প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ইসলাম নিয়ে হানাহানিতে লাভবান হয় অস্ত্র ব্যবসায়ীরা: প্রধানমন্ত্রী

আবুল বাশার নুরু/সমীরণ রায়: আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ইসলাম শান্তির ধর্ম, ভ্রাতৃত্বের ধর্ম, অসাম্প্রদায়িকতার ধর্ম। ইসলাম সন্ত্রাসে বিশ্বাস করে না। কিন্তু ইসলাম ধর্ম নিয়ে নিজেদের মধ্যে হানাহানি হয়। এতে লাভবান হয় অস্ত্র ব্যববসায়ীরা।

রোববার রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে কওমি মাদরাসাগুলোর ছয় বোর্ডের সমন্বিত সংস্থা আল-হাইয়াতুল উলয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়্যাহ বাংলাদেশ আয়োজিত শোকরানা মাহফিলে তিনি বলেন, ইসলাম সন্ত্রাসে বিশ্বাস করে না। যারা সন্ত্রাস, তাদের কোনো ধর্ম, সমাজ ও দেশ নেই। বাংলাদেশ হবে বিশ্বের মধ্যে শান্তির দেশ। বাংলাদেশ হবে বিশ্বের উন্নত দেশ। এখানে সন্ত্রাস, মাদক ও দুর্নীতিবাজদের স্থান হবে না। এ দেশ হবে শান্তির দেশ।

কওমী মাদরাসা সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, কওমি মাদরাসার শিক্ষার মধ্য দিয়ে মূলত ইসলাম শিক্ষা শুরু হয়। ইসলাম শান্তির ধর্ম। এই ধর্ম যারা শিক্ষা দেন, তারা কেন অবহেলিত থাকবেন। যারা এতিম ও হতদরিদ্রদের আশ্রয় দেন। সেখানে আপনাদের স্বীকৃতি দেবো না তা হতে পারে না। লাখ লাখ ছেলে-মেয়েরা এখানে লেখা পড়া করে। তাদের কেন স্বীকৃতি দেবো না। এরা যাবে কোথায়? তাই মাস্টার্স ডিগ্রির সনদের স্বীকৃতি দিয়েছি। এমনকি এটি সংসদে পাশ করা হয়েছে, কারণ আগামীতে যদি আমার না থাকি, অন্য কেউ আসে, তারাতো স্বীকৃতি নাও দিতে পারে। আমি চাই শিক্ষার্থীরা যেন পাশ করে দেশে-বিদেশে কাজ করতে পারে।
তিনি বলেন, জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান ইসলামী ফাউন্ডেশন করে দিয়ে গেছেন। যাতে ইসলাম ধর্ম প্রচার হয়। বাংলাদেশ ইসলামী সম্মেলন ওআইসির সদস্য হয়েছে জাতির পিতার আমলেই। তিনি জাহাজ ক্রয় করে হাজীদের হজ্জে পাঠিয়েছিলেন। আমরা ইমাম মোয়াজ্জিনদের জন্য কল্যাণ ট্রাস্ট করে দিয়েছি। তারা যেন ভাতা পান। মসজিদে শিশু শিক্ষার ব্যবস্থা করেছি। একই সঙ্গে যারা শিক্ষা দেবেন, তাদের জন্যও ভাতার ব্যবস্থা করে দিয়েছি। এখন ৮০ হাজার আলেম একরামরা ভাতা পান। ইসলামী সংস্কৃতি যেন মানুষ পায়, সেই জন্য আধুনিক মসজিদ নির্মান করেছি। আমি সৌদির বাদশার আমন্ত্রণে গিয়েছিলাম। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, মসজিদ নির্মানে সহযোগিতা করবেন। বায়তুল মোকাররম মসজিদের উন্নয়ন কাজ করেছি। আরবি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় করে দিয়েছি।

সোস্যাল মিডিয়া সম্পর্কে তিনি আরও বলেন, সোস্যাল মিডিয়ায় অনেকে অপপ্রচার করে। কেউ যদি অপপ্রচার করে তাকে গ্রেফতার করে বিচার করা হবে। আমরা আইন নিজের হাতে তুলে নেবো না। দেশের শান্তি বিঘিœত হোক আমরা চাই না।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সামনে নির্বাচন আমার ও পরিবারের জন্য দোয়া করবেন। আমি যেন জনগণের জন্য সেবা করতে পারি। প্রতিটি মানুষ যেন সুন্দরভাবে বাচতে পারে। আমি চাই দেশের প্রত্যেকটা মানুষ চিকিৎসা, শিক্ষা, বাসস্থানসহ মৌলিক অধিকার পায়। তাই আমি মানুষের কল্যাণে প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছি। বাংলাদেশের একটা মানুষও গরীব থাকবে না। আমরা চাই দেশ এগিয়ে যাবে। বাংলাদেশে কোনো ভিক্ষুক থাকবে না। যারা কাজ করতে পারে না, তাদের জন্য ভাতার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট সম্পর্কে বলতে গিয়ে আবেগ আপ্লুত হয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমি নিঃস্ব, আমি রিক্ত। আমি সব হারিয়েছি। আমার হারাবার কিছু নেই। ১৫ আগস্ট আমি বিদেশে ছিলাম। ওইদিন জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান, মা, ভাই, চাচাসহ সপরিবারে হত্যা করা হয়। আমি যখন বাংলাদেশে ফিরে আসি, তখন কোথায় থাকব। কি খাব কোনো কিছুই ছিল না। কিন্তু আমি আল্লাহর ওপর ভরসা রেখেছি। আমি আল্লাহকে ছাড়া কারো কাছে মাথানত করি না। আল্লাহকে ছাড়া কাউকে ভয় পাই না। আমি কেন যেন বার বার বেচে যাই। আল্লাহর কাছে এইটুকু চাই, যাতে মান সম্মান নিয়ে যেতে পারি।

হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা আহমেদ শফির সভাপতিত্বে শোকরানা মাহফিলে আরও বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক শেখ আব্দুল্লাহ, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস, মাওলানা নুরুল ইসলাম প্রমুখ।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত