প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

‘ছোবল মারার সুযোগ পেলে হেফাজত ছাড়বে না’

ফেসবুক : দেশের বাম দলগুলোর বাইরে একটিমাত্র দল আছে যাদের অন্যতম ঘোষিত আদর্শ হচ্ছে ধর্মনিরপেক্ষতা। সেই দলটি আওয়ামী লীগ। সেই পাকিস্তান আমলে ইসলামি জজবার মধ্যে ‘আওয়ামী মুসলিম লীগে’র ‘আওয়ামী লীগে’ রূপান্তরিত হওয়া যে কতবড় বিপ্লবী পদক্ষেপ ছিল তা এখন চিন্তা করাই কঠিন। ‘মুসলিম’ শব্দটি বাদ দেওয়ার কারণেই আওয়ামী লীগ হতে পেরেছিল এই দেশের সকল ধর্মের মানুষের নিজস্ব দল, প্রাণের দল। সেই কারণেই দেশকে স্বাধীনতা পর্যন্ত নিয়ে যেতে পেরেছিলেন বঙ্গবন্ধু। এখনো যে আওয়ামী লীগ এই দেশের মানুষের কাছে তুলনামূলক নিরাপদ একটি আশ্রয়, তার প্রধান কারণ হচ্ছে, আওয়ামী লীগ কাগজে-কলমে এবং মুখে অন্তত ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বলে।

সংখ্যালঘু সম্প্রদায়, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী এবং স্বাধীনতার চেতনার মূলধারায় বিশ্বাসী মানুষের কাছে এখন একটি বড় প্রশ্নবোধক চিহ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে হেফাজতে ইসলামের সাথে আওয়ামী লীগের সখ্য। এই সখ্য কেবলমাত্র কাগজে-কলমে নয়, কাজেও দেখা যাচ্ছে। হেফাজতের দাবি অনুযায়ী সরকার এমনকি পাঠ্যপুস্তকে পরিবর্তন পর্যন্ত এনেছে। যে কওমী মাদ্রাসায় কোনোদিন জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশিত হয় না, যেখানকার পাঠ্যসূচির ওপরে কোনো প্রতিষ্ঠানেরই কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই, সেই কওমী মাদ্রাসার দাওরা ডিগ্রিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি ও ইসলামের ইতিহাসের সমমানের মাস্টার্স ডিগ্রি হিসাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।

সরকারের দৃষ্টিতে এটা কি শুধুমাত্র নির্বাচনে তাদের সমর্থন লাভের স্ট্রাটেজিক একটি পথ? নাকি সরকার নিজেই বিশ্বাস করেন যে হেফাজতের দাবি-দাওয়া যুক্তিসঙ্গত? সরকার কি বিশ্বাস করেন যে দেশকে মদীনা সনদ অনুযায়ী পরিচালনা করা কি সময়ের দাবি?

যদি শুধুমাত্র প্রথমটিকেই কারণ হিসাবে ধরে নেওয়া হয়, তাহলেও প্রশ্ন ওঠে, আওয়ামী লীগ কি হেফাজতের নিরংকুশ সমর্থন পাবে আগামী নির্বাচনে? হেফাজত মানে তো কেবল হাটহাজারি মাদ্রাসা নয়, ১৩টি দল এবং গোষ্ঠীর মোর্চা। সেগুলোর মধ্যে আবার ৪টি দল সরাসরি বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় ঐক্যজোটের অন্তর্ভুক্ত। তার মানে হেফাজতের পূর্ণাঙ্গ সমর্থন তো আওয়ামী লীগ পাচ্ছে না। বরং ৮টি দল সরাসরি বিরোধিতা করছে আওয়ামী রাজনীতির। এবং আওয়ামী লীগকে ক্ষমতা থেকে টেনে নামানোর জন্য তারা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করছে বিএনপি-জামাতের সাথে।

বাকি সংগঠনগুলোর কী অবস্থা? তারা সরাসরি ধর্মনিরপেক্ষতার বিরুদ্ধে। আওয়ামী লীগ অন্যতম মূলনীতি হিসাবে যেখানে ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বলে, হেফাজত সেখানে ইসলামি আইন প্রতিষ্ঠিত করতে চায়। মাদ্রাসার ছাত্র-শিক্ষকরা আওয়ামী লীগকে যথেষ্ট ইসলামি দল বলে বিশ্বাস মনে করে না। বিপরীতটাই সত্য। তারা মনে করে যে আওয়ামী ক্ষমতায় এলেই সংখ্যালঘুদের দাপট বেড়ে যায়। এছাড়া দীর্ঘদিনের অপপ্রচারের কারণে তারা একথাও বিশ্বাস করে যে আওয়ামী লীগ হচ্ছে ভারতের দালাল। তাই মুখে শান্তির কথা বললেও তাদের ভোটগুলো যে নৌকার বাক্সে পড়বে, এমনটি শতভাগ বিশ্বাস করার কোনো যৌক্তিকতা নেই।

শেখ হাসিনা বা আওয়ামী লীগ নেতারা এখন ‘কুত্তার মুখে হাড্ডি’ ছুঁড়ে দেওয়ার পদ্ধতিতে ক্ষমতা সুরক্ষিত রাখার চেষ্টা করছেন। ‘যে কুত্তার মুখের যা সাইজ সেই কুত্তাকে সেই সাইজের হাড্ডি ছুঁড়ে দাও’ তত্ত্ব অনুযায়ী সব ধরনের দল-পেশা-বুদ্ধিজীবী-চাকুরিজীবীদের তিনি শব্দহীন বানিয়ে রেখেছেন। কিন্তু বড় হাড্ডির লোভ যখন অন্য কেউ দেখাবে?

তাছাড়া হেফাজতও স্ট্রাটেজিক কারণেই সখ্য বজায় রেখেছে আপাতত। ছোবল মারার সুযোগ পেলে ছাড়বে না– এটুকু নিশ্চিত।

(জাকির তালুকদার)

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ