োজন খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে হলেও বিএনপির একদফা তথা খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়টি শেখ হাসিনা আদৌ করতে পারবেন কিনা সেটিও দেখার বিষয়।

লেখক : অধ্যাপক, ইতিহাস বিভাগ, বাউবি

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ