প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আ’ লীগের কাছে শরিকদের দাবি ৭০ আসন

রফিক আহমেদ : সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী ডিসেম্বর মাসের তৃতীয় সাপ্তাহে অনুষ্ঠিত হচ্ছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এ নির্বাচনকে সামনে রেখে ১৪ দলীয় জোটের শরিকরা আসন নিয়ে দরকষাকষি শুরু করেছে। তারা আগের চেয়ে বেশি আসন চান। এ নিয়ে শরিক নেতারা ১৪ দলের সমন্বয়ক মোহাম্মদ নাসিমের সাথে আলোচনা করেছেন। তিনিও শরিকদের আশ্বাস দিয়েছেন। কিন্তু এখনো নিশ্চিত করা হয়নি কত আসন পাচ্ছেন ১৪ দলের শরিকরা।

জানা গেছে, আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের একাধিক বৈঠকে হয়েছে। তবে সরকারবিরোধীদের ষড়যন্ত্র ও নৈরাজ্য ঠেকাতে এবং আবারো নৌকায় ভোট দিতে দেশবাসীকে আহ্বান জানানো হয়েছে এসব বৈঠকে। এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে আসন বণ্টনের কোনো বিষয় ওঠেনি এসব বৈঠকে। এ নিয়ে বিভিন্ন সমীকরণ চলছে। যেখানে আওয়ামী লীগ ও শরিকদলের প্রভাবশালী নেতা সেখানকার বিষয় নিয়ে দ্বিধা-দ্ব›েদ্ব আছেন জোটের নেতারা। এ ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে আগেই আলাপ আলোচনা করতে চাচ্ছে শরিক দলের নেতারা।

১৪ দলের শরিক নেতাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, নির্বাচনের আগেই আসন বণ্টনের বিষয়টি ‘ফয়সালা’ চায় তারা। মূলত গেল দুই নির্বাচনের অভিজ্ঞতা তাদের অনাস্থা তৈরিতে মুখ্য ভূমিকা রাখছে। নির্বাচন এগিয়ে আসায় এ অনাস্থা জোটের ঐক্যে কিছুটা হলেও সংকট তৈরি করছে বলে মনে করছেন সংশ্নিষ্ট নেতারা। ১৪ দলের সাম্প্রতিক বৈঠকগুলোতেও বিষয়টি তোলার চেষ্টা করেছেন শরিক দলগুলোর কোনো কোনো নেতা।

সংশ্লিষ্টরা জানান, শরিক সব দলই আগামী নির্বাচনের জন্য তাদের দলীয় প্রার্থীর তালিকাও ইতোমধ্যে তৈরি করে ফেলেছে। বেশিরভাগ দলই নিজস্ব প্রার্থীর তালিকার পাশাপাশি দরকষাকষির জন্য সংক্ষিপ্ত তালিকাও করে রেখেছে। জয়লাভের সম্ভাবনা বিবেচনায় এনেই এসব তালিকা করা হচ্ছে বলে দাবি শরিক দলগুলোর নেতাদের। সব মিলিয়ে ১৪ দলের শরিকরা আগামী নির্বাচনে অন্তত ৭০টি আসনের নিশ্চয়তা চাইছে। গেলো নির্বাচনে ১৪ দলের শরিক দলগুলোকে মাত্র ১৬টি আসনে ছাড় দিয়েছিলো আওয়ামী লীগ।

শরিক নেতারা জানান, ওয়ার্কার্স পার্টি আগামী নির্বাচনে অন্তত ১৫টি আসনে জোটের মনোনয়নের নিশ্চয়তা চাইছে। তবে দলের পক্ষে ৩০টি আসনের দলীয় প্রার্থী তালিকা তৈরি করে রাখা হয়েছে। দলের সভাপতি সমাজকল্যাণমন্ত্রী রাশেদ খান মেননের ঢাকা-৮ ও সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশার রাজশাহী-২ আসনসহ বর্তমান সংসদের নির্বাচিত দলীয় ছয় এমপির আসন তাদের প্রত্যাশায় অগ্রাধিকার পাচ্ছে। একইভাবে জাসদ সভাপতি তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর কুষ্টিয়া-২ ও সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতারের ফেনী-১ আসন, ঢাকা মহানগর পূর্ব সভাপতি শহিদুল ইসলাম ঢাকা-৫ আসনসহ ১৫টি আসন চাইছে দলটি। জাতীয় পার্টির (জেপি) চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর পিরোজপুর-২ ও সাধারণ সম্পাদক শেখ শহীদুল ইসলামের মাদারীপুর-৩ অথবা অন্য যে কোনো আসন এবং তরীকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান নজিবুল বশর মাইজভান্ডারীর চট্টগ্রাম-২ ও মহাসচিব এমএ আউয়ালের ল²ীপুর-১ আসনসহ ১৫টি আসনের দাবি তুলেছে এ দুই দল। জোটের আরেক শরিক সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়ার চট্টগ্রাম-১ আসনসহ অন্তত ছয়টি আসন চায়।

গণতন্ত্রী পার্টি দলের সভাপতি ব্যারিস্টার আরশ আলীর সিলেট-১ আসনসহ ১০টির বেশি আসনে মনোনয়নের নিশ্চয়তা চায়। কমিউনিস্ট কেন্দ্র চাইছে দলের আহŸায়ক ডা. ওয়াজেদুল ইসলাম খান ও যুগ্ম আহŸায়ক ডা. অসিতবরণ রায়ের জন্য দু’টি আসন। এছাড়া ন্যাপ, গণআজাদী লীগ, গণতান্ত্রিক মজদুর পার্টি এবং বাসদ (একাংশ) সহ শরিক অন্য দলগুলো মনোনয়ন দেয়ার ক্ষেত্রে ‘যথাযথ মূল্যায়ন’ আশা করছে আওয়ামী লীগের কাছে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশে ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ও রাজশাহীর সাংসদ ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, ১৪ দলীয় জোটে এখনও কোনো দলকে নির্দিষ্ট করে কোনো আসনে প্রার্থী করার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়নি। সবাইকে নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়ার জন্য নির্দেশনা আছে। তবে আমি নির্বাচনী আসনের বিষয়গুলো চূড়ান্ত করার পক্ষে। এতে নির্বাচনের ঠিক আগে ভুল বোঝাবুঝির শঙ্কা থাকবে না।

জাসদের সাধারণ সম্পাদক শিরিন আখতার বলেন, ১৪ দলের শরিক হিসেবে দলের ডিমাÐ জানানো হবে। দলের শক্তি আগের চেয়ে আরো বেড়েছে। পার্লামেন্টে এখন যে কয়টা আসন আছে, শক্তি বাড়বে। দলের বৈঠকে আলোচনা করে জোটের বৈঠকে চাহিদার কথা বলবো।

এ ব্যাপারে ১৪ দলের সমন্বয়ক ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমÐলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম বলেন, এ বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি। শরিক হিসেবে তারা তো নির্বাচনী আসন পাবেনই। নির্বাচনের আগে বৈঠক করে আমরা সিদ্ধান্ত নেব কে কোথায় নির্বাচন করবেন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ