প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

জীবননগরে অধ্যাপিকার বিরুদ্ধে গৃহকর্মীকে নির্যাতনের অভিযোগ

জামাল হোসেন খোকন : চুয়াডাঙ্গার জীবননগর সরকারি মহিলা কলেজের সহকারী অধ্যাপিকার বিরুদ্ধে গৃহপরিচারিকাকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। নির্যাতিত গৃহপরিচারিকাকে জীবননগর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার ব্যাপারে মামলার প্রস্ততি চলছে।

উপজেলার আন্দুলবাড়ীয়ার আনসার আলীর ছেলে শাহেদ আলী অভিযোগ করে বলেন,আমার বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করে আমাদের ছেড়ে চলে গেছে। আমার মা লিলি খাতুন(৫০) অন্যের বাড়ীতে ঝিঁয়ের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন। আমার গত দু’সপ্তাহ আগে জীবননগর সরকারী মহিলা কলেজের প্রফেসর পাপিয়া সারমিন ইতির বাড়ীতে মাসিক দু’হাজার টাকা চুক্তিতে গৃহকর্মি হিসাবে কাজ শুরু করেন। মায়ের নিকট শুনেছি ওই প্রফেসর ইতির নিকট থেকে আমার কিছু টাকা আগাম নিয়েছেন। আমার মা গত শুক্রবার বাড়িতে আসে এবং শনিবার বিকালে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। কিন্তু প্রফেসর লিলি তা মানতে নারাজ। এ অবস্থায় শনিবার সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে প্রফেসর ইতি আমার মাকে জোর করে মিশুক যোগে তুলে নিয়ে যায়। পরে শুনি আমার মা হাসপতালে ভর্তি হয়েছেন।

নির্যাতনের শিকার গৃহপরিচারিকা লিলি খাতুন হাসপাতালে বলেন,প্রফেসর ইতি আমার আত্মীয় হয়। আমি তার বাড়িতে কাজ শুরুর পর থেকে আমার ওপর নানা ভাবে নির্যাতন অত্যাচার শুরু করেন। আমার ঠিকমত খেতে না দিয়ে খালি কাজ করিয়ে নেয়। আমি শুক্রবার সকালে বাড়িতে যাই এবং শনিবার বিকালে ফিরে যাওয়ার কথা বললে ইতি আমার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে আামার বাড়িতে শনিবার সকালে যায় এবং সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে আমাকে জোর করেই ধরে মিশুক যোগে যাওয়ার সময় আন্দুলবাড়ীয়া-সন্তোষপুর সড়কের পোল ফ্যাক্টরীর সামনে রাস্তায় মিশুক থেকে ফেলে দিয়ে চলে যায়। লোকজন আমাকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। প্রফেসর ইতি আমাকে বাড়িতেও নানা অজুহাতে মারপিট করতো।

এ ব্যাপারে আন্দুলবাড়ীয়ার আওয়ামী লীগ নেতা মীর্জা হাকিবুর রহমান লিটন বলেন, প্রফেসর ইতি আমাদের চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের এমপি হাজী আলী আজগার টগরের শ্যালিকা হওয়ায় তিনি এলাকায় কাউকে পরোয়া করেন না। আমি শুনেছি তার বাড়ির কাজের বুয়া লিলি খাতুনকে গাড়ি থেকে রাস্তায় ফেলে দিয়ে মারাত্মক ভাবে আহত করেছে। একজন মানুষ গড়ার কারিগর শিক্ষিকা দিয়ে যদি এমন ন্যাক্কারজনক কাজ হয়,তাহলে তাদের নিকট থেকে জাতি কি শিখবেন।

ব্যাপারে অভিযুক্ত অধ্যাপিকা পাপিয়া সারমিন ইতি বলেন, আমার সাথে মিশুক আসছিল ঠিক। তবে আমি তাকে ধাক্কা দিয়ে রাস্তায় ফেলে দিয়েছি কথাটি সঠিক নয়। আমি এমপি সাহেবের শ্যালিকা হওয়ায় আমার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র চলছে।

জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ গনি মিয়া বলেন, ঘটনার ব্যাপারে এখনও পর্যন্ত কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি। লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ