প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

লেটস হ্যাভ এ পার্টি, ইন্সটেড এ ডায়ালগ!

মোহাম্মদ আলী বোখারী, টরন্টো থেকে : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে কাঠ-খড় পোড়ানো ঐক্যজোটের সংলাপটি যে ‘সমাধানহীন’ হয়েছে, তা দলনেতা ড. কামাল হোসেনের বক্তব্য থেকে পরিস্ফুট। একই সঙ্গে এই সংলাপ আয়োজনে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ বা কৌশল বহুবিধ প্রশ্নের স্ফুরণ ঘটিয়েছে। বিশেষত সংলাপের পরিব্যাপ্তিতে সরকারের অতি উৎসাহের পাশাপাশি সামগ্রিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় দেশের আপামর জনগোষ্ঠির ঔৎসুক্য এখন ভিন্ন দৃষ্টিসীমায় আবর্তিত। কেননা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে আপোস, নিস্পত্তি ও সমঝোতার ভিত্তিতে ‘পলিটিক্যাল ডায়ালগ’ বা রাজনৈতিক সংলাপ বলতে যা বোঝায়, তার অন্যতম লক্ষ হচ্ছে- ‘টু অ্যাচিভ প্র্যাকটিক্যাল অ্যান্ড পিসফুল সল্যুশন্স টু প্রবলেমস’, অর্থাৎ সমস্যার পরিপ্রেক্ষিতে বাস্তবসম্মত ও শান্তিপূর্ণ সমাধান অর্জন। এক্ষেত্রে স্পষ্টতই তা অনুপস্থিত বা অর্জন দুরূহ, যেহেতু আপাতদৃষ্টিতে সরকার ‘সংবিধানসম্মত’ পন্থায় স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে তা ঘটতে দেবে কেনো?

ইতোমধ্যে এই সংলাপকে ঘিরে ন্যাক্কারজনক বিষয়ের উদগীরণ ঘটেছে। সংলাপে যোগ দেয়া নাগরিক ঐক্যের আহবায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না তা দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়েছেন। পাশাপাশি গণভবনের নৈশভোজের তালিকায় জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ড. কামাল হোসেনের পছন্দের ‘চিজ কেক’ থাকা অথবা তার দলের নেতাদের ভোজনপর্ব বর্জনের ঘোষণা এবং সংলাপ চলাকালেই বিএনপি নেতাদের ফলের রস পান এবং বাদাম খাওয়ার ছবি প্রকাশিত হওয়াটা রীতিমত বিস্ময়পূর্ণ। তাই আলোচনার প্রতিপাদ্যে অংশগ্রহণকারীদের বিবৃত বক্তব্যের চেয়ে খাওয়া-দাওয়ার বিষয়টিই গুরুত্ববহ হয়েছে। একইভাবে অংশগ্রহণকারীদের অতীত দলছুট অবস্থানটিও প্রাধান্য পেয়েছে।

কার্যত ওই সংলাপের মুখ্য প্রতিপাদ্য হচ্ছে, সকলের নিরাপদ ও অংশগ্রহণমূলক একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের বিষয়ে অপরিহার্য সংস্কার নিয়ে ঐকমত্যে পৌঁছা। অথচ সেই সংলাপে সরকারের অংশীদার জাতীয় পার্টিও যৌক্তিক ব্যাখ্যা ছাড়া জড়াচ্ছে। এ সংক্রান্ত দাবি আগে থেকে থাকলে তারা সরকারে আছে কেনো? যুক্তফ্রন্টের চেয়ারম্যান ও বিকল্পধারার সভাপতি ডা. বদরুদ্দোজ্জা চৌধুরীসহ বামপন্থী জোটের সংলাপ বিষয়ক প্রস্তাবনা স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় ঘটেনি। প্রধানমন্ত্রী ড. কামালের অনুরোধে সাড়া দেবার পরই বিকল্পধারা ওই পদাঙ্ক অনুসরণ করেছে। উপরন্তু সরকারই বামপন্থীদের কাছে অনুরোধপত্র চেয়েছে। এতে কুড়িটির মতো অনুরোধ জমা পড়েছে।

ফলশ্রুতিতে এখন সেই সংলাপের ধারাবাহিকতা নাটকে পর্যবসিত। বিশ্বাস করতে কষ্ট হয়, নির্বাচনের লক্ষে সকলের নিরাপদ অংশগ্রহণকে সরকার সংলাপেই অংশগ্রহণমূলক করতে চাইছে। এক্ষেত্রে সকল দলের মতামত গ্রহণই যদি সমঝোতার ভিত্তিমূল হয়, তবে সর্বদলীয় মহাসম্মেলন আয়োজনই অতি উত্তম পন্থা ছিল। তাতে পাশ্চাত্যের জেসি মে রবিনসন রচিত এবং ওয়ান্ডা জ্যাকসনের জনপ্রিয় গানের ভাষায় বলতে হয়, ‘লেটস হ্যাভ এ পার্টি, ইন্সটেড এ ডায়ালগ!’

email: [email protected]

সম্পাদনা : সালেহ্ বিপ্লব

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত