প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আসিয়া বিবির স্বামী রাজনৈতিক আশ্রয় চায়

ডেস্ক রিপোর্ট : পাকিস্তানে ব্লাসফেমি অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড থেকে মুক্তি পাওয়া খ্রিস্টান নারী আসিয়া বিবির স্বামী রাজনৈতিক আশ্রয়ের জন্য ব্রিটেন, যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডায় আবেদন করেছেন। আসিয়া বিবি ১০ বছর কারাগারে ছিলেন। ব্লাসফেমির অভিযোগে আসিয়া বিবিকে যে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছিল সেখানে থেকে তাকে মুক্তি দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। মুক্তির পর  আসিয়া বিবির স্বামী আশিক মাসিহ বলেছেন তারা পাকিস্তানে চরম বিপদের মধ্যে বসবাস করছেন।

আসিয়া বিবির প্রকৃত নাম আসিয়া নরিন। কিন্তু তিনি আসিয়া বিবি হিসেবে পরিচিত।

২০১০ সালে প্রতিবেশীর সাথে বাক-বিতণ্ডার সময় আসিয়া বিবি ইসলামের নবী মোহাম্মদকে অপমান করেছেন বলে অভিযোগ উঠে। এরপর আদালত তাকে সাজা দেয়।

বিবিসির খবরে বলা হয়, আদালত আসিয়া বিবিকে মুক্তি দেওয়ার পর তীব্র প্রতিক্রিয়া হয়েছে। আদালতের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে রাস্তায় সহিংস বিক্ষোভ হয়েছে। তাই আসিয়ার দেশ ত্যাগের উপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে সরকার।

এর মধ্যে গত শনিবার আসিয়া বিবির আইনজীবী সাইফ মুলুক প্রাণের ভয়ে পাকিস্তান ছেড়ে পালিয়ে গেছেন।

ঘটনার সময় আসিয়া বিবি এবং তার প্রতিবেশীরা গাছ থেকে ফল পাড়ছিলেন। তখন এক বালতি পানি নিয়ে ঝগড়া শুরু হয়। আসিয়া একটি কাপে করে ঐ বালতির পানি খেয়েছিলেন। তখন অন্য মহিলারা বলেন, যেহেতু আসিয়া অমুসলিম, তার স্পর্শ করা ঐ পানি তারা খেতে পারবেন না, কারণ ঐ পানি এখন নোংরা হয়ে গেছে।

মামলায় বাদীপক্ষ অভিযোগ করেছিল, এ নিয়ে ঝগড়া শুরু হওয়ার পর গ্রামের মহিলারা আসিয়াকে ধর্মান্তরিত হয়ে মুসলমান হতে বলেন।

অভিযোগকারীরা বলেন, সে সময় আসিয়া বিবি ইসলামের মহানবীকে অবমাননা করার কথা স্বীকার করেন। বিষয়টি নিয়ে পুলিশের তদন্তের পর তাকে গ্রেফতার করা হয়।

সুপ্রিম কোর্ট বলেছে, আসিয়া বিবির বিরুদ্ধে মামলাটিতে বিশ্বাসযোগ্য কোন প্রমাণ হাজির করা হয়নি।

জনসম্মুখে আসিয়া বিবিকে হত্যার হুমকি দেবার পর তিনি দোষ স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছেন বলে আদালত উল্লেখ করেছে।

সুপ্রিম কোর্টের তিন সদস্য বিশিষ্ট বেঞ্চ আসিয়া বিবিকে খালাস দিয়েছে।

পাকিস্তানের জাতীয় ধর্ম হলো ইসলাম। ইসলাম ধর্ম অবমাননার জন্য কঠোর আইনের পক্ষে পাকিস্তানে জোরালো জনমত রয়েছে।

এর মধ্যে বেশ কয়েকটি দেশ আসিয়া বিবিকে আশ্রয় দেওয়ার জন্য প্রস্তাব করেছে।

আসিয়ার স্বামীর বক্তব্য

এক ভিডিও বার্তায় আসিয়া বিবির স্বামী বলেছেন, ‘আমি ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ করছি যে তিনি যেনো আমাদের সহায়তা করেন।’

এর আগে জার্মান সংবাদ মাধ্যম ডয়েচে ভেলেকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি তার পরিবারের সদস্যদের জীবন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন।

এদিকে পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী বলেছেন, আসিয়া বিবিকে রক্ষার জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘একটা পরিস্থিতির তৈরি হয়েছে এবং আমরা সেটি মোকাবেলা করছি। আমি নিশ্চয়তা দিতে চাই যে তার জীবন ঝুঁকিতে নেই।

সর্বাধিক পঠিত