প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বরিশাল-১
আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী হাসানাত, বিএনপিতে দ্বন্দ্ব

খোকন আহম্মেদ হীরা, বরিশাল : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে জাতীয় সংসদের ১১৯, বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া) আসন নিয়ে চলছে নানা আলোচনা। ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ এরই মধ্যে মাঠে নেমে পড়েছে। এ আসনে জয়ের ধারা অব্যাহত রাখতে একক প্রার্থী আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর পক্ষে প্রতিদিন গণসংযোগ করছেন দলের নেতাকর্মীরা।

ইতোমধ্যে দুই উপজেলার ১১৫টি ভোট কেন্দ্রে কমিটিও গঠণ করা হয়েছে। একইসাথে প্রতিদিন দলীয় কার্যালয়ে নির্বাচনী প্রস্তুতি সভা করছেন দলের নেতৃবৃন্দরা। অপরদিকে বিএনপির চারজন প্রার্থী দলীয় মনোনয়ন চাইলেও বিগত ওয়ান ইলেভেন থেকে শুরু করে মাঠপর্যায়ে দুইজন সম্ভাব্য প্রার্থী ছাড়া অন্যকাউকে মাঠপর্যায়ে দেখা যায়নি। তবে শেষপর্যন্ত এ আসনে কে হচ্ছেন বিএনপির প্রার্থী তা নিয়ে চলছে চুলচেড়া বিশ্লেষন।

বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা অভিযোগ করেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে এরইমধ্যে একাধিক গায়েবী মামলায় বিএনপির শত শত নেতাকর্মীকে আসামি করে নির্বাচনী মাঠছাড়া করা হয়েছে। ফলে নেতাকর্মীরা গ্রেফতার এড়াতে এখন নিজ নিজ এলাকা ছেড়ে আদালতের বারান্দায় ঘোরাঘুরি করেই সময় পার করেছেন। এ অভিযোগ অস্বীকার করে আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দরা বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি তাদের নিশ্চিত পরাজয় জেনে মনগড়া বক্তব্য দিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াতে চাচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গুঞ্জন উঠেছিলো এ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হতে যাচ্ছেন মন্ত্রী পদমর্যাদায় থাকা বর্তমান সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ’র কনিষ্ঠ পুত্র জেলা আওয়ামী লীগের অন্যতম সদস্য সেরনিয়াবাত আশিক আব্দুল্লাহ। নির্বাচনী এলাকার দলের প্রতিটি কর্মসূচিতে আন্তরিকতার সাথে অংশগ্রহণ, দলের দুর্দীনের ত্যাগী ও নির্যাতিত নেতাকর্মী এবং সমর্থকদের প্রাণের স্পন্দন আশিক আব্দুল্লাহর এলাকায় ব্যাপক জনপ্রিয়তাও রয়েছে। তাই দলীয় নেতাকর্মীদের ধারনা ছিলো বর্তমান সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ অন্যকোন আসন থেকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলে এ আসনটি সেরনিয়াবাত আশিক আব্দুল্লাহকে ছেড়ে দেয়া হতে পারে।

দলের নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, দেশব্যাপী তরুন নেতৃত্বের জয়জয়কার শুরু হলেও এখনই আশিক আব্দুল্লাহকে নির্বাচনী প্রতিদ্বন্ধিতায় নামাতে চাননা সাংসদ আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ। তাই তিনি (হাসানাত) দল ও দেশের জন্য জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ন্যায় আশিক আব্দুল্লাহকে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন।

গৌরনদী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র মোঃ হারিছুর রহমান বলেন, এ আসনে আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাই, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বর্তমান সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ। তিনি (হাসানাত) শুধু নিজ নির্বাচনী এলাকায়-ই নয়, বরিশালসহ গোটা দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নে রয়েছে তার বিশেষ অবদান। এছাড়াও দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের একমাত্র আশ্রয়স্থল হচ্ছেন আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ। নির্বাচনী এলাকায় ব্যাপক উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডের কারণে যেকোনো সময়ের তুলনায় এখানে আওয়ামী লীগ বেশ শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। ফলে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা।

অন্যদিকে বরিশাল-১ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেতে কেন্দ্রে লবিং করছেন চারজন কেন্দ্রীয় নেতা। এরা হলেন, নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও নির্বাহী কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সোবাহান, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এ্যাডভোকেট গাজী কামরুল ইসলাম সজল, উত্তর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান ও সংস্কারপন্থী হিসেবে ওয়ান ইলেভেনের সময় দলের বিরুদ্ধে ঘুরে দাঁড়ানো সাবেক সাংসদ এম জহির উদ্দিন স্বপন।

বিএনপির নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, কয়েক দশক ধরে এখানে বিএনপিতে চলতে থাকা কোন্দল ও বিভক্তির সমাধান হয়নি এখনও। দলীয় কোন্দলের কারণে ১৯৯১ সালের সংসদ নির্বাচনে আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর সাথে প্রতিদ্বন্দিতা করে পরাজিত হন তৎকালীন কেন্দ্রীয় বিএনপির সহসভাপতি ভাষা সৈনিক কাজী গোলাম মাহাবুব। ১৯৯৩ সালে বিএনপিতে যোগদান করেন জহির উদ্দিন স্বপন। ১৯৯৬ সালে এ আসনে ফের মনোনয়ন পান কাজী গোলাম মাহাবুব। তবে জহির উদ্দিন স্বপন মনোনয়ন না পেয়ে তার সমর্থকদের নিয়ে নিজ দলের প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিরোধিতা করায় কাজী গোলাম মাহাবুব দ্বিতীয়বারের মতো আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহর কাছে পরাজিত হন। ওয়ান ইলেভেনের সময় সংস্কারপন্থীদের সাথে হাত মেলানোর কারণে জহির উদ্দিন স্বপনকে দল থেকে মনোনয়ন দেয়া হয়নি। ফলে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে বিএনপির মনোয়ন পান কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সোবাহান। মনোনয়ন না পেয়ে ওই নির্বাচনেও স্বপনের অনুসারীরা প্রকাশ্যে আব্দুস সোবাহানের বিরোধিতা করেন। দলীয় কোন্দলের কারণে আওয়ামী লীগ প্রার্থী এ্যাডভোকেট তালুকদার মোঃ ইউনুসের কাছে বিএনপির প্রার্থী আব্দুস সোবাহান পরাজিত হয়েও ৭৬ হাজার ভোট পেয়েছিলেন।

সূত্রমতে, নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী সময় থেকে অদ্যবর্ধি মাঠপর্যায়ে প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রাম ও দলীয় কর্মসূচীতে নেতাকর্মী এবং সমর্থকদের নিয়ে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছেন সম্ভাব্য প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার আলহাজ্ব আব্দুস সোবাহান ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এ্যাডভোকেট গাজী কামরুল ইসলাম সজল। এছাড়া অন্যকাউকে মাঠপর্যায়ে পাওয়া যায়নি। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখেও তারা দুইজন (সোবাহান ও সজল) প্রকাশ্যে মাঠে না নামলেও কৌশলে তারা নেতাকর্মীদের নিয়ে নির্বাচনী প্রস্তুতি নিচ্ছেন। বিএনপির অন্যতম মনোনয়ন প্রত্যাশী আব্দুস সোবাহান ও এ্যাডভোকেট গাজী কামরুল ইসলাম সজল একাদশ জাতীয় নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেলে জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আত্মবিশ্বাসী। এখানে জাতীয় পার্টি (এরশাদ) এককভাবে নির্বাচন করলে প্রার্থী হতে পারেন এ্যাডভোকেট ছেরনিয়াবাত সেকান্দার আলী। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে মাঠে গণসংযোগ করছেন মেহেদী হাসান রাসেল।

সূত্রমতে, বরিশাল-১ আসনের গৌরনদী উপজেলার সাতটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় সর্বমোট ভোটার সংখ্যা এক লাখ ৪৫ হাজার ৩৫ জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ৭২ হাজার ৮৭২ ও নারী ভোটার ৭১ হাজার ১৬৩ জন। মোট ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ৬৫। নির্বাচনী এলাকার আগৈলঝাড়া উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে ভোটার সংখ্যা এক লাখ ১২ হাজার ১৮৫জন। এরমধ্যে পুরুষ ৫৬ হাজার ১৪৫ ও নারী ভোটার ৫৬ হাজার ৪০জন। মোট ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ৫০। দুই উপজেলায় সর্বমোট ভোটার সংখ্যা দুই লাখ ৫৭ হাজার ২২০জন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ