প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বিএনপি নেতা তরিকুল ইসলাম আর নেই

শিমুল মাহমুদ : বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলাম আর নেই। গতকাল রোববার বিকেল ৫টায় রাজধানীর অ্যাপোলো হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন (ইন্না-লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স ছিল ৭২ বছর। তিনি দীর্ঘদিন ধরে কিডনি জটিলতা, ডায়াবেটিস, শ্বাসকষ্ট, উচ্চ রক্তচাপসহ বিভিন্ন রোগে ভুগছিলেন।

বিএনপির সহদপ্তর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু জানান, তরিকুল ইসলামের মরদেহ তার শান্তিনগরের বাসভবনে নেয়া হয়েছে। আগামীকাল সকাল ১০ টায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে প্রথম জানাজা অনুষ্টিত হবে। এরপর সোয়া এগারোটায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণপ্লাজায় দ্বিতীয় জানাজা হবে। যশোর ঈদগাঁ মাঠে বিকাল ৪ টায় তৃতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।

প্রবীণ এই রাজনীতিকের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সহ দলের বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ।

১০ অক্টোবর তাকে পুরান ঢাকার আজগর আলী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে ১২ অক্টোবর অ্যাপোলো হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) ভর্তি করা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি।
বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন আহ্বায়ক কমিটির অন্যতম সদস্য তরিকুল ইসলাম দলের বিভিন্ন পর্যায়ে কাজ করেছেন। বিএনপিতে সর্বজন শ্রদ্ধেয় হিসেবে পরিচিত এই নেতা বিগত চারদলীয় জোট সরকারের সময় তথ্য এবং পরিবেশ ও বনমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন।

তরিকুল ইসলামের জন্ম ১৯৪৬ সালের ১৬ নভেম্বর, যশোরে। রাজনীতিতে হাতেখড়ি ছাত্রজীবনেই। যশোর এমএম কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন তিনি। কলেজের শহীদ মিনার জরাজীর্ণ হওয়ায় ১৯৬২ সালে সহপাঠীদের শহীদ মিনার তৈরি করে পাকিস্তান সামরিক সরকারের রোষানলে পড়েন, গ্রেফতারও হন। কারাগারে কমিউনিস্ট পার্টির নেতাদের সঙ্গে পরিচয়। সেই সূত্রে দীক্ষা বাম রাজনীতিতে। ১৯৬৩-৬৪ শিক্ষাবর্ষে ছাত্র ইউনিয়নের প্রার্থী হিসেবে যশোর এমএম কলেজ ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৬৮ সালে আইয়ুববিরোধী আন্দোলনের জন্য রাজবন্দি হিসেবে যশোর ও রাজশাহীতে কারাভোগ করেন দীর্ঘ ৯ মাস। ১৯৬৯ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে গণআন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ায় গ্রেফতার হন। ১৯৭০ সালে মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টিতে যোগ দেন এবং মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।

ভাসানী ন্যাপ থেকে জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক দল (জাগদল) হয়ে বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত হন বরেণ্য এ রাজনীতিক। জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে বিএনপির ৭৬ সদস্যের প্রথম আহ্বায়ক কমিটির অন্যতম সদস্য তরিকুল ইসলাম। সেই সঙ্গে বিএনপির যশোর জেলা আহ্বায়কের দায়িত্ব পান। ১৯৮০ সালে জাতীয়তাবাদী দলের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন তিনি। পরে পর্যায়ক্রমে তিনি দলের যুগ্ম মহাসচিব, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব, ভাইস চেয়ারম্যান ও ২০০৯ সালে অনুষ্ঠিত দলের পঞ্চম জাতীয় কাউন্সিলে স্থায়ী কমিটির সদস্য পদ পান।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ