প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

অবশেষে জাতীয় গ্রীডে যুক্ত হচ্ছে এলএনজি পাইপলাইন

শাহীন চৌধুরী: অবশেষে জাতীয় গ্রীডে যুক্ত হয়েছে বহুল আলোচিত এলএনজি পাইপ লাইন। পরপর দুই দফা ব্যর্থতার পর তৃতীয় দফায় কর্ণফুলী নদী অতিক্রমে (রিভার ক্রসিং) সফল হয়েছে গ্যাস সঞ্চলন কোম্পানি জিটিসিএল। এই নদী অতিক্রম করে পাইপলাইনটি এক প্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্তে নেওয়া হয়েছে। জাতীয় গ্রিডে এলএনজি আনতে গত ২৫ অক্টোবর রাতে পাইপলাইনটির নদী অতিক্রমের কাজ শেষ হয়। এরপর থেকে শুরু হয় দুই পাশের পাইপলাইনের সঙ্গে জোড়া লাগানোর কাজ। আগামী ১০ নভেম্বরের মধ্যে এই জোড়া লাগানোর কাজ শেষ হবে বলে জানিয়েছে গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি লিমিটেড (জিটিসিএল) সূত্র।

চট্টগ্রামের আনোয়ারা থেকে ফৌজদারহাট পর্যন্ত ৩০ কিলোমিটার পাইপলাইনের কাজ এরই মধ্যে শেষ হলেও রিভার ক্রসিং করতে না পারায় জাতীয় গ্রিডে আসতে পারছিল না এলএনজি। ঠিকাদার কোম্পানি জিপসাম-গ্যাসলিন এর আগে দুই বার পাইপলাইনের কাজ করতে গিয়ে পানির উচ্চচাপের কারণে খনন কাজ করতে ব্যর্থ হয়। এজন্য এলএনজি সরবরাহও পিছিয়ে যায়। এই প্রসঙ্গে আনোয়ারা-ফৌজদারহাট প্রকল্প পরিচালক সুশীল কুমার সরকার বলেন, পাইপলাইনটি নির্মাণের সবচেয়ে জটিল কাজ ছিল নদী অতিক্রম, যা এখন শেষ হয়েছে।

সুশীল কুমার সরকার আরও বলেন, গত ২৮ অক্টোবর থেকে দুই পাশের পাইপ লাইনের হুকিং (জোড়া দেওয়া) কাজ শুরু করা হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, সব মিলিয়ে ১০ নভেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ হবে। এরপর এলএনজি সরবরাহের সিদ্ধান্ত নেবে রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি (আরপিজিসিএল)।

সূত্র জানায়, গত বছরের ১১ সেপ্টেম্বর ভারতীয় কোম্পানি জিপসাম ও বাংলাদেশি কোম্পানি গ্যাসমেন যৌথভাবে এ কাজের ঠিকাদার হিসেবে গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি লিমিটেডের (জিটিসিএল) সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়। এরপর গত ৩০ মার্চ পরীক্ষামূলক খননকাজ শুরু করে। কিছুটা কাজ হওয়ার পর খননযন্ত্র (ড্রিলিং রিগ) ভেঙে ড্রিলিং রডসহ কিছু যন্ত্রপাতি আটকে যায়। এরপর ওই জায়গা থেকে আরও দুই মিটার সরে এসে নতুনভাবে গত ২১ মে খননকাজ শুরু করা হয়। সেখানেও যন্ত্রপাতি আটকে যায়। এখন আবার নতুন করে কাজ শুরু করে শেষ পর্যায়ে নিয়ে আসা হয়েছে।

নির্মানকারী কোম্পানি জিপসামের একজন কর্মকর্তা জানান, তৃতীয় দফায় কাজের আগে তারা বেশ কিছু আগাম প্রস্তুতি নিয়েছেন। জোয়ার-ভাটা হিসাব করে সময় ঠিক করা হয়েছে। এছাড়া এই কাজের সহযোগিতার জন্য গত ২৩ সেপ্টেম্বর ইউরোপ থেকে পরামর্শক এসেছেন বলেও তিনি জানান। এর ফলে এবার আর সমস্যায় পড়তে হয়নি।

গত ২৪ এপ্রিল এক্সিলারেট এনার্জি এলএনজির ভাসমান টার্মিনালটি কাতার থেকে বাংলাদেশে নিয়ে আসে। এরপর গত ১৮ আগস্ট প্রথমবারের মতো এলএনজি সরবরাহ শুরু করা হয়। তবে, পাইপলাইনের কাজ শেষ না হওয়ায় এখন পর্যন্ত শুধু চট্টগ্রামে এই গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে।

সরকারের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী কাতারের রাসগ্যাস এলএনজি সরবরাহ করবে। প্রতিদিন ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট করে এলএনজি সংগ্রহ করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে জ্বালানি বিভাগ। এক্সিলারেট ছাড়াও আগামী বছরের মাঝামাঝিতে সামিট গ্রুপের এলএনজি টার্মিনালটি আসার কথা রয়েছে। এতে সরবরাহ আরও বাড়বে। কাতার ছাড়াও ওমানের সঙ্গে এলএনজি সরবরাহ চুক্তি করেছে সরকার। এর বাইরে আরও ২৬টি কোম্পানির কাছ থেকে স্পট মার্কেটিং ভিত্তিতে এলএনজি কেনার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

এখন প্রতিদিন গ্যাসের চাহিদা রয়েছে প্রায় চার হাজার মিলিয়ন ঘনফুট। এর বিপরীতে সরবরাহ করা হয় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। প্রতিদিন প্রায় এক হাজার থেকে এক হাজার ২০০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজির সংকট রয়েছে। এলএনজি দিয়ে পর্যায়ক্রমে এই সংকট মোকাবেলা করা হবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত