প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বিভেদ নয় সমঝোতাই সমাধানের পথ

তৌফিক আহমেদ 

 

ইস্যুর পরে ইস্যু আসে ইস্যু চলে যায়

ইস্যুগুলো টিস্যু দিয়ে মুছে ফেলে হায়!

আবেগী বাঙালী আবার নতুন ইস্যু চায়।

সম্প্রতি সাংবাদিক খাসোগী হত্যা নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনার ঝড় বয়ে গেলেও দেশীয় খাঁটি অর্গানিক ইস্যু হিসেবে ব্যারিস্টার মঈনুল হোসেন কর্তৃক সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টিকে চরিত্রহীন সম্বোধনের প্রেক্ষিতে মানহানী মামলায় জনাব মঈনুল হোসেনের গ্রেফতার এক বিশেষ মাত্রার ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। এতে আলোচনার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ চাঙ্গাভাব গেলো বেশ কয়েকদিন। সাথে যুক্ত হয়েছিলেন অন্যান্যদের মধ্যে নির্বাসিত লেখক তসলিমা নাসরিনও। পাশাপাশি সালাদ, ডেজার্ট বা কোমল পানীয় হিসেবে ডা. জাফরল্লাহ চৌধুরীর নামে মাছ চুরি, গাছ চুরি, দেয়াল ভাঙ্গা, জমি দখল, ফল ফুল চুরিসহ চাঁদাবাজিতে গিয়ে ঠেকেছে অসংখ্য মোকদ্দমা। জনমনে প্রশ্ন উঠেছে তাহলে এতোদিন এ বিষয়গুলো কেন উঠে আসেনি কিংবা কেন মামলা করা হয়নি।

এসময়ের সর্বোচ্চ ইস্যু ছিল স্কুল পড়–য়াদের নিরাপদ সড়কের দাবিতে এক যুগান্তকারি আন্দোলন। স্কুল শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এবং এক মন্ত্রীর বালখিল্য আচরণ ও হাস্যরসাত্মক আলোচনার বিরুদ্ধে গোটা দেশ রুখে উঠেছিল। প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ ও ইতিবাচক উদ্যোগে সাময়িক রোগ প্রশমন হলেও চূড়ান্ত ফল পাওয়া বা ছাত্রদের দাবি বাস্তবায়ন নিয়ে জনমনে অসন্তোষ কাটেনি এখনও।

কোটা সংস্কার ইস্যু আপাতত সুরাহার পথেই বলা যায়। তবে কোন কোন পক্ষে ছাই চাপা উত্তাপ টের পাওয়া যায়।

সম্প্রতি প্রধান ইস্যুর আসন অলংকৃত করেছে হঠাৎ করে তৈরি করা শ্রমিকদের ৪৮ ঘণ্টার পরিবহন ধর্মঘট বা কর্মবিরতি। আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু থাকলেও আপাতত গুরুত্ব পায়নি। এর মধ্যে জিয়া চ্যারিট্যাবল দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়ার নতুন করে ৭ বছরের সাজার রায় ঘোষণা। পাশাপাশি নির্বাচন কমিশন কর্তৃক জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের নিবন্ধন বাতিল করা।

পরিবহন ধর্মঘট ইস্যু নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের সাথে সম্পর্কিত। জাতীয় সংসদে যে আইন পাশ হয়েছিলো তার কিছু অংশ বাতিলসহ আরও কিছু দাবি জানিয়ে শ্রমিকরা এক অভিনব বর্বতার বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়ে চলেছে গত দু’দিন ধরে। স্থবির হয়ে পড়েছে সার্বিক জীবনযাত্রা। জনদুর্ভোগ চরমে উঠেছে। আন্দোলনরত শ্রমিকরা শিক্ষার্থী, পথচারি ও প্রাইভেট গাড়ির চালকদের মুখে পোড়া মোবিল, কালি-ঝুলি মাখিয়ে দিয়ে দেশের ভাবমূর্তি এক আদিম বর্বতায় নিয়ে গেছে। মানুষ এই বর্বরতার অবসান চায়। যেসব ক্ষমতাধর নাটের গুরু, কুশীলব, উস্কানীদাতা; তাদের ব্যাপারেও পদক্ষেপ গ্রহণ প্রত্যাশা করে।

এতোকিছুর পরেও একটি ইতিবাচক ইস্যু আশার সঞ্চার করেছে এক পশলা স্বস্তির বৃষ্টির মত। আর তা হলো, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সাথে সরকার সংলাপে অংশ নিতে আগ্রহ প্রকাশ। সাধারণ জনগণ, বিজ্ঞজন আশাবাদী অন্তত এই একটি ইস্যুতে। একাদশ সংসদ নির্বাচন কেন্দ্র করে যে অস্থিরতার বরফ জমে আছে আপাতত মানুষ বিশ্বাস করতে চাইছে, এই হতাশার বরফ গলে পানি হয়ে ধুয়ে যাবে সহিংসতার অশুভ আবর্জনা। লেখক : ছড়াকার, সাংস্কৃতিককর্মী। সম্পাদনা : রেআ

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ