প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সংলাপে আওয়ামী লীগ জয়ী ঐক্যফ্রন্টের দাবির যোগফল কী?

রোবায়েত ফেরদৌস : সংলাপ শুরু করার মধ্যদিয়ে সরকার তথা আওয়ামী লীগ গেইন করলো। সবাই ধারণা করছিলেন, সরকার বা আওয়ামী লীগ বিরোধীদলগুলোর সঙ্গে সংলাপে বসবে না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও বলেছিলেন, সংলাপের দরজা বন্ধ হয়ে গেছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ছেলে কোকো মারা যাওয়ার পর সমবেদনা জানাতে গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, কিন্তু তাকে ঢুকতে দেওয়া হলো না বা দেখা করতে দেওয়া হলো না বিএনপি নেত্রীর সঙ্গে। সংলাপ দাবির আলোচনায় বলা হলো, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় তারেক রহমান সাজা পেয়েছেন। এ ঘটনার সঙ্গে বিএনপির ওপর লেভেলেরও অনেকেই জড়িত ছিলেন। বঙ্গবন্ধু হত্যার সঙ্গে জিয়াউর রহমান থেকে শুরু করে আরও অনেকেই জড়িত, এমন অভিযোগও আছে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে। টকশো এবং বিভিন্ন জায়গায় আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বলেছেন, বিএনপি আওয়ামী লীগকে ধ্বংস করতে চায়। ২১ আগস্টের মতো গ্রেনেড হামলা করে শেখ হাসিনাকে হত্যা করতে চায়। খালেদা জিয়ার ছেলে কোকোর মৃত্যুর পর সান্ত¡না দিতে গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী, তাকে দেখা করতে দেওয়া হয়নি। তাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা-সংলাপ চলে না।

এরকম একটি পরিস্থিতিতে সবারই একটি বদ্ধমূল ধারণা ছিলো, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংলাপ আসলে আর হবে না। তাহলে কী হবে? সবাই বলেছেন, রাজপথে সংকটের সমাধান হবে। রাজপথের সংগ্রামের মধ্যদিয়ে যদি জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট তাদের সাত দফা আদায় করতে পারবে বা করবে। তা না হলে হবে না। আলোচনা-সমঝোতা করে খুব বেশি কিছু হবে না। কিন্তু হঠাৎ করে ঐক্যফ্রন্টের নেতা ড. কামাল হোসেন প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি লিখলেন। প্রায় সঙ্গে সঙ্গে, চট করে প্রধানমন্ত্রী আলোচনায় রাজি হয়ে গেলেন। সংলাপ শুরু করার মধ্যদিয়ে আওয়ামী লীগ একধরনের দূরদর্শিতার পরিচয় দিয়েছে। পুরো জিনিসটি এখন সরকারের কোর্টে চলে গেছে। আমার মনে হয়, সরকার এখানে জিতে গেছে!

এই সংলাপ ফলপ্রসূ হবে বলে মনে হয় না। কোনো ফলাফলও বয়ে আনবে না। কিন্তু এই যে সংলাপ শুরু হলো তা দেশের মানুষ, গণমাধ্যম ও বিদেশি কূটনীতিকদের কাছে আওয়ামী লীগ একটি ভালো বার্তা দিতে পারলো যে, ইয়েস! আমরা যে গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল তা আবারও দেখালাম। যেকোনো গণতান্ত্রিক সরকারের দায়িত্ব আলোচনার মধ্যদিয়ে সমস্ত কিছুর সমাধান করা। এটা গণতান্ত্রিক সরকারগুলোর মূল বৈশিষ্ট্য। যতোরকমের বিবাদ, গণ্ড গোল বা মারামারি হোক শেষ বিচারে আলোচনার টেবিলেই সমাধান করতে হয়। আলোচনায় বসতে হয়। অনেক পরে হলেও আওয়ামী লীগ গণতান্ত্রিক দলের পরিচয়টা দিতে পেরেছে। ঐক্যফ্রন্টের পর যুক্তফ্রন্ট আলোচনায় গেছে, এরপর বামফ্রন্ট যাবে। আমার মনে হয় সবার সঙ্গেই আলোচনা হবে। কিন্তু ফলাফল শূন্যই থাকবে। আওয়ামী লীগ সবার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনে যাবে, কিন্তু বাস্তবায়ন হবে না।

কোনো দাবি আদায় আর প্রাপ্তি এক নয়। রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের মধ্যে কথা বলা বন্ধ ছিলো, মুখ দেখাদেখি হতো না। অন্তত এতোটুকু হয়েছে সংলাপের মধ্যদিয়ে। তারা কাছাকাছি এসেছেন। কথা বলেছেন। একসঙ্গে চা-কফি পান করেছেন। মতবিনিময় করেছেন। এই মতবিনিময়ে খুব বেশি উত্তেজনাও ছিলো না। একজন আরকজনকে দেখে নেবো, এরকম কোনো বাক্যও বিনিময় হয়নি। খুব শান্তিপূর্ণভাবে, ঠান্ডা মাথায় চৌদ্দদলীয় জোট ও ঐক্যফ্রন্ট সংলাপটা করতে পেরেছে। এই ক্রেডিট অবশ্য সরকারি দলের। তারা মাথা ঠান্ডা রেখেছিলো। খুব ঠান্ডা মাথায় বিরোধীদের বক্তব্যগুলো শোনা হয়েছে।

অনেকসময় সমস্যাগুলো শুনলেই মানুষ অনেকখানি হালকা হয়ে যায়। ড. কামাল হোসেন ও ফখরুল ইসলাম আলমগীর নিজেদের কথাগুলো বলতে পেরেই অনেক হালকা হয়ে গেছেন। এটাই তাদেও সান্তনা। যতো বিরোধীই হোক একসঙ্গে বসা যে যায়, আলোচনাও করা যায় এটা আমাদের জন্য বড় একটা সফলতা।

লেখক : সহযোগী অধ্যাপক, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, ঢাবি.

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ