Skip to main content

প্রথম ইনিংসে ১৪৩ রানে গুটিয়ে গেলো বাংলাদেশ

স্পোর্টস ডেস্ক: দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজের প্রথম ম্যাচের দ্বিতীয় দিন মাঠে লড়ছে স্বাগতিক বাংলাদেশ এবং সফরকারী জিম্বাবুয়ে। বেশি লড়তে হচ্ছে স্বাগতিকদের। জিম্বাবুয়ের প্রথম ইনিংসে করা ২৮২ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে ১৪৩ রানেই গুটিয়ে গেছে বাংলাদেশ। তাতে স্বাগতিকরা পিছিয়ে ১৩৯ রান। ব্যাটিংয়ে নেমে বেশিক্ষণ টিকে থাকতে পারেননি ইমরুল কায়েস। দ্বিতীয় সেশনের শুরুতে ইনিংসের চতুর্থ ওভারে ব্যক্তিগত ৫ রান করে তেন্দাই চাতারার বলে বোল্ড হন ইমরুল। দলীয় ৮ রানের মাথায় বাংলাদেশ প্রথম উইকেট হারায়। দলীয় ১৪ রানের মাথায় দ্বিতীয় উইকেটের পতন ঘটে। কাইল জারভিসের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন আরেক ওপেনার লিটন দাস (৯)। দুই ওপেনারের দেখানো পথে সাজঘরে ফেরেন তিন নম্বরে নামা নাজমুল হোসেন শান্ত। চাতারার বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফেরার আগে তিনি করেন মাত্র ৫ রান। দলীয় ১৯ রানে টপঅর্ডারের তিন ব্যাটসম্যানকে হারায় বাংলাদেশ। স্কোরবোর্ডে কোনো রান যোগ না হতেই বিদায় নেন অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। দশম ওভারেই বাংলাদেশ দুই উইকেট হারায়। দলীয় ১৯ রানেই বাংলাদেশ টপঅর্ডারের চার ব্যাটসম্যানকে হারিয়ে ধুঁকতে থাকে। সেখান থেকে কিছুটা প্রতিরোধ গড়েন মুশফিক-মুমিনুল। তবে, দলীয় ৪৯ রানের মাথায় মুমিনুলের (১১) বিদায়ে আবারো বিপাকে পড়ে বাংলাদেশ। সিকান্দার রাজার বলে মাসাকাদজার হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন মুমিনুল। চা-বিরতি থেকে ফিরে মাত্র দুই বল খেলতে পারেন মুশফিকুর রহিম। বিরতি থেকে ফিরে প্রথম বলে বাউন্ডারি হাঁকানোর পরের বলেই মুশফিককে ফিরিয়ে দেন কাইল জারভিস। ৫৪ বলে ব্যক্তিগত ৩১ রান করেন মুশফিক। ইনিংসের ৩৯তম ওভারে বিদায় নেন মেহেদি হাসান মিরাজ। শেন উইলিয়ামসের বলে তারই হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরার আগে মিরাজ ৩৩ বলে করেন ২১ রান। দলীয় ১০৮ রানের মাথায় বাংলাদেশ সপ্তম উইকেট হারায়। দলীয় ১৩১ রানের মাথায় বিদায় নেন তাইজুল ইসলাম। ব্যক্তিগত ৮ রান করে রাজার বলে চাকাভার হাতে ধরা পড়েন তাইজুল। সিকান্দার রাজার তৃতীয় শিকারে বিদায় নেন নাজমুল ইসলাম অপু (৪)। ১৪৩ রানের মাথায় বাংলাদেশ নবম উইকেট হারায়। শেষ ব্যাটসম্যান আবু জায়েদ রাহি রানআউট হন। অভিষেক ম্যাচে অপরাজিত থাকেন ৯৬ বলে ৪১ রান করা আরিফুল হক। এর আগে প্রথম দিন শেষে জিম্বাবুয়ে ৯১ ওভার ব্যাট করে ৫ উইকেট হারিয়ে তোলে ২৩৬ রান। দ্বিতীয় দিন প্রথম সেশনে গুটিয়ে যাওয়ার আগে জিম্বাবুয়ে তোলে ২৮২ রান। স্পিনার তাইজুল ইসলাম একাই ৬টি উইকেট তুলে নেন। নাজমুল ইসলাম অপু দুটি উইকেট পান। একটি করে উইকেট তুলে নেন আবু জায়েদ রাহি এবং মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। প্রথম ইনিংসে উইকেট শূন্য থাকেন আরিফুল হক এবং মেহেদি হাসান মিরাজ। সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক হ্যামিলটন মাসাকাদজা। সফরকারীদের হয়ে ওপেনিংয়ে নামেন অধিনায়ক হ্যামিলটন মাসাকাদজা এবং ব্রায়ান চারি। ইনিংসের ১১তম ওভারে তাইজুলের বলে বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরেন ব্রায়ান চারি। বিদায়ের আগে তিনি করেন ৩১ বলে ১৩ রান। দলীয় ৩৫ রানের মাথায় প্রথম উইকেট হারায় জিম্বাবুয়ে। দলীয় ৪৭ রানের মাথায় আবারো আঘাত হানেন তাইজুল। ব্যক্তিগত ৬ রানে শর্টে দাঁড়ানো নাজমুল হোসেন শান্তর হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ব্রেন্ডন টেইলর। প্রথম দিনের প্রথম সেশনে ৩১ ওভার শেষে জিম্বাবুয়ে দুই উইকেট হারিয়ে তোলে ৮৫ রান। দ্বিতীয় সেশনের শুরুতেই আঘাত হানেন আবু জায়েদ রাহি। ওপেনার হ্যামিলটন মাসাকাদজাকে এলবির ফাঁদে ফেলে ফিরিয়ে দেন এই ডানহাতি পেসার। দলীয় ৮৫ রানের মাথায় জিম্বাবুয়ে তাদের তৃতীয় উইকেট হারায়। মাসাকাদজা দুটি ছক্কা আর চারটি বাউন্ডারিতে ১০৫ বলে ৫২ রান করে বিদায় নেন। ৪৮তম ওভারে নিজের অভিষেক উইকেট তুলে নেন নাজমুল ইসলাম অপু। ৫২ বলে ১৯ রান করা সিকান্দার রাজাকে সরাসরি বোল্ড করেন এই স্পিনার। দলীয় ১২৯ রানের মাথায় সফরকারীরা চতুর্থ উইকেট হারায়। এরপর জিম্বাবুয়েকে চেপে ধরে টাইগাররা। টানা ৬ ওভার মেডেন পান নাজমুল অপু এবং মেহেদি মিরাজ। দ্বিতীয় সেশন শেষে ৬২ ওভারে জিম্বাবুয়ের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৪৯/৪। এরপর জুটি গড়েন শেন উইলিয়ামস এবং পিটার মুর। ইনিংসের ৭৭তম ওভারে উইলিয়ামসকে ফিরিয়ে দেন বাংলাদেশের দলপতি মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। মিরাজের হাতে ধরা পড়ার আগে উইলিয়ামস ১৭৩ বলে ৯টি বাউন্ডারিতে করেন ৮৮ রান। দলীয় ২০১ রানের মাথায় জিম্বাবুয়ে পঞ্চম উইকেট হারায়। দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশনে আঘাত হানেন তাইজুল। ফিরিয়ে দেন ২৮ রান করা রেগিস চাকাভাকে। দলীয় ২৬১ রানের মাথায় সফরকারীরা ষষ্ঠ উইকেট হারায়। দলীয় ২৬৯ রানের মাথায় সপ্তম উইকেট হারায় জিম্বাবুয়ে। তাইজুল এবার ফিরিয়ে দেন ব্যক্তিগত ৪ রান করা ওয়েলিংটন মাসাকাদজাকে। উইকেটের পেছনে মুশফিকের গ্লাভসবন্দি হন তিনি। এরপর শিকারে যোগ দেন নাজমুল অপু। ৩ রান করা ব্রেন্ডন মাভুতাকে এলবির ফাঁদে ফেলেন তিনি। টেস্ট ক্যারিয়ারে চতুর্থবারের মতো পাঁচ উইকেট তুলে নিতে এরপর তাইজুল ফিরিয়ে দেন কাইল জারভিসকে (৪)। পরের বলেই তাইজুল ফিরিয়ে দেন তেন্দাই চাতারাকে। পিটার মুর ৬৩ রান করে অপরাজিত থাকেন। দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশন শেষ হওয়ার কিছু আগেই জিম্বাবুয়ে অলআউট হয় ২৮২ রান তুলে।