প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সংলাপ, ট্র্যাপ? না সম্ভাবনা?

যায়নুদ্দিন সানী: টক অফ দ্যা টাউন ইজ ‘সংলাপ’। কেন? সেটাই মজার। সংলাপ হচ্ছে, বরফ গলছে, এমন কোন কারণে সংলাপ আলোচনায় নেই। ‘সংলাপে গিয়ে বিএনপি ভুল করল কি না?’ কিংবা ‘জলিল-মান্নান গল্পের পুনরাবৃত্তি কি না?’ এমন সব স্পেকুলেশানই বেশি। ‘সংলাপ থেকে কোন সমাধান আসবে না’ এব্যাপারে কমবেশি সবাই নিশ্চিত। সবাই আসলে পপকর্ন সাথে নিয়ে বসে আছে, ‘দেখি কি হয়?’ মুডে। আরও একটা আলোচনা গজাচ্ছে। এরপরে কি হবে? সংলাপ ফেল করার পরে কি হবে? সব রাগ কার উপরে গিয়ে পড়বে? ফখরুল সাহেবের কি হবে? কিংবা কামাল হোসেন সাহেবের সাথে কি আচরণ করবে তখন বিএনপি? কিংবা বিএনপির যে গ্রুপটা সংলাপের বিপক্ষে, তাঁদের কি প্রমোশান হবে? সংলাপ নিয়ে আমার টোনটা নেগেটিভ। আই এগ্রি। তবে সংলাপ হবে, খবরটা প্রথম যেদিন এসেছিল, সেদিন অবাক হয়েছিলাম। এক্সাইটমেন্ট ছিলো। তবে সন্দেহও ছিল। এরপরে, স্পেশালি যুক্তফ্রন্ট, জাতীয় পার্টি আর বামরাও এন্ট্রি নিতে শুরু করে, তখন সংলাপ বেশ হাস্যকর চেহারা নেয়। ব্যাপারটা যত না সিরিয়াস থাকে, তারচেয়ে অনেক বেশি ফর্মালিটি হয়ে যায়। তারপরও, আর সব বাঙ্গালীর মত, আমিও সংলাপ ফলো করছি। প্রেডিকশান করছি। অ্যান্ড, মোস্ট ইম্পর্ট্যান্টলি, স্ট্যাটাস ঝাড়ছি আর কলাম লিখছি। শুধু আমি না, কমবেশি সবাই করছে। আর ‘সংলাপ’ নিয়ে এই মুহূর্তে ফেসবুকে যত আলোচনা তার বেশিরভাগই, ‘কেমনে বিএনপি ধরা খাইলো’ টাইপ। ‘ঐক্য গ্রুপের বিভিন্ন নেতাদের বক্তব্যে মিল নেই’। উদাহরণ ঘুরছে ফেসবুকে। কেউ বলছেন, ‘ভাল হয়েছে’ কেউ বলছেন ‘সন্তুষ্ট না’ কেউ ‘আরও আলোচনা করতে চান’। ছবিসহ কিংবা বিভিন্ন পত্রিকার অনলাইন ভারসানের লিঙ্কে ফেসবুক ভাসাচ্ছেন। স্পেশালি আওয়ামী গ্রুপ। ঐক্য গ্রুপে দুটো সাব গ্রুপ আছে। একদল এখনও আশাবাদী। শুধু আশাবাদী না, বিভিন্ন স্টেটমেন্টের চুলচেরা বিশ্লেষণ করে দেখিয়ে দিচ্ছেন, আওয়ামীদের পরাজয় এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। অন্যগ্রুপ হচ্ছে নাখোশ গ্রুপ। ‘সংলাপ মানেই সময় নষ্ট। চাই আন্দোলন’। কেউ কেউ লেগেছেন মিডিয়ার পেছনে। ‘শালাদের সরকারের দালালি করার স্বভাব গেল না’। একজন ফেসবুকার দেখলাম, বিভিন্ন পত্রিকার দলীয় পদলেহন নিয়ে কথা বলেছেন। সংলাপ নিয়ে রিপোর্ট করতে গিয়ে এমনভাবে করেছেন, যেন মনে হয়, প্রধানমন্ত্রীর বিচক্ষণতার কাছে ঐক্য দাঁড়াতেই পারেনি। এনিওয়ে, পুরো মিডিয়াই দেখলাম, সংলাপের ফেভারে। স্পেশালি আওয়ামী সিম্প্যাথাইজাররা। যথারীতি গলা ছেড়ে উৎসাহ দিয়েছেন।

সংলাপ যে ব্যর্থ হবে, সেটা মোটামুটি নিশ্চিত। সেটা কবে নাগাদ হবে, আর এরপরে বিএনপি কি করবে, সেটাই দেখার ব্যাপার। আমার নেগেটিভ মতামতের পেছনে যুক্তি একটাই। প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করবেন না। আর উনাকে স্বপদে রেখে নির্বাচনে বিএনপি যাবে না। প্রশ্ন হচ্ছে, এর কমে কি কেউ মানবে? সংলাপে আসলে এই খেলাটাই চলছে। একজনকে ছাড় দিতে হবে। আর যে ছাড় দেবে, নির্বাচনে সে হারবে। অপটিমিস্টিক হতে চান? ওকে, তাহলে খুঁজতে হবে, দুদলের বটম লাইন কি? মাঝামাঝি অবস্থান কি এমন হতে পারে যেখানে দুদল এগ্রি করবে? পনের দলের ছোট মন্ত্রী সভা? সব দল থেকে চাঁদা তোলা হবে টাইপ? তত্ত্বাবধায়ক সরকার যেভাবে চলতো? যে প্রস্তাব ২০১৪তে পেয়েছিল এবং রিজেক্ট করেছিল বিএনপি? হতে পারে। এই মুহূর্তে বিএনপির যা অবস্থা, স্বরাষ্ট্রসহ আরও দু’তিনটে পদ পেলে রাজী হতে পারে। বাট মূল প্রশ্ন থেকে যাবে, সেই সরকারের লিডে কে থাকবে? শেখ হাসিনা? না অন্য কেউ? প্যাঁচটা সেখানেই। ওখানে বিএনপি ছাড় দেবে কি না?

সংলাপ এই মুহূর্তে বেশ তাত্ত্বিক লেভেলে আছে। ‘কিভাবে নিরপেক্ষ নির্বাচন করা যায়’ নিয়ে তত্ত্ব কথা। এই নিয়ে আলাপ একবার শুরু হলে, সেই আলাপ থামবার নাম নেবে না। নির্বাচন কমিশন নির্বাচন করবে, সরকারের কোন এখতিয়ার নাই, ব্লা ব্লা ব্লা। এসব বলে সময় কাটানো হচ্ছে। আর শিডিউল ঘোষণা হয়ে গেলে, সময় নির্দিষ্ট হয়ে যাবে। সো, কালক্ষেপণ আওয়ামীদের ফেভারেই যাবে। ঐক্য আসলে বেশ বেকায়দায় আছে। সংলাপে না গেলে যে সমস্যায় পড়ত, তা হচ্ছে, তাঁদের গায়ে উগ্রতার লেবেল লেগে যেত। ‘এঁরা আলোচনায় বিশ্বাসী না’। আর গেলে যে সমস্যায় পড়বে, তা হচ্ছে, তাঁদের বেশিরভাগ দাবীই অফিশিয়ালি বলার মত না। একজন সাজাপ্রাপ্ত আসামীকে মুক্তি দিতে হবে, এই দাবী মাঠে ঘাটে করা যায়। বাট আলোচনার টেবিলে পারা যায়? তাহলে তো বলতে হবে ‘আদালতকে নির্দেশ দেন, তাকে বেকসুর খালাস করে দিতে’। সেটা অফিসিয়ালি বলা সম্ভব না। আদালতের উপরে নাখোশ হতে পারেন, আস্থা নাও রাখতে পারেন, বাট অফিশিয়ালি সেটা বলতে তো পারবেন না। অবমাননায় পড়ে যাবেন। আর এখানে বিএনপি বেশ চিপায় আছে। ‘সভা সমাবেশ করতে দেয়া হবে’, এটা অবশ্য ওয়ান টাইপ অফ উইন। কারণ এটায় আওয়ামীরা স্বীকার করে নিলো, আগে সভা সমাবেশ করতে দিচ্ছিল না। তবে এটা হাইলাইট করতে কাউকে দেখলাম না। মিডিয়া করবে না, জানা ছিল। বাট জাতীয়তাবাদী ফেসবুকাররা? এদের স্ট্যাটাস কিংবা সেই স্ট্যাটাসের প্রোপাগান্ডা করা গ্রুপ? কাউকেই দেখলাম না ব্যাপারটা পিক করতে। গায়েবি মামলার ব্যাপারটাও দেখলাম না, কেউ হাইলাইট করছে। এঁরা এখনও আছে, ‘সংলাপে গিয়ে ঠিক করল না ভুল’ এই অ্যানালাইসিসে।

সংলাপ নিয়ে অনেক হলো। এখন এগোই। প্রশ্ন হচ্ছে, হোয়াট ইজ নেক্সট? দ্বিতীয় রাউন্ড। সেখানে কি হবে? পদত্যাগ তো আসছে না। তাহলে? নির্বাচনে যাবে বিএনপি? কিংবা মিনিমাম কি হলে বিএনপি আশ্বস্ত হবে নির্বাচন নিরপেক্ষ হবে। এই ব্যাপারে সুস্পষ্ট বক্তব্য বিএনপি এখনও দিচ্ছে না। এই প্রধানমন্ত্রী এবং এই ইলেকশান কমিশনার রেখে হওয়া নির্বাচনে বিএনপি বা ঐক্যের সম্মতি আছে? এমন নির্বাচনে যাবে? প্রশ্ন তো একটাই। বাকি সব তো ডালপালা।

ওসব মানলেই কি, আর না মানলেই কি? সেখানেই কাহিনী। এসব সভা সমাবেশের অনুমতি আর গায়েবি মামলা থেকে অব্যাহতি নিয়েই কি খুশি থাকবে বিএনপি? কিংবা আর কোন উপায় নাই দেখে, নির্বাচনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেবে? পরিস্থিতি এখনও পরিষ্কার না। সো, সংলাপকে এই মুহূর্তে কোন লেবেল দেয়া যাচ্ছে না। ইট মে বি অ্যা ট্র্যাপ ফর বিএনপি। অর মে বি অ্যা সলিউশান ফর ইলেকশান। সম্পাদনা : রেজাউল আহসান